অস্ট্রেলিয়ায় ডেল্টার বিস্তার: একদিনে শনাক্ত ৩৬১
উত্তরদক্ষিণ| শনিবার, ৭ আগস্ট ২০২১| আপডেট ১৭:০৫
ডেল্টার অতি সংক্রামক বিস্তার থামাতে হিমশিম খাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। একদিনে ৩৬১ জন স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সব রোগীই মিলেছে জনবহুল তিনটি রাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও কুইন্সল্যান্ডে। সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি মোকাবেলায় এরাজ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষকে কঠোর লকডাউনের ভেতর দিন কাটাতে হচ্ছে; এই সংখ্যা অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ।
শনিবার (৭ আগস্ট) দেশটি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৫ জনের মৃত্যুর খবরও দিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে সিডনি ও এর আশপাশের অঞ্চলে লকডাউন চললেও নিউ সাউথ ওয়েলসে এদিনও স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত রেকর্ড ৩১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে।
রাজ্যটিতে এখন হাসপাতালে ভর্তি কোভিড রোগীর সংখ্যা ৩৪৫। নিবিড় পরিচর্যায় থাকা ৫৬ জনের মধ্যে ২৩ জন আছেন ভেন্টিলেশনে। নিউ সাউথ ওয়েলসের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাসিন্দাদের একটি অংশ কোভিড নির্দেশনা ঠিকঠাক মেনে না চলায় ‘সমস্যা হচ্ছে’। রাজ্যটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্র্যাড হ্যাজার্ড সবাইকে অনুরোধ করে বলেন, নির্দেশনা মেনে ঘরে থাকুন এবং টিকা নিন তাহলে সংক্রমণের চক্র ভাঙবে।
পার্শ্ববর্তী ভিক্টোরিয়াতেও আজ শনিবার ২৯ জনের দেহে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। রাজ্যটিতে এ বছর এটাই সর্বোচ্চ দৈনিক শনাক্ত।সংক্রমণের বিস্তার থামতে এই রাজ্যে ৭ দিনের লকডাউনও চলছে। গত বছর মহামারী শুরুর পর থেকে এ নিয়ে রাজ্যটির বাসিন্দাদের ষষ্ঠদফা লকডাউনের ভেতর দিয়ে যেতে হচ্ছে।
ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার ড্যান অ্যান্ড্রু রাজ্যের বাসিন্দাদেরকে জরুরি কাজ, কেনাকাটা, চিকিৎসা বা সেবা নেওয়া, টিকা নেওয়া এবং শরীরচর্চার জন্য ২ ঘণ্টা বাইরে কাটানো ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার বিধান মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন।
কুইন্সল্যান্ডে শনাক্ত হয়েছে নতুন ১৩ রোগী। রাজ্যটিতে সংক্রমণের হার দেশের অন্য অংশের থেকে কম হওয়ায় আগামীকাল রবিবার বিকাল থেকে সেখানকার লকডাউন তুলে নেওয়া যাবে বলে কর্তৃপক্ষ আশা করছে।
মহামারী শুরুর পর এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৬ হাজারের সামান্য বেশি। প্রাণঘাতী ভাইরাস দেশটির ৯৩৭ জনের প্রাণও কেড়ে নিয়েছে। শনাক্ত রোগী ও মৃত্যুর হারে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় স্বস্তিদায়ক অবস্থানে হলেও দেশটির টিকাদানের হার অনেক কম। অস্ট্রেলিয়ায় এখন পর্যন্ত ১৬ বছরের বেশি বয়সীদের মাত্র ২০ শতাংশ টিকার সব ডোজ পেয়েছে।

