বিশ্বের সর্ববৃহৎ টেলিস্কোপের মহাকাশযাত্রা

বিশ্বের সর্ববৃহৎ টেলিস্কোপের মহাকাশযাত্রা

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১ । আপডেট ১১:০৫

মহাবিশ্বে আলো বিকিরণকারী যেকোনো নিকটবর্তী নক্ষত্র ও ছায়াপথের ছবি ধারণের লক্ষ্য নিয়ে মহাকাশযাত্রার মাধ্যমে ইতিহাস গড়ল জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। বিশ্বে এখন পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে বড় মহাকাশবিষয়ক টেলিস্কোপ। দক্ষিণ আমেরিকার ফ্রেঞ্চ গায়ানা থেকে ইউরোপিয়ান আরিয়ান রকেটে চেপে মহাকাশে যাত্রা করেছে এই টেলিস্কোপ। বাংলাদেশ সময় গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ঐতিহাসিক এ অভিযানটি শুরু হয়।

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপটির নকশা ও নির্মাণে প্রায় ৩০ বছর সময় লেগেছে বলে গতকাল বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এটিকে একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে দূরবর্তী নক্ষত্রের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করা যাবে। কোনো গ্রহ বাসযোগ্য কি না, তা বুঝতেও সাহায্য করবে এ টেলিস্কোপ।

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ তৈরিতে খরচ পড়েছে কমপক্ষে ১ হাজার কোটি ডলার। দূরে অবস্থিত গ্রহগুলোর বায়ুমণ্ডল ও আবহাওয়া সম্পর্কে অনুসন্ধানের সক্ষমতা আছে এই টেলিস্কোপের। চাঁদে অবতরণকারী অ্যাপোলো নভোযানের একজন স্থপতির নামে নামকরণ করা হয়েছে টেলিস্কোপটির। এটি হাবল টেলিস্কোপের উত্তরসূরি।

টেলিস্কোপটি তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও কানাডার মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রকৌশলীরা একসঙ্গে কাজ করেছেন। এটি আগের যেকোনো টেলিস্কোপের চেয়ে শত গুণ শক্তিশালী হবে।

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অপেক্ষা করছিলেন বিজ্ঞানীরা। এ নিয়ে উদ্বেগও ছিল। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার প্রধান নিল নেলসন বলেন, ওয়েব অসাধারণ একটি মিশন। আমরা যখন বড় স্বপ্ন দেখি, তখন কী অর্জন করতে পারি তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ এটি। আমরা সব সময় জানতাম যে, প্রকল্পটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রচেষ্টা হবে। কিন্তু অবশ্যই, যখন আপনি একটি বড় পুরস্কার চান, আপনাকে একটি বড় ঝুঁকি নিতে হবে।

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে রয়েছে সাড়ে ছয় মিটার প্রশস্ত সোনালি আয়না। এটি হাবল টেলিস্কোপের চেয়ে তিন গুণ প্রশস্ত। এ ছাড়া বর্ধিত অপটিক্স চারটি অতিসংবেদনশীল যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মহাকাশের গভীরে দেখতে সক্ষম করে তুলবে।

টেলিস্কোপটির মূল লক্ষ্যগুলোর একটি হচ্ছে সাড়ে ১৩ বিলিয়ন বছর আগের, অর্থাৎ বিগ ব্যাংয়ের পরপরই সৃষ্টি হওয়া আদি নক্ষত্রের তথ্য অনুসন্ধান করা। এই বস্তুগুলোর মধ্যে পারমাণবিক বিক্রিয়া থেকেই জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রথম ভারী পরমাণুগুলোর সৃষ্টি হয়। যেমন এগুলো কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, ফসফরাস ও সালফার সৃষ্টির জন্য দায়ী।

ইউডি/ অনিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading