শিক্ষার্থীদের যেন চাপ না হয় এজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্ঠা করছি
কিফায়েত সুস্মিত। রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ১৬:০৫
বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপে দেশের সবধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘ ১৭ মাস বন্ধ ছিল। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটায় গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল-কলেজ খুললেও বন্ধই ছিল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। অবশেষে আগামী পহেলা নভেম্বর একযোগে শুরু হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শ্রেণীকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম। করোনাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম এবং নতুন করে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান প্রসঙ্গে দৈনিক উত্তরদক্ষিণের সঙ্গে কথা বলেছেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির।
দৈনিক উত্তরদক্ষিণ: বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে, স্টেট ইউনিভার্সিটি কিভাবে শুরু করবে?
অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির: শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর একাডেমিক কাউন্সিলের বোর্ড সভা ডাকা হয়েছিল। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী পহেলা নভেম্বর স্টেট ইউনিভার্সিটিতে স্ব-শরীরে ক্লাস শুরু হবে।
দৈনিক উত্তরদক্ষিণ: করোনাকালীন এই সময়ে নতুন করে কী কী পরিকল্পনা গ্রহন করেছেন ?
অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির: আমাদের ১০টি ডিপার্টমেন্ট আছে। এই ডিপার্টমেন্টগুলোর ক্লাসরুম, ল্যাব, কমনরুম, বাথরুমসহ সবকিছু ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। তাছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনা যায় তার একটা পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে।
দৈনিক উত্তরদক্ষিণ: টিকা না দিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরানো আপনার মতে ঠিক কি ঠিক হচ্ছে?
অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির: আমাদের বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে সরকার যে ভূমিকা রেখেছে তা প্রশংসনীয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও কর্মকর্তাগণ ইতোমধ্যেই টিকা গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে সরকার টিকা নেয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী টিকার প্রথম ডোজ নিয়ে নিয়েছে এবং দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার অপেক্ষায় আছে। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার বিষয়গুলো অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখবো।
দৈনিক উত্তরদক্ষিণ: করোনায় শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের করণীয় কি?
অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির: মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাংলাদেশে শুরু হয় ২০২০ সালের মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে। বাংলাদেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মত তখন আমরাও (স্টেট ইউনিভার্সিটি) সংকটের মুখে পরি। কিভাবে আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষা করা যায়? আনন্দের বিষয় এই যে, বন্ধের এক সপ্তাহ পর থেকেই বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আমরা ক্লাস শুরু করি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা ভালো সাড়া পেয়েছি।
দৈনিক উত্তরদক্ষিণ: অনলাইন কার্যক্রম কিভাবে পরিচালনা করেছেন?
অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ অল্প সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে ছাত্রদের ক্লাস নেয়া শুরু করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ মঞ্জুরি কমিশন নির্দেশনা দেয় কিভাবে টিচিং-লার্নিং সবচেয়ে প্রভাবিত করা যায়। আমরা সেখান থেকে পরীক্ষাগুলো নেয়া, রেজাল্ট দেয়াসহ পরবর্তী সেমিস্টারে শুরু করা মোটামুটি সম্পূর্ণ করেছি।
দৈনিক উত্তরদক্ষিণ: অনলাইন কার্যক্রমে আপনি কতটা সন্তুষ্ট ?
অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির: ইউনিভার্সিটির ভিসি হিসেবে আমি আনন্দের সাথে বলতে চাই আমাদের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নষ্ট হয়নি। আমাদের আন্ডারগ্রাজুয়েট, মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা যে সময় পাশ করে যাওয়ার কথা ছিল তারা ঠিক সেই সময়ই পাশ করেছে। এ জন্য আমি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই।
দৈনিক উত্তরদক্ষিণ: এই সময়টাতে শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম যে ক্ষতি হয়েছে তা কিভাবে পুষিয়ে উঠবে?
অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির: এখানে বলা হচ্ছে যে ক্ষতির পরিমাণ; স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর শিক্ষার্থীদের ক্ষতির পরিমাণ কম হয়েছে। তবে বলার অপেক্ষা রাখে না করোনাকালীন আমাদের শিক্ষার্থীদের অনেক অভিভাবক কর্মহীন হয়েছে, আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়েছে। আমরা সেই সব শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে সুযোগ-সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করেছি। ২০২০ থেকেই মূলত ২৫% ছাড় দিয়ে এসেছি, এছাড়া আমাদের আগের বৃত্তিমূলক যে পলিসি ছিল সেগুলো অব্যাহত রেখেছি। শিক্ষার্থীদের যেনো চাপ না হয় এজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।

