চাঁদপুরে ৪ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে
উত্তরদক্ষিণ| শনিবার, ১৯ জুন ২০২১| আপডেট ১০:২০
চাঁদপুরে এ বছর ৪ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। পাট গাছের পরিচর্চা নিয়ে চাষীরা ব্যস্ততা মধ্যে দিন পার করছে। এখন শুধু আশানুরূপ দাম পেলেই খুশি পাটচাষীরা।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলার ৮ উপজেলায় মোট ৪ হাজার ১০৫ হেক্টর পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ১ হাজার ৫৬৫ হেক্টর, মতলব উত্তরে ২৪০ হেক্টর, মতলব দক্ষিণে ৬৮৫ হেক্টর, হাজিগঞ্জ ৬০০ হেক্টর, শাহারাস্তি ৩৫ হেক্টর, কচুয়া ৩১০ হেক্টর, ফরিদগঞ্জ ২১০ হেক্টর ও হাইমচরের ৪৫০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে ।
আরও জানা যায়, জেলায় ৪ হাজার ১০৫ হেক্টর জমির মধ্যে দেশি পাট ১ হাজার ৭৬৫ হেক্টর, তোষা পাট ১ হাজার ৬৫৫ হেক্টর, মেস্তা পাট ১৭০ হেক্টর, ৫১৫ হেক্টর জমিতে কেনাফ পাট আবাদ হয়েছে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, পাটের রোগের মধ্যে কাণ্ড পঁচা, গোড়া পঁচা রোগ হয়ে থাকে। যার কারণে পাটের কাঙ্খিত উৎপাদন পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। এসব রোগের পাশাপাশি পাটের মধ্যে বিছা পোঁকাও আক্রমণ করে। এতে পাট গাছের অনেক ক্ষতি হয়। পাট গাছের পাতা নষ্ট হয়ে গেলে তা আর জীবিত হয়ে উঠতে পারে না। তাই ভালো উৎপাদন পেতে আমরা পাটচাষীদের প্রয়োজনীয় তথ্যসেবা দিচ্ছি বলেই ওরা এখন ব্যাস্ত সময় পার করছে।
কৃত্রিম তন্তু আবিষ্কারের পর পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা কমাসহ নানা কারণে পাটের ওই সুসময় আর নেই। তবুও চেষ্টা করছি পাটের উৎপাদন টিকিয়ে রাখার। এবার যদি কাচা পাট মণ প্রতি ভালো দামে বিক্রি করতে পারি তাহলেই এই পরিশ্রম স্বার্থক হবে।
শুক্রবার (১৮ জুন) এ ব্যপারে চাঁদপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার নরেশ চন্দ্র দাস জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছরে পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বেশি। আবহাওয়া ভালো থাকায় গত বছরের তুলনায় এ বছরে প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ বেশি হয়েছে। আর জেলায় মোট ৪ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। স্পষ্ট কথা হচ্ছে এবার জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি পাটের আবাদ হয়েছে। তবে ঠিকমতো পাটের মূল্য পেলে চাষীরা লাভবান হবে। তাহলেই পাট চাষে চাষীগণ ভবিষ্যতেও বেশি করে আগ্রহী হবেন।

