ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: সাতক্ষীরার উপকূল থমথমে পরিস্থিতি
উত্তরদক্ষিণ | বুধবার, ২৬ মে ২০২১ | আপডেট ০৯:৩০
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ ফিট উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইয়াসেরর প্রভাবে বুধবার (২৬ মে) শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানিয়েছেন, সকাল পর্যন্ত শ্যামনগর উপজেলার কোনো ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, উপকূলীয় এলাকা আশাশুনির প্রতাপনগর, শ্রীউলা, আনুলিয়া, খাজরা এবং শ্যামনগরের পদ্মপুকুর, গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, আটুলিয়া, কৈখালি, ঈশ্বরীপুর, রমজাননগর, কাশিমারিসহ সুন্দরবন লাগোয়া মুন্সিগঞ্জ হরিনগর এলাকায় মাইকিং করে জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে। তবে আবহাওয়া অধিদফতরের সতকর্তা সংকেতের ওপর নির্ভর করছে মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার বিষয়টি।
এরই মধ্যে উপকূল অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হচ্ছে। নদীগুলিতে জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার ১২টি অংশে বাঁধের ওপর দিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। স্থানীয়রা বালির বস্তা দিয়ে তা বন্ধের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধগুলি চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার বেড়িবাঁধের ৪০টি পয়েন্ট খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে খোলপেটুয়া নদীর জোয়ারের চাপে সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার নাপিতখালি, পার্শ্বেমারী ও ৩ নম্বর সোরাসহ কয়েকটি স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে পানি ওভার ফ্লো হয়ে চিংড়ি ঘের ও বসতি এলাকায় ঢুকতে থাকলে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে বালির বস্তা দিয়ে তা বন্ধের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
পূর্ণিমার ভরাকাটাল ও পূর্ণচন্দ্র গ্রহণের সময় ইয়াস আঘাত হানলে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করছেন উপকূলবাসী। এর ফলে বেড়িবাঁধগুলি ভেঙে পানিতে সয়লাব হওয়ার আশঙ্কা করছেন উপকূলের এলাকাবাসীরা।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আ ন ম আবুজর গিফারী জানান, বুধবার সকাল পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকা পদ্মপুকুর, গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী ও কৈখালির আশ্রয়কেন্দ্রে ৫/৬ মানুষ আশ্রায় নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় প্রত্যেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের অনুকূলে ২৫ হাজার টাকা প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে আনার আগাম ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা বহনযোগ্য সম্পদ নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাবার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএস মোস্তফা কামাল জানান, ১৪৫টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। এরমধ্যে শ্যামনগর উপজেলার ১০৩টি আশ্রয়কেন্দ্রের ধারণ ক্ষমতা ৭৫ হাজার।
এছাড়াও জেলায় দেড় হাজার স্কুল কলেজ মাদ্রাসাও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। কোভিড পিরিয়ডে নিরাপত্তা বজায় রেখে তাদের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

