মুজিববর্ষ উপলক্ষে যাত্রীবাহী কোচ পুনর্বাসনে কার্যক্রম চলছে: সংসদে রেলমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর ২০২১। আপডেট ১৩:১৪
রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, গত এক দশকে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৩০০টি মিটারগেজ, ৫০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ ও ভারত থেকে ১২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ করা হয়েছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেট হতে ইতোমধ্যেই ১০০টি যাত্রীবাহী কোচ পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ১০০টি পুরাতন ক্যারেজ পুনর্বাসনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) সংসদে দিদারুল আলম চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্যের লিখিত প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উত্থাপিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, রেলওয়ে একটি নিরাপদ, আরামদায়ক এবং সাশ্রয়ী গণপরিবহন মাধ্যম। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সড়ক পথে যানজট থাকায় যাত্রী-সাধারণের নিকট রেলওয়ের চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান আধুনিক বিশ্বের রেলওয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, যাত্রী-সাধারণের সুবিধার্থে নতুন কোচগুলোতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যেমন: আধুনিক টয়লেট, ওয়াশ বেসিন, স্লাইডিং দরজা, টিভি মনিটর, পরিবেশবান্ধব বায়োটয়লেট, শারীরিকভাবে অসমর্থ যাত্রীদের জন্য বিশেষ ধরনের টয়লেট, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার ও স্লিপার কোচের সংস্থান রয়েছে কোচগুলোতে আরামদায়ক ভ্রমণ সহায়ক উন্নতমানের বগি সংযোজন করা হয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন হতে যথাক্রমে ১৫০টি মিটারগেজ ও ১০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহের প্রকল্প চলমান আছে ।
তিনি বলেন, এছাড়া ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (ইআইবি) অর্থায়নে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী এবং টেন্ডারার্স ফাইন্যান্সিং এর আওতায় ২০০টি মিটারগেজ কোচ ক্রয় করা হবে। আগামী ২ বছরের মধ্যে কোচগুলো সরবরাহ পাওয়া যাবে। এই কোচগুলোতে আরও কিছু নতুন আইটেম যেমন: উন্নতমানের স্লাইডিং ডোর, পরিবেশ বান্ধব আধুনিক বায়োটয়লেট, কোচের অভ্যন্তরে ইলেক্ট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড, সিসি ক্যামেরা, উন্নতমানের সিট সংযোজন করা হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেলসংযোগ চালু হওয়ার সাথে সাথেই সম্মানিত যাত্রী ও পর্যটকদের আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ ট্রেন চালু করা হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পুরাতন ও আয়ুষ্কাল উত্তীর্ণ কোচ সমূহ রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এর মাধ্যমে রেলের কোচ যাত্রী সাধারণের জন্য আরামদায়ক হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

