মিলার-রাবাদার ঝড়ো জুটিতে দ্বিতীয় জয় দক্ষিণ আফ্রিকার
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ২০:৩০
ডেভিড মিলার-কাগিসো রাবাদার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলংকার বিপক্ষে জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। শ্রীলংকার ছুঁড়ে দেয়া ১৪৩ রানের জবাবে শেষ ১৬ বলে ৩১ রানের প্রয়োজন ছিলো দক্ষিণ আফ্রিকার। সপ্তম উইকেটে ১৫ বলে অবিচ্ছিন্ন ৩৪ রান তুলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয়ের স্বাদ দেন ডেভিড মিলার ও কাগিসো রাবাদা।
মিলার-রাবাদার জুটির দৃঢ়তায় আজ গ্রুপ-১এর ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ উইকেট হারিয়েছে শ্রীলংকাকে। ৩ খেলায় ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয়স্থানে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সমানসংখ্যক ম্যাচে ১ জয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থস্থানে শ্রীলংকা।
শারজাহতে টস জিতে প্রথমে বোলিং করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২০ রানে প্রথম উইকেট হারায় শ্রীলংকা। ৭ রান করে ফিরেন কুশল পেরেরা।
এরপর ২৯ বলে ৪০ রানের জুটি গড়েন আরেক ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও চারিথ আসালঙ্কা। ১৪ বলে রান করে থামেন আসালঙ্কা। এরপর লংকান মিডল-অর্ডার ব্যাটাররা ক্রিজে টিকে থাকতে ব্যর্থ হন।
ভানুকা রাজাপাকসে ০, আভিস্কা ফার্নান্দো ৩ ও হাসারাঙ্গা ডি সিলভা ৪, অধিনায়ক দাসুন শানাকা ১১ ও চামিকা করুনারতেœ ৫ রান করে ফিরেন। ফলে ১১০ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারায় শ্রীলংকা। তবে একপ্রান্ত আগলে দলের রানের চাকা সচল রেখেছিলেন নিশাঙ্কা। ১৯তম ওভার পর্যন্ত উইকেটে টিকে ছিলেন তিনি।
১০ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন নিশাঙ্কা। শেষ পর্যন্ত ৫৮ বলে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭২ রান করেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে এটিই তার সেরা ইনিংস। নিশাঙ্কার ব্যাটিং দৃঢ়তার পরও ২০ ওভারে সবক’টি উইকেট হারিয়ে ১৪২ রান তুলে শ্রীলংকা। দক্ষিণ আফ্রিকার তাবরিজ শামসি ও ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস ৩টি করে উইকেট নেন।
জয়ের জন্য ১৪৩ রানের জবাবে শুরুতেই চাপে পড়েছিলো দক্ষিণ আফ্রিকাও। ৪৯ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারায় তারা। কুইন্টন ডি কক ১২, রেজা হেনড্রিক্স ১১ ও রাসি ভান ডার ডুসেন ১৬ রান করে আউট হন।
৮ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারানোয় চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই চাপ থেকে দলকে রক্ষা করেন অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা ও আইডেন মার্করাম। পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিয়ে রানের চাকা সচল করেন তারা। দু’জনের জুটিতে শতরানের কাছাকাছি পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ১৫তম ওভারের শেষ বলে এই জুটি ভেঙ্গে শ্রীলংকাকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন স্পিনার হাসারাঙ্গা। ২০ বলে ১৯ রান করা মার্করামকে শিকার করেন তিনি। চতুর্থ উইকেটে ৪২ বলে ৪৭ রান যোগ করেন বাভুমা ও মার্করাম।
১৮তম ওভারের প্রথম বলে বাভুমার বিদায় নিশ্চিত করেন হাসারাঙ্গা। ৪৬ বলে ১টি করে চার-ছক্কায় ৪৬ রান করেন বাভুমা। দ্বিতীয় বলে প্রিটোরিয়াসকে তুলে নিয়ে শ্রীলংকাকে চালকের আসনে বসান হাসারাঙ্গা। ১১২ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
শেষ ২ ওভারে ২৫ রান দরকার ছিলো দক্ষিণ আফ্রিকার। ১৯তম ওভারে ১০ রান পায় প্রোটিয়ারা। পেসার দুসমন্থ চামিরার করার একই ওভারের চতুর্থ ছক্কা মারেন আট নম্বরে নামা কাগিসো রাবাদা।
আর শেষ ওভারে জিততে দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার পড়ে ১৫ রান। শ্রীলংকার পেসার লাহিরু কুমারার করার শেষ ওভারের প্রথম বলে ১ রান নেন রাবাদা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে ছক্কা মারেন ডেভিড মিলার। চতুর্থ বলে ১ রান নিয়ে স্কোর সমান করেন মিলার। আর পঞ্চম বলে চার মেরে দক্ষিণ আফ্রিকাকে দারুন এক জয় এনে দেন রাবাদা।
১৩ বলে ২টি ছক্কায় অপরাজিত ২৩ রান করেন মিলার। ৭ বলে ১টি করে চার-ছক্কায় অপরাজিত ১৩ রান করেন রাবাদা। সপ্তম উইকেটে ১৫ বল খেলে অবিচ্ছিন্ন ৩৪ রান যোগ করেন মিলার ও রাবাদা।
শ্রীলংকার হাসারাঙ্গা ২টি ও চামিরা ২টি উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার শামসি।
আগামী পহেলা নভেম্বর গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে শ্রীলংকা। আর ২ নভেম্বর বাংলাদেশের বিপক্ষে এবারের আসরে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচ খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা।

