আফগানিস্তানকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর: আমেরিকা
উত্তরদক্ষিণ| মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট ২০২১ | আপডেট ১২:০৩
আফগানিস্তানকে রক্ষা করা দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছে আমেরিকা। গতকাল সোমবার (৯ আগস্ট) তালেবান সীমান্ত শহর ও বাণিজ্যিক রুটগুলোসহ দেশটির ষষ্ঠ প্রাদেশিক রাজধানীর দখল নেওয়ার পর আমেরিকাএ মন্তব্য করে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এদিন বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় সামানগান প্রদেশের রাজধানী আইবাকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। আইবাকের আইনপ্রণেতা জিয়াউদ্দিন জিয়া বলেন, “এই মূহুর্তে পুলিশ সদরদপ্তর ও প্রাদেশিক গভর্নরের কম্পাউন্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য আফগান বাহিনীগুলোর সঙ্গে লড়াই করছে তালেবান। তালেবানের কাছে রাজধানীর অনেক এলাকার পতন হয়েছে।”
শুক্রবার থেকে রবিবার মধ্যে তালেবান আফগানিস্তানের তিনটি প্রাদেশিক রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নেয়; এগুলো হচ্ছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ নিমরোজের জারাঞ্জ, উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ সার ই পুল প্রদেশের সার ই পুল এবং উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় তাখার প্রদেশের তালোকান। এরপর তারা উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ কুন্দুজের রাজধানী কুন্দুজ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হেলমান্দের লস্কর গা দখল করে নেয়।
তালেবানের একের পর এক প্রাদেশিক রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়াতে আমেরিকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন কিন্তু বিদ্রোহী এই গোষ্ঠীটির সঙ্গে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর লড়াই করার ক্ষমতা আছে বলে আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (পেন্টাগন) মুখপাত্র জন কিরবি মন্তব্য করেছেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এরা তাদের সামরিক বাহিনী, এগুলো তাদের প্রাদেশিক রাজধানী, তাদের জনগণকে তাদেরই রক্ষা করতে হবে, এই বিশেষ মূহুর্তে এই অবস্থা থেকে তারা বের হয়ে আসতে ইচ্ছুক কিনা তা তাদের নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করছে।”
আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো লড়াই চালিয়ে যেতে না পারলে আমেরিকার সামরিক বাহিনীর কি করতে পারে, এমন প্রশ্নে কিরবি বলেন, “বেশি কিছু করার নেই।” প্রেসিডেন্ট জোই বাইডেন বলেছেন, আফগানিস্তানে আমেরিকার সামরিক মিশন ৩১ আগস্ট শেষ হবে।
আফগানিস্তানের জনগণকেই তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে হবে জানিয়ে আমেরিকার আরেক প্রজন্মকে ২০ বছর ধরে চলা ওই যুদ্ধে ঠেলে দেবেন না বলে বলে মন্তব্য করেছেন বাইডেন।

