সুগন্ধা এখন মানুষ পোড়া গন্ধের নদী
সাইফুল অনিক । রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১ । আপডেট ১১:৪০
আগুনে প্রাণহানি থামছেই না। প্রযুক্তি ও নানা সতর্কতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দিন কি দিন বাড়ছে অগ্নিকান্ডের ঘটনা। আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক ভবন, গার্মেন্ট কারখানাসহ নানা কল-কারখানায় আগুনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। সম্প্রতি আগুন লেগেছে চলন্ত একটি লঞ্চে।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর গাবখান ধানসিঁড়ি এলাকায় ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ নামের একটি যাত্রীবাহী লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। হরহামেশাই লঞ্চ ডুবির ঘটনা ঘটলেও এবারের দুর্ঘটনা সবাইকে নির্বাক করে দিয়েছে।
নদীর নাম সুগন্ধা হলেও সেখানের আকাশে বাতাসে এখন ভেসে বেড়াচ্ছে পোড়া লাশের বিকট গন্ধ ও স্বজন হারানোদের করুণ আহাজারি। রাত গভীর হওয়ায় তখন অনেকেই ছিলেন গভীর ঘুমে। কিন্তু সেই ঘুমটাই যেন চিরঘুম হয়ে গেল। আর জেগে উঠবার ফুরসত পাওয়া গেলনা। অনেকেই নিজ বিছানায় পুড়ে অঙ্গার হয়েছেন। কেউ কেউ হয়েছেন মারাত্নক দগ্ধ।
অগ্নিকাণ্ড ও এর পরের ক্ষয়ক্ষতির জন্য নৌযানটির মাস্টার, সারেং, সুকানিসহ সব স্টাফকেই দুষছেন বেঁচে ফেরা যাত্রীরা। আগুন লাগার পরও ৩০-৪০ মিনিট চালিয়ে নদীর পাড়ে নিয়ে থামান লঞ্চের মাস্টার। এতে প্রাণহানির ঘটনা বেশি হয়েছে। লঞ্চে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হতো, যদি জীবন রক্ষাকারী প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকতো তাহলে যাত্রীরা সেগুলো ব্যবহার করে জীবন বাঁচাতে পারতেন। কিন্তু সাধারণত দেখা যায় যাত্রী সংখ্যার তুলনায় জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম থাকে খুবই অপ্রতুল।
দক্ষিণাঞ্চলের বড় একটি মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌপথ। ব্যাপক সংখ্যক যাত্রী নৌপথে চলাচল করে থাকেন। দুঃখজনক যে, নৌযানগুলো বিলাসবহুল হয়েছে। হয়েছে দৃষ্টিনন্দন। কিন্তু যাত্রী নিরাপত্তা সেভাবে বাড়েনি। যাত্রী নিরাপত্তার দিকটি বরাবরই থেকেছে উপেক্ষিত। এ ব্যাপারে কঠোর নজরদারির কথা বলা হলেও তা কার্যকর হয়নি।
কিছু অসাধু ব্যাক্তি আইন-কানুনকে সবসময় বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আসছেন। এসকল দুর্ঘটনা রোধে দোষীদের নজিরবিহীন কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার। নৌযান কিংবা যে কোনো যানবাহনে সব ধরনের নিয়ম-কানুন মালিক-শ্রমিক ও যাত্রী সকলকেই মেনে চলা উচিত।
লেখকঃ গণমাধ্যমকর্মী
ইউডি/ অনিক

