বিএসইসি ও সংশ্লিষ্টদের ইতিবাচক উদ্যোগ: পুঁজিবাজারে তবুও নিম্নচাপ

বিএসইসি ও সংশ্লিষ্টদের ইতিবাচক উদ্যোগ: পুঁজিবাজারে তবুও নিম্নচাপ

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ১৩:১০

অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। টানা মন্দাভাব আতঙ্ক বাড়াচ্ছে বিনিয়োগকারীদের। এর মধ্যে বাড়তি যোগ হয়েছে বাজার ঘিরে নানা গুজব। তবে নীতিনির্ধারকরা বলছেন দ্র–তই কেটে যাবে সকল জটিলতা। ঘুরে দাঁড়াবে পুঁজিবাজার। শেষ তিন সপ্তাহের বাজার বিশ্লেষণ নিয়ে লিখেছেন তানজীন অন্তী

পুঁজিবাজারের লেনদেন চলছে অস্থিরতা ও গুজবের মধ্য দিয়ে। যার প্রভাব বাজারে স্পষ্ট। টানা তিন সপ্তাহ ধরেই দেশের পুঁজিবাজার নিুমুখী। এ সময়ে লেনদেন কমেছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। তাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এছাড়াও সবকটি মূল্য সূচকও কমে গেছে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে মূলধন কমেছে ৬ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা। আগের দুই সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১২ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে টানা তিন সপ্তাহের পতনে ১৮ হাজার কোটি টাকার ওপরে মূলধন হারিয়েছে ডিএসই।

এদিকে, গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১৩ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট। এর আগের সপ্তাহে সূচক কমেছিল ১৬৭ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্ট। তার আগের সপ্তাহে কমেছিল ৯৯ দশমিক ৭০ পয়েন্ট। অর্থাৎ টানা তিন সপ্তাহের পতনে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক
কমেছে ২৭৯ পয়েন্ট।

অন্যদিকে, উল্টোচিত্র শেয়ার ও ইউনিটের দামে। গত সপ্তাহে সূচক ও বাজার মূলধন কমলেও ডিএসইতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ২০৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। কমেছে ১৫৫টি শেয়ারের দাম। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টির দাম। গত সপ্তাহের প্রতিদিন ডিএসইতে গড় লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫১০ কোটি ২ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৫১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহ ব্যবধানে গড় লেনদেন কমেছে ৭৩ লাখ টাকা। গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭ হাজার ৫৫০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৬ হাজার ৪৩ কোটি ৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ৫০৭ কোটি ১০ লাখ টাকা।

এদিকে, বাজার বিশ্লেষণে দেকা গেছে, প্রধান মূল্য সূচকের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচকও কমেছে। গত সপ্তাহজুড়ে সূচকটি কমেছে ৩৮ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট। এর আগের সপ্তাহে সূচক কমেছিল ৪৯ দশমিক ২৭ পয়েন্ট। তার আগের সপ্তাহে কমেছিল ২৮ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট। অন্যদিকে, ডিএসই-৩০ সূচকও নিুমুখী। গত সপ্তাহজুড়ে এই সূচকটি কমেছে ৬০ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে এই সূচক কমেছিল ১৯ দশমিক ৮০ পয়েন্ট। তার আগের সপ্তাহে কমেছিল ৪৮ দশমিক ২৫ পয়েন্ট।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণের পরও কাটছে না বাজারের মন্দাভাব। সংশ্লিষ্টরা বলছেন যেভাবেই হোক বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে হবে। আর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরলে দ্রুতই চাঙ্গা হবে দেশের পুঁজিবাজার। সরকারও পুঁজিবাজার নিয়ে ইতিবাচক। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেছেন, এ খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা দেবে সরকার। এছাড়াও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়ত-উল-ইসলাম। তিনি বলেছেন এ মুহূর্তে দেশের শেয়ারবাজার সর্বোচ্চ রিটার্ন দিচ্ছে। বাংলাদেশের এ খাতে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ে বিস্তর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েই বাজারের কার্যক্রম ঘটবে এটাই স্বাভাবিক ঘটনা। বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুতই কেটে যাবে। দূর হবে অস্থিরতা। বিনিয়োগকারীদের মাঝে ফিরে আসবে আস্থা। আবারও ঘুরে দাঁড়াবে দেশের পুঁজিবাজার।

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading