চট্টগ্রামে প্রতিমা ভাঙচুরের পর থানার সামনে বিক্ষোভ, গ্রেফতার ২

চট্টগ্রামে প্রতিমা ভাঙচুরের পর থানার সামনে বিক্ষোভ, গ্রেফতার ২

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১১ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ১১:৫০

চট্টগ্রাম নগরীতে দুর্গাপূজার প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ট্রাকে করে মণ্ডপে নিয়ে যাবার সময় জাম্বুরা ছুড়ে মেরে প্রতিমা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

নগরীর কোতোয়ালী থানার ফিরিঙ্গিবাজারে রবিবার (১০ অক্টোবর) রাত ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে পূজার্থীরা থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের মুখে পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে।

জানা গেছে, ফিরিঙ্গিবাজার শিববাড়ি পূজামণ্ডপের জন্য মিনি ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ফিরিঙ্গিবাজারে ফলের আড়তের সামনে ট্রাক থেকে জাম্বুরা নামানো হচ্ছিল। ঢোলবাদ্য সহকারে প্রতিমা নেওয়ার সময় দোমায়াপুকুর পাড় এলাকায় আড়তের সামনে থেকে জাম্বুরা ছুড়ে মারা হয়।

ফিরিঙ্গিবাজার পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অমিত কুমার হোড় সারাবাংলাকে জানান, ছুড়ে মারা জাম্বুরার আঘাতে দুর্গা ও স্বরস্বতী প্রতিমার একটি করে হাত ভেঙে গেছে।

এদিকে ঘটনার পর শিববাড়িসহ আশপাশের পূজামণ্ডপ থেকে কয়েকশ পূজার্থী কোতোয়ালী থানার সামনে জড়ো হন। তারা প্রায় দুইঘণ্টা ধরে থানার সামনে বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভের মধ্যেই পুলিশ অভিযান শুরু করে। ফলের আড়তে গিয়ে জাম্বুরাবোঝাই ট্রাকের চালক ও সহকারীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনাস্থলে যান ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব এবং গত চসিক নির্বাচনে একই ওয়ার্ডের প্রার্থী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. সালাহউদ্দিন। তারা বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

পুলিশের অভিযানের পর রাত গভীর হলে বিক্ষোভ থেমে যায়। বিক্ষোভকারীরাও এলাকায় ফিরে যান।

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) বিজয় বসাক বলেন, ‘ট্রাক থেকে জাম্বুরা ছুড়ে মারার পর প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ফলের আড়তের শ্রমিকরা জাম্বুরা ছুড়ে মেরেছে। আমরা ট্রাকের চালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করেছি, তদন্ত চলছে। যারাই ঘটনায় জড়িত, সবাইকে ধরা হবে।’

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন বলেন, ‘পূজামণ্ডপের সভাপতি অমিত হোড় বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘটনায় আরও কারা জড়িত সে বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।’

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত ফিরিঙ্গিবাজারে স্মরণকালের মধ্যে কখনোই প্রতিমা ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটেনি। এমনকি নিকটতম। সময়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

চসিক কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব বলেন, ‘ফিরিঙ্গিবাজারে অর্ধশতাধিক ফলের আড়ত আছে। সেখানে প্রতিদিন ট্রাকে করে ফল আসে। পরিবহনের ও আড়তের মিলিয়ে সেখানে কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করে। বাইরের জেলা থেকেও অনেক শ্রমিক আসে। তাদের মধ্যে কেউ এ ঘটনা ঘটাতে পারে।’

mashiurjarif

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading