প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের গুরুত্ব অনুধাবন করে একাধিক মেগা প্রকল্প দিয়েছেন: তাজুল ইসলাম

প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের গুরুত্ব অনুধাবন করে একাধিক মেগা প্রকল্প দিয়েছেন: তাজুল ইসলাম

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১। আপডেট ১৮:১৫

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব উপলব্দি করে এখানে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন বলে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, এসব প্রকল্প চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্বকে বাড়াবে এবং তার ব্যাপ্তি জাতীয় স্তর পেরিয়ে বৈশ্বিক পর্যায় পর্যন্ত প্রসারিত হবে।

তাজুল ইসলাম শনিবার (২৭ নভেম্বর) সকালে নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৬ নং পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডে বারইপাড়া খালখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ১৩ নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডে আমবাগান সড়কের উন্নয়ন কর্মকান্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে যখন ব্রত হয়েছিলেন তখন খুব বেশি সময় তিনি পাননি। ৭৫’র ১৫ আগস্ট তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর ২১ বছর দেশ পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালিত হয়েছে এবং আমরা গোলামে পরিণত হয়েছিলাম। এখন আমরা মুক্ত হয়েছি এবং বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে ফিরে এসে ঘোষণা করেছিলেন এত ধ্বংস ও মৃত্যুর পরও যে মাটি ও মানুষ পেয়েছি তা দিয়েই সোনার বাংলা গড়ে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পিতার প্রত্যয় অনুযায়ী মাটি ও মানুষের সমন্বয়ে দেশকে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন।

তিনি আরো বলেন, সুশাসন ছাড়া কোন উন্নয়ন অর্থবহ ও জনকল্যাণমুখী হয় না। জনগণের আকাঙ্খা, চাওয়া-পাওয়ার সঠিক প্রতিফলনই হলো প্রকৃত, সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক উন্নয়ন। এই সত্যটা জনপ্রতিনিধিদের উপলব্ধি করে জনগণের সাথে মিশে যেতে হবে। নগরীর মালিক সিটি কর্পোরেশন। নগরীর সকল উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশনের সম্পৃক্ততা ও দেখ-ভালের দায়িত্বও তাদের থাকতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের সক্ষমতার জন্য আয়ের পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন। শুধুমাত্র সরকারি বরাদ্দে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নিজেকে আয় বর্ধনের নতুন নতুন উপায় অন্বেষণ করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, যোগাযোগ খাত উন্নয়নের পূর্বশর্ত। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর নগরী এখানে নতুন নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বে-টার্মিনাল হচ্ছে। কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে ট্যানেল হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম পরিণত হবে ওয়ান সিটি টু-টাউন হিসেবে। এ কারণে চট্টগ্রাম নগরীর সড়কগুলোর যোগাযোগের পরিধি ও গুরুত্ব বাড়বে। তাই নগরীর টেকসই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন চসিককে প্রয়োজনীয় ব্যাক-আপ দিতে হবে।

মন্ত্রী নগরীর খালগুলোর আবর্জনা অপসারণে একটি অত্যাধুনিক ও কার্যকর যান্ত্রিক সরঞ্জাম হুইল হারবার স্টার চসিককে দেবেন বলে আশ্বাস দেন। চসিক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম আজ চসিকের পুরাতন নগর ভবনের কে.বি আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে চসিক কাউন্সিলদের সিটি কর্পোরেশন প্রশাসন অবহিতকরণ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সেরও উদ্বোধন করেন।

বারইপাড়া খাল খনন ও আমবাগান সড়কের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চসিক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল আলম, প্যানেল মেয়র মো. গিয়াস উদ্দিন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর এম. আশরাফুল আলম, ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী, মো. ইসমাইল, সংরক্ষিত কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা, শাহিন আক্তার রোজী, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, নির্বাহী প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম, আবু সিদ্দিক প্রমুখ।

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading