রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৮ বছর: ফুল দিয়ে নিহতদের স্মরণ
উত্তরদক্ষিণ | শনিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২১ | আপডেট ১৩:০০
সাভারে বহুল আলোচিত রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৮ বছর উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করছেন আহত ও নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও শ্রমিক সংগঠনসমূহ। বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানা নিয়ে গড়ে ওঠা ভবনটিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় হারিয়ে যায় এক হাজার ১৩৬টি তরতাজা প্রাণ। আহত হন আরও প্রায় দেড় হাজার মানুষ।
শনিবার (২৪ এপ্রিল)দিনটি উপলক্ষে সকাল থেকেই ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্য, আহত শ্রমিকরা ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। তারা অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সেখানে নিহতদের রুহের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। পরে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, জাতীয় শ্রমিক লীগ, রানা প্লাজা গার্মেন্টস শ্রমকি ইউনিয়ন, ল্যাম্প পোস্ট, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গণমুক্তি গানের দল, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতিসহ বেশ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
প্রসঙ্গত, সাভারে রানা প্লাজার ৮ তলা ভবন ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে ধসে পড়ে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই হত্যা মামলায় ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। চার্জ গঠনের পর পাঁচ বছরেও এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণই শুরু হয়নি।
বিচারিক আদালতের চার্জ গঠনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চতর আদালতে আবেদন করে আসামিপক্ষ। আর কয়েকজন আসামির পক্ষে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকাতেই মূলত এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আইনি জটিলতায় স্থবির হয়ে আছে মামলাগুলো। কবে মামলাটির সাক্ষ্য শুরু হবে বলতে পারছে না রাষ্ট্রপক্ষ।
রানা প্লাজা ধসের পরপরই বেশ কয়েকটি মামলা হলেও মূল মামলা দুটি। এর একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে। অপরটি ইমারত বিধিমালা না মেনে ভবন তৈরির। দুই মামলায় ভবন মালিক সোহেল রানা কারাগারে থাকলে অধিকাংশ আসামি জামিনে এবং পলাতক রয়েছেন। দীর্ঘ ৮ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত মামলার বিচারে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।

