কুয়াকাটায় নির্মানাধীন ব্রীজ ভেঙ্গে খালে
উত্তরদক্ষিণ| সোমবার, ২৮ জুন ২০২১| আপডেট ১০:০০
কুয়াকাটা পৌরসভার দোভাষীপাড়া এলাকার নির্মাণাধীন গার্ডার ব্রীজ ভেঙ্গে খালে পড়ে গেছে। রবিবার (২৭ জুন) সকালে ঘটনার পর পরই ব্রীজে কর্মরত শ্রমিকরা পালিয়ে যায়। বিষয়টি তাৎক্ষনিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শতশত মানুষ ভীড় করে ব্রীজটি দেখার জন্য। তাদের অভিযোগ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এমন ঘটনা ঘটেছে। কুয়াকাটা পৌর কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করবেন বলে জানা গেছে ।
জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ২ কোটি ২৬ লাখ ১৫ হাজার ৮শ’ ৮৩ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি’র) অর্থায়নে কুয়াকাটা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের
আওতায় পৌরসভার দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি চলমান ছিল। সেতুটি দৈর্ঘ্য ২০ মিটার এবং প্রস্থ ৫.৫ মিটার । সেতুটির প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ পর্যায়ে ছিল । ২৬ জুন ২০২১ এর কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।
স্থানীয়রা জানান, নির্মানাধীন সেতুর স্থানে একটি পুরাতন আয়রন ব্রীজ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। ওই স্থানে গার্ডার ব্রীজের কাজ চলছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোসার্স সৈয়দ মো. সোহেল এ্যান্ড দীপ এন্টারপ্রাইজের নাম থাকলেও মুলত মামুন নামে এক ঠিকাদারের কাছে কাজটি বিক্রি করে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক পটুয়াখালীর টাউন কালিকাপুরের মো. আজাদুল ইসলাম ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটির নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে আসছে সাব-ঠিকাদার। নির্মাণ কাজ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়রা প্রকৌশলী ও পৌর মেয়রের কাছে অভিযোগ করলেও তারা তা রহস্যজনক কারনে আমলে নেয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের কেউই কাজের কোন তদারকি করেননি। ফলে ঠিকাদার তার ইচ্ছে মত নিম্নমানের কাজ করে নিয়েছেন।
সিপিপির লতাচাপলী ইউনিয়ন টিম লিডার মো. শফিকুল আলম বলেন, অপরিকল্পিত নকশা ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে তড়িঘড়ি করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ
করার কারনে সেতুটি ভেঙ্গে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, এ সেতটিু দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ অন্ততঃ পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করতো। সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় এখন এসব মানুষদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে।
কুয়াকাটা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুজ্জামান জানান, তিনি মাত্র কয়েক দিন হয় কুয়াকাটা পৌরসভায় যোগদান করেছেন। সেতুর নির্মাণ কাজের বিষয়ে
তার কিছুই জানা নেই। কি কারনে সেতুটি ভেঙ্গে পড়েছে তদন্ত শেষে তা বলতে পারবেন । এ বিষয়ে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হচ্ছে বলে ও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে প্রকল্প প্রকৌশলী মো. ফজলুর রহমানকে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, কুয়াকাটা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সেতুর নির্মাণ কাজ চলমান ছিল। নির্মাণ কাজ শেষ হবার আগেই
কেন সেতুটি ভেঙ্গে পড়েছে তা বলতে পারবেন এ প্রকল্পের প্রকৌশলীরা। তাদেরকে এ বিষয়ে জবাবদিহিতার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া সংশিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে
মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

