দখলে নেওয়া অঞ্চলগুলোতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে তালেবান
উত্তরদক্ষিণ| মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট ২০২১| আপডেট ১৮:০৮
আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের দখলে নেওয়া এলাকাগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে তালেবান। তারা এখন উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর মাজার ই শরিফ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আর শহরটি রক্ষায় জীবনপণ লড়াই করার প্রত্যয় জানিয়েছেন সরকারপন্থি মিলিশিয়া বাহিনীগুলোর কমান্ডাররা। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্স
কয়েকদিন ধরে তালেবানের বিস্ময়কর অগ্রগতি ও আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনীগুলোকেই তাদের নিজেদের রক্ষা করতে হবে, আমেরিকার এমন মন্তব্যের পর আঞ্চলিক শক্তিমান নেতাদের সরকারের প্রতি সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি।
গতকাল সোমবার মাজার ই শরিফ ও রাজধানী কাবুলের মধ্যবর্তী প্রধান মহাসড়কের ওপর অবস্থিত সামানগান প্রদেশের রাজধানী শহর আইবাকের দখল নেওয়ার পর সেখানে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছেন তালেবান যোদ্ধারা, তারা সরকারি ভবনগুলোতে অবস্থান নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর অধিকাংশ সদস্য শহরটি থেকে সরে গেছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
শহরটির জনজীবনের অবস্থা এখন কেমন এমন প্রশ্নে প্রাদেশিক কর কর্মকর্তা শের মোহাম্মদ আব্বাস বলেন, “একমাত্র পথ হচ্ছে স্বেচ্ছা গৃহবন্দি থাকা অথবা কাবুলের দিকে চলে যাওয়ার কোনো রাস্তা বের করা।”
চার সন্তানের জনক ও নয় সদস্যের একটি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আব্বাস বলেন, “কিন্তু এখন কাবুলও আর নিরাপদ না।” তিনি জানান, তালেবান তাদের দপ্তরে এসে সব কর্মীকে বাড়িতে চলে যেতে বলে। তিনি ও আইবাকের অন্যান্য বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) তারা কোনো লড়াই হতে দেখেননি এবং লড়াই হয়েছে বলেও শুনেননি।
আফগানিস্তানের আমেরিকা সমর্থিত সরকারকে পরাজিত করে দেশটিতে কঠোর শরিয়া আইন চালু করতে চাওয়া তালেবান আইবাক দখল করে নেওয়ার সময় সামান্য প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়।
তালেবান ও সরকারি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে সম্প্রতি বিদ্রোহী এই গোষ্ঠীটি আইবাকসহ আফগানিস্তানের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণে ছয়টি প্রাদেশিক রাজধানীর দখল নিয়েছে। তালেবান যোদ্ধারা এখন বিভিন্ন দিকে থেকে উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম শহর মাজার ই শরিফের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
উত্তরাঞ্চলের একটি মিলিশিয়া বাহিনীর কমান্ডার আত্তা মোহাম্মদ নুর শেষ পর্যন্ত লড়াই করার প্রত্যয় জানিয়ে বলেছেন, “আমার শরীরের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যাবো।”

