মন্ত্রীসভার নির্দেশ, দুই মাসের মধ্যে নিবন্ধন : গোয়েন্দা নজরদারিতে ই-কমার্স
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ১৩:০০
বর্তমান সময়ে দেশের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর অন্যতম হচ্ছে ই-কমার্স খাতে অর্থ আÍসাত ও প্রতারণা। সম্প্রতি এসব ঘটনায় ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা হয়েছে। সরকারও বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ইতোমধ্যেই এ খাতকে মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২ মাসের সময়সীমা দেয়া হয়েছে নিবন্ধনের জন্য। ই-কমার্স নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত, গ্রাহকদের ভাবনা নিয়ে প্রতিবেদন, লিখেছেন গাজী কাইয়ুম।
মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে দেশের ই-কমার্স খাত নিজের পরিধি বিস্তৃত করেছে বহুগুণে। বাজার মূল্যের প্রায় অর্ধেক দামে গ্রাহকদের মাঝে পণ্য পৌঁছে দেয়ার লোভ দেখিয়ে এ খাতের বিভিন্ন কোম্পানি কোটি কোটি টাকা অগ্রিম হাতিয়ে নিয়েছে। কথার সঙ্গে কাজের মিল রাখতে না পারায় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তাগণকে আইনের আওতায়ও নিয়ে আসা হয়েছে। তবে, খাতের সম্ভাবনা এবং যুগোপযোগীতা দেখে সরকার আলাদাভাবে নজরদারি শুরু করেছে। পণ্য ডেলিভারি না দেয়া ও টাকা ফেরত না দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে নজরদারিতে রাখছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ইতোমধ্যে এ খাতের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনার জন্য চার সদস্যের বোর্ড গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকেও ই-কমার্স খাত নিয়ে নির্দেশনা এসেছে। এ খাতের কোম্পানিগুলোকে দুই মাসের মধ্যে নিবন্ধনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নির্দেশনা দেয়া হয় বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো এবং এর সাথে যারা সম্পৃক্ত আছে, আগামী দুই মাসের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ডিপোজিট রাখতে হবে, যাতে কোন সমস্যা হলে সেই ডিপোজিট থেকে সমাধান করা যায়। এছাড়াও ই কমার্স খাতে অনিয়ম বন্ধ করতে বিএফআইউই (বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টিলিজেন্ট ইউনিট), ডিজিটাল মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাকে নজরদারি করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, এ খাতে ব্যাপক ক্যাম্পেইনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেখানে মানুষকে বোঝানোর জন্য প্রচারণা চালানো হবে।
এদিকে, গত ৩০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগ থেকে ই-কমার্স খাতে চালু করা হয় পেমেন্ট গেটওয়ে। এ খাতে কোনো গ্রাহক পণ্যের অর্ডার দিলে তার টাকা পেমেন্ট গেটওয়েতে থাকে। পণ্য ডেলিভারি হওয়ার পর প্রমাণ জমা দিয়ে সেই টাকা ছাড় পায় প্রতিষ্ঠান। কিন্তু গ্রাহক পণ্য না পেলেও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া টাকা ফেরত পান না। ফলে গ্রাহকের টাকা আটকেই থাকছে।
এ পদ্ধতি চালু হওয়ার পর থেকে এরই মধ্যে গ্রাহকদের কয়েকশ কোটি টাকা গেটওয়েগুলোতে আটকে রয়েছে। গ্রাহকরা এখন সেই টাকা ফেরত পাওয়ার উপায় খুঁজছেন। যদিও এ প্রসঙ্গে গত ২৫ অক্টোবর বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছিলেন, আটকে থাকা ২১৪ কোটি টাকা গ্রাহকদের ফেরত দেবে সরকার। আগামী ৩ মাসের মধ্যে এসব টাকা ফেরত দেয়া হবে। অন্যদিকে, পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা টাকা গ্রাহকদের ফেরত দিতে রিট আবেদনের বিষয়ে শুনানি আগামী রবিবার (৩১ অক্টোবর) ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। এই সময়ের মধ্যে ই-কমার্স নিয়ে আর কোনো রিট এবং আদেশ আছে কিনা- সেটা খোঁজ নিয়ে শুনানি ও আদেশ দেয়া হবে।
প্রতারণার শিকার হাজার হাজার গ্রাহক ও মার্চেন্ট তাদের পাওনা টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে অস্থিরতায় ভুগছেন। তারা আদৌ জানেন না কিভাবে তাদের টাকা কিংবা পণ্য ফেরত আসবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গ্রাহক ও মার্চেন্টদের দেয়া একটি হিসেবে দেখা যায় ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকমসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার মতো আটকে আছে।
ভুক্তভোগীরা চাইছেন একটি শৃঙ্খল সমন্বয়। সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো নজরদারি আসুক যেখানে প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহক সবাই একটি নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ থাকবে। গ্রাহকদের সিংহভাগই চাচ্ছেন ই-কমার্স খাতটি যেনো বেঁেচ থাকুক। কোটি কোটি গ্রাহক রয়েছে এই খাতে। তাতে দেশের অর্থনীতিও পাবে এর সুফল।

