দুর্গম চরাঞ্চলে পৌছালো বিদ্যুৎ
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ২৩ মে ২০২১ | আপডেট ১৬:৪৫
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি পদ্মা নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে ফরিদপুরের দুর্গম চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌছে দিলো। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বিদ্যুৎ পেয়ে উচ্ছ্বসিত এখানকার মানুষ।
সদর, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলার চরাঞ্চলের ১০ হাজার পরিবারের মাঝে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে কাজ চলছে। মোট ১০টি ইউনিয়নে ৮৮টি গ্রামকে আলোকিত করতে বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানান ফরিদপুরের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. আবুল হাসান জানান, ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৩৭ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ কাজের ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে ইতিমধ্যে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে সদর উপজেলার ডিক্রির চরের ২০১টি পরিবার, একটি বাণিজ্যিক ও তিনটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে।
সদর উপজেলার ডিক্রির চর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিন্টু ফকির বলেন, “বর্তমান ডিজিটালের এই যুগে অন্ধকারের মধ্যে ছিল আমার এলাকার চরাঞ্চলের মানুষ। সম্প্রতি সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ লাইন টেনে প্রথম পর্যায়ে ২০১টি পরিবারকে লাইন দেওয়া হয়েছে। গ্রামের মানুষ সরকারের প্রতি অনেক খুশি।
ডিক্রির চরের নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে খুশি এখানকার এক বাসিন্দা। তিনি বলেন, “কখনও ভাবিনি পদ্মার এই চরে বিদ্যুৎ আসবে। আর সেই বিদ্যুৎ দিয়ে বাড়িতে টেলিভিশন, ফ্রিজ, ফ্যান চলবে। ছেলেমেয়েরা এখন বিদ্যুতের আলোতে লেখাপড়া করতে পারছে। এতকাল হারিকেনের আলোয় পড়ত।” কৃষকের জমিতে বিদ্যুৎ দিয়ে সেচের ব্যবস্থাও হচ্ছে।
ফরিদপুর ‘নাগরিক মঞ্চের‘ সভাপতি আওলাদ হোসেন বাবর বলেন, “সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গম চরের মানুষ ভাবতে পারেনি বৈদ্যুতিক সুবিধার কথা। তারপরও সরকারের এই উদ্যোগ ওই মানুষগুলোর কাছে স্বপ্নের মতো। তাদের মুখে হাসি ফুটেছে।”
ফরিদপুর সনাকের সভাপতি শিপ্রা গোস্বামী বলেন, “এই বিদ্যুতের ছোঁয়ায় তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে। পাশাপাশি চরের সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর জীবনমানে পরিবর্তন আসবে, যা ফরিদপুরের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
ফরিদপুর জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, “কানেকটিভিটি বা যোগাযোগের প্রসারের মাধ্যমে মানুষের উন্নয়ন ঘটে। তেমনি ফরিদপুরের পদ্মা নদীর চরাঞ্চলের মানুষের জন্য সরকার সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ায় পাল্টে যাচ্ছে তাদের জীবন চিত্র। এখন অভুতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে চরাঞ্চলে।”

