পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ

উত্তরদক্ষিণ| শনিবার, ৫ জুন ২০২১ | আপডেট ২৩:৩০

পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘রাজনীতিবিদের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষকে ভালো অভ্যাসগুলো জানানো এবং শেখানো। সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতি আহবান জানাই, আসুন যারা পরিবেশ ধ্বংস করে, প্রকৃতির বিরুদ্ধে কাজ করে, প্রকৃতিকে ধ্বংস করে তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াই।’

শনিবার (৫ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপন কর্মসুচির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মানুষের টিকে থাকার জন্য এই পৃথিবী দরকার, কিন্তু পৃথিবীর টিকে থাকার জন্য মানুষের দরকার নাই। পৃথিবীতে বহু প্রাণী এসেছে, বিলুপ্ত হয়ে গেছে, কিন্তু পৃথিবী টিকে আছে। মানুষও যদি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়, তাহলে পৃথিবীর কিছু যায় আসে না। যেভাবে আমরা পরিবেশ প্রকৃতিকে ধ্বংস করছি প্রকারান্তরে আমরা আমাদের অস্তিত্বকেই ধ্বংস করছি, এটিই হচ্ছে বাস্তব সত্য। সুতরাং আমাদের নিজের প্রয়োজনেই পরিবেশ-প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের দুই কোটি মানুষ এবং চট্টগ্রাম শহরের প্রায় আশি লাখ মানুষ যদি মনে করে আমি যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলব, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সেটি পরিস্কার করবে। তাহলে সেই শহর কখনো পরিস্কার রাখা সম্ভব হবে না। সেজন্য পরিবেশ বিজ্ঞানের একজন ছাত্র ও পরিবেশ কর্মী হিসেবে সবার প্রতি বিনীত নিবেদন জানাই, প্রত্যেকেই যেন তিনটি করে গাছ লাগাই। এটি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার শ্লোগান। একই সাথে নিজের প্রয়োজনে পরিবেশ-প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করি, তাহলেই মানুষ এই পৃথিবীতে টিকে থাকবে।’

গত ১২ বছরে বৃক্ষ আচ্ছাদিত ভূমির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন,‘ যেখানে এক সময় বনাঞ্চলের পরিমাণ ৮ শতাংশের নিচে নেমে এসেছিল, সেটি এখন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। রাস্তার ধারের বনায়ন নষ্ট হয় না, জনগণই পাহাড়া দেয়। কারণ এই সামাজিক বনায়নের মালিকানা রাস্তার পাশের মানুষের আছে। এটি প্রবর্তন করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্ব এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করে নানা ধরণের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করার কারণে এটি সম্ভবপর হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক বলেন, পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে সাড়ে চারশ’ কোটি বছর আগে। বিজ্ঞান বলছে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব দেখা দিয়েছে দুইশ’ ৭০ কোটি বছর আগে। পৃথিবীতে প্রথম দফায় প্রাণের আবির্ভাব হবার পর কয়েক কোটি বছর প্রাণ টিকেছিল। কিন্তু এরপর বেশিরভাগ প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যায়। এটির মূল কারণ হচ্ছে, সেই সময় যে সমস্ত প্রাণীর উদ্ভব ঘটেছিল পরবর্তীতে প্রকৃতিতে পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে সেই প্রাণীগুলোর আর টিকে থাকা সম্ভব হয়নি।

দ্বিতীয় দফায় পৃথিবীতে আবার প্রাণের আবির্ভাব ঘটে প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, তখনই পৃথিবীতে ডাইনোসরের আবির্ভাব ঘটে। পৃথিবীতে এত বড় আকৃতির প্রাণী কখনো ছিল না। আজ থেকে সাড়ে ৬ শ কোটি বছর আগে ডাইনোসরসহ সে সময়ের যে প্রাণের আবির্ভাব ঘটেছিল বেশিরভাগ প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যায়। এই বিলুপ্তিরও প্রধান কারণ হচ্ছে পরিবেশ এবং প্রকৃতিতে পরিবর্তন। তিনি বলেন, তৃতীয় দফায় যে সব প্রাণের আবির্ভাব ঘটে পৃথিবীতে, তার মধ্যে একটি প্রাণী হচ্ছে মানুষ। পৃথিবীতে এখন নানা ধরনের প্রাণী আছে। আজকের পৃথিবীতে মানুষ মনে করছে তারা এই পৃথিবীর অধিপতি। সেই কারণে মানুষ সমস্ত প্রকৃতিকে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করছে। নিজের প্রয়োজনে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করার কারণে মানুষ আজ অনুভব করছে প্রকৃতি বৈরী হলে কি হয়।

তিনি বলেন, যে বাতাস ছাড়া মানুষ টিকতে পারে না, সেই অক্সিজেনটুকু আমরা স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারছি না। অক্সিজেন গ্রহণের জন্য আমাদের যে শ্বাসতন্ত্র সেটিকে আবরণ দিয়ে ঢেকে রাখতে হচ্ছে, এটি আমাদের কারণেই হয়েছে। আমাদের অনেক উন্নতি হয়েছে, কিন্তু এত উন্নতির পরেও আমরা দেখলাম করোনার কাছে আমরা কি রকম অসহায়। এটির প্রধান কারণ হচ্ছে সবকিছুকে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহারের মানুষের যে মনোবৃত্তি, অন্যপ্রাণীর প্রয়োজনটাকে কোনসময় মাথায় না রাখা, পরিবেশ-প্রকৃতিকে ধ্বংস করা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক আবদুল আউয়াল সরকার, বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ-মহাপরিচালক (বার্তা) অনুপ কুমার খাস্তগীর। বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার নিতাই কুমার ভট্টাচার্য্য সভায় সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক শাহ, দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, বিটিভি’র অনুষ্ঠান প্রিভিউ কমিটির সদস্য গিয়াস উদ্দিন খাঁন স্বপন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. সেলিম, উত্তর জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

mashiurjarif

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading