ফেইসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ ছাড়া বিশ্বের ৬ ঘণ্টা
উত্তরদক্ষিণ| বুধবার, ৬ অক্টোবর ২০২১| আপডেট ২০:৩০
কারিগরি জটিলতায় বিশ্বের শীর্ষ সোশাল মিডিয়া কোম্পানি ফেইসবুকের সেবাগুলো যখন ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকল, কতটা প্রভাব পড়েছিল ব্যবহারকারীদের ওপর?
সোমবার ওই ছয় ঘণ্টা ফেইসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ থাকায় প্রবাসে থাকা বহু মানুষ তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি, রোগীরা যোগাযোগ করতে পারেননি ডাক্তারের সাথে। অনেক দেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কিছু দেশে সরকারি সেবাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
লন্ডনে বসবাসরত লেখক, শিক্ষক আনা মাসিং জানান, মালয়েশিয়ায় তার বাবা কোভিডে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের আইসিইউতে আছেন। দেশে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে তিনি হোয়াটসঅ্যাপের ওপরই ভরসা করে আসছিলেন। সোমবার ওই সময়টায় তাকে বিপাকে পড়তে হয়েছিল।
ফেইসবুক যখন বিভ্রাটে পড়ল, যুক্তরাজ্যে তখন বিকাল, যুক্তরাষ্ট্রে সকাল, আর ভারতে রাত। ফলে প্রভাবটাও হয়েছে একেক দেশে একেকরকম।
সবার ক্ষেত্রে সেটা আনা মাসিংয়ের মত গুরুতর হয়নি। যারা এমনিতে যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জার ব্যবহার করতেন, তাদের বাধ্য হয়ে ফোন কল করতে হয়েছে বিদেশে যোগাযোগের জন্য।
বিবিসি লিখেছে, অনেকেই টুইটারে অভিযোগ করেছেন ওই সময়টায়, কেউ কেউ আবার মজাও করেছেন।
তবে মানুষ এখন প্রতিদিনের জীবনযাপনে সোশাল মিডিয়া অ্যাপগুলো ওপর, বিশেষ করে ফেইসবুকের সেবাগুলোর ওপর কতটা নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে ওই ছয় ঘণ্টা।
ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ডাউনডিকোডার বলছে, ওই কয়েক ঘণ্টা ফেইসবুকের সেবা বন্ধ থাকায় প্রভাব পড়েছে শত কোটি মানুষের ওপর।
যুক্তরাজ্যের দন্ত চিকিৎসক ক্রিস ডোনেল জানান, কাজের ক্ষেত্রে যোগাযোগের জন্য তিনি এবং তার আরও অনেক সহকর্মী হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন।
কেবল কথা বলা নয়, হাসপাতালের শিফট বদলের ক্ষেত্রে তথ্য বিনিময়, ডিউটি আওয়ারের বাইরে রোগী ও স্বজনদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, পরামর্শের জন্য জ্যেষ্ঠ সহকর্মীদের সঙ্গে চ্যাটিং- এরকম নানা কাজে তারা নির্ভর করেন ওই হোয়াটসঅ্যাপের ওপর।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ ফেইসবুক ব্যবহার করে ভারতে। সেখানে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৪ কোটির বেশি।
ব্যক্তিগত যোগাযোগের পাশাপাশি ব্যবসার কাজেও ভারতীয়দের অনেকে নির্ভর করেন হোয়াটসঅ্যাপের ওপর। সেখানে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা আরও বেশি, ৪৯ কোটি।
এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তারা বিজ্ঞাপন দেওয়ার পাশাপাশি সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পণ্যও বিক্রি করেন। এরকম বহু ভারতীয় ব্যবসায়ীর কাজ বন্ধ ছিল হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ থাকার ওই সময়টায়।
ব্রাজিলে সরকারি কর্মকর্তারা তাদের দাপ্তরিক কাজে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন। সেখানে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রেও এই অ্যাপের ব্যবহার ব্যাপক। অনেক স্কুলের সূচি পরিবর্তনের নোটিস, পরীক্ষার ফল হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠানো হয়। ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া, ভিডিও কলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার মত কাজেও ব্যবহার করা হয় এই অ্যাপ।
রিও ডি জেনেইরোর চিকিৎসক মার্সিটো টুইটারে লিখেছেন, রোগীদের চিকিৎসার ফলোআপের জন্য তাদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ব্রাজিলে অনেক ব্যাংক গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে। সেই যোগাযোগও ওই সময়টায় বন্ধ ছিল।
হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে মেক্সিকোর ব্যবসায়ীদেরও, কারণ তারাও যোগাযোগের জন্য ফোনের চেয়ে এই সোশাল মিডিয়া অ্যাপের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন। ছয় ঘণ্টার ওই অভিজ্ঞতার পর ইউরোপে আরও কঠোর নিয়ম-কানুনের দাবি উঠেছে, যাতে বড় টেক কোম্পানিগুলো মনোপলি তৈরি করতে না পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইন্টারনাল মার্কেট বিষয়ক কমিশনার থিয়েরি ব্রেটন টুইটারে লিখেছেন, ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতার আরও ন্যায্য পরিবেশ এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

