শিল্পী সমিতির নির্বাচন: এসব কী হচ্ছে

শিল্পী সমিতির নির্বাচন: এসব কী হচ্ছে

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ । আপডেট ১৩:২৫

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা যেনো থামছেই না। নির্বাচনে বিজয়ী সাধারন সম্পাদক জায়েদ খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে তার প্রার্থীতা বাতিল করে আপিল বোর্ড। তারা নিপুণ আক্তারকে বিজয়ী ঘোষণা করে। এবার আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্ত আটকে দিয়েছে হাই কোর্ট। বিস্তারিত লিখেছেন গাজী কাইয়ুম…

দেশের চলচ্চিত্রে অভিনয় করা শিল্পীদের সংগঠন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। শিল্পীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নানা সুযোগ-সুবিধে আনায়নে কাজ করে এই সমিতি। চলচ্চিত্র উন্নয়ন ও এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে এই সমিতি দীর্ঘদিন ধরেই ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের জানান দিয়ে যাচ্ছে। প্রতি দুবছর অন্তর অন্তর এই সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শিল্পীদের প্রতি দেশের মানুষের কৌতূহল বেশি থাকায় এই নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ও প্রচারণাও থাকে তুঙ্গে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই নির্বাচন ঘিরে দেখা যায় উত্তেজনা। বিশেষ করে টানা দুবার নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক চিত্রনায়ক জায়েদ খানকেই ঘিরেই যেনো আলোচনা বেশি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগেরও যেনো সীমা নেই। সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিলো তিনি একশ’র বেশি শিল্পীর সদস্যপদ বাতিল করেছেন। তবে এসব অভিযোগ বরাবরই উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। এবার টানা তৃতীয় মেয়াদে সাধারন সম্পাদক পদে মিশা-জায়েদ প্যানেলে নির্বাচন করেন জায়েদ। তাদের বিপক্ষে দাঁড়ায় ইলিয়াস-নিপুন প্যানেল। গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া ওই নির্বাচনে সভাপতি পদে মিশা সওদাগর পরাজিত হন কিংবদন্তি নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছে। তবে, সাধারন সম্পাদক পদে নিপুনের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ১৩ ভোটে জিতে যান জায়েদ খান। আর নির্বাচন ইস্যুতে সমালোচনাও শুরু হয় তখন থেকেই। জায়েদ খানসহ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলেন নিপুন। সবশেষ গত ৫ ফেব্রুয়ারি আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তে অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রার্থীতা বাতিল হয় জায়েদের, সাধারন সম্পাদক পদে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় নিপুনকে। রবিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এফডিসিতে শপথ গ্রহণ করেন নতুন সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক। এর একদিন পরই সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) জায়েদ খান হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন।

নির্বাচিত সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন

আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত স্থগিত, সাধারন সম্পাদক জায়েদ খান: সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের প্রার্থীতা বাতিল করে নির্বাচনী আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্ত আটকে দিয়েছে হাই কোর্ট। সেই সঙ্গে জায়েদ খানের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা যেন সৃষ্টি করা না হয়, আদালত তা নিশ্চিত করতে বলেছে। জায়েদ খানের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এ আদেশ দেয়।

৭ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে হবে: জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করে আদালত। আপিল বোর্ড, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টদের আগামী ৭ দিনের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

জায়েদ খানের আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথি সাংবাদিকদের বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খান জয়ী হলেও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিপুণ আক্তারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচনের আপিল বোর্ডকে ২ ফেব্রুয়ারি একটি চিঠি দিয়েছিল সমাজসেবা অধিদপ্তর, তাদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছিল। জায়েদ খান যে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হল, সেখানে আপিল বোর্ড তার প্রার্থিতা বাতিল করে দিল। তা করে নিপুণ আক্তারকে হাত তুলে জয়ী করে দিল। সে কারণে আমরা আদালতে আসি। আদালত এ বিষয়ে রুল দিয়েছে এবং আপিল বোর্ডর সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে। সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তরের চিঠির কার্যকারিতাও স্থগিত করেছে। এছাড়া জায়েদ খানকে যথারীতি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বাধাহীনভাবে দায়িত্ব পালনের আদেশ দিয়েছে আদালত। আদালতে জায়েদ খানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আহসানুল করিম, নাহিদ সুলতানা যুথি। অন্যদিকে চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তারের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সেলিম আজাদ।

ন্যায়বিচার পেয়েছি, আদালতকে ধন্যবাদ জানাই: এই আদেশের মাধ্যমে ‘ন্যায়বিচার’ পেয়েছেন মন্তব্য করে জায়েদ খান সাংবাদিকদের বলেন, আদালত আমার ন্যায়সঙ্গত অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে, এই জন্য আদালতকে ধন্যবাদ জানাই। আমি সুষ্ঠু সুন্দর একটি নির্বাচনের মাধ্যমে জয়লাভ করেছি। নিপুণ যত অভিযোগ করেছিলেন, সবগুলো তার মনগড়া। তিনি অরও বলেন, আমি পর পর দুইবার শিল্পীদের ভোটে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত। তৃতীয়বারও আমি এগারোটি পদে জিতেছি। তারা ১০টি পদে জিতেছে। ২৯ তারিখে তাদের দাবিতে আমাদের সবার উপস্থিতিতে ব্যালট পুর্নগণনা হলো। সেখানেও আমার জয় নিশ্চিত হয়েছে। চূড়ান্তভাবে আমাকে বিজয়ী ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। আমাদের তফসিল অনুযায়ী ৩০ তারিখে চূড়ান্ত ঘোষণা পর নির্বাচন কমিশন অকার্যকর হয়ে যায়। এরপর তারা নিজেরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে যেটা সংবিধান ও তফসিলে কোথাও উল্লেখ নাই। এরপর আমাকে কোনো নোটিশ করেন নাই সোহান ভাই। উনি নিজে নিজেই নিপুণকে নিয়ে একটা মিটিং ডেকে বিচারক হয়েও নিপুণকে হাত ধরে বিজয়ী ঘোষণা করেন। জায়েদ খান বলেন, আমি নাকি ২ হাজার টাকায় ভোট কিনেছি। মাত্র ২ হাজার টাকায় কোনো শিল্পীর ভোট কেনা যায়! এ অভিযোগ তুলে নিপুণ সমস্ত শিল্পীকে অপমান করেছেন।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে যাচ্ছেন নিপুণ: হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে আপিল করতে যাচ্ছেন নিপুণ। সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে নিপুণের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, আমরা আপিল বিভাগে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আগামীকাল (মঙ্গলবার) হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করব।

নিপুনের যত অভিযোগ: সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী নিপুণ আক্তার নির্বাচনে হেরে তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী জায়েদ খানের বিরুদ্ধে ভোট কেনা, নানাভাবে ভোটারদের প্রভাবিত করা, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ একাধিক অভিযোগ আনেন। অভিযোগ এসেছে কার্যকরী পরিষদ সদস্য পদে নির্বাচিত চুন্নুর বিরুদ্ধেও। নিপুণের আরও দাবি, ২৮ জানুয়ারি সকালে ভোটের মাঠে তাঁর পরিষদের দুই নারী প্রার্থীর সামনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা শহীদুল হারুন তাঁর কাছে চুমুর আবদারও করেন।

আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত কি ছিল: নিপুনের অভিযোগগুলোর সুরাহা করতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তর নির্দেশ দেয় আপিল বোর্ডকে। এই বোর্ড শনিবার (৫ ফেব্র“য়ারি) শিল্পী সমিতির অফিসে জরুরি বৈঠক ডাকে। বৈঠকে অংশ নিতে আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান চিঠি দেন অভিযোগকারী নিপুণ, অভিযুক্ত জায়েদ খান ও চুন্নু, দুই নির্বাচন কমিশনার জাহিদ হোসেন ও বিএইচ নিশান এবং শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চনকে।
আপিল বিভাগের প্রধান পরিচালক সোহানুর রহমান নির্ধারিত সময়ে শুনানি শুরু করতে চাইলে তখনও জায়েদ খান উপস্থিত না হওয়ায় তাঁর জন্য আরও ১০ মিনিট অপেক্ষা করেন। সাংবাদিকদের সামনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো পড়ে শোনান সোহানুর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনী তফসিলের ১১ নাম্বার অনুচ্ছেদ মোতাবেক ২৮ জানুয়ারি নির্বাচন সম্পন্ন করে ওই তারিখে ফলাফল ঘোষণা করার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান নির্বাচন কমিশন ২৯ জানুয়ারি ভোর ৫টায় ফলাফল ঘোষণা করেছেন। এটি তফসিলের পরিপন্থী ও বিধিবহির্ভূত। অথচ নির্বাচনের ফলাফলের ঘোষণাপত্রে তারিখ দেওয়া হয়েছে ২৮ জানুয়ারি। এতে প্রতীয়মান হয় যে, নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান পীরজাদা শহীদুল হারুণ পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করেছেন। নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য মৌখিকভাবে জানিয়েছেন যে, বিভিন্ন প্রার্থী ও ভোটারদের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও চেয়ারম্যান পীরজাদা বিষয়টি আমলে না নিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই দুইজন সদস্য হলেন বিএইচ নিশান, জাহিদ হোসেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিপক্ষে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগে চলচ্চিত্র শিল্পকেন্দ্রীক বিভিন্ন সংগঠন সোচ্চার হয়ে ওঠে। তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন তাঁরা। দুইজন ভোটার লিখিতভাবে জানান, সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী জায়েদ খান এবং সদস্য পদপ্রার্থী চুন্নু তাঁদের ভোট দেওয়ার জন্য নগদ অর্থ দিয়েছেন। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকজন ভোটার মৌখিকভাবে তাঁদের অর্থ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কিছু ভিডিও ফুটেজে প্রতীয়মান হয়েছে যে এই অর্থ প্রদানের অভিযোগ সত্যি।

নির্বাচনের জন্য প্রণীত তফসিলের ১০ নম্বর ধারায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা নির্বাচন কমিশন বাতিল করতে পারবে। অভিযোগ পাওয়া সত্ত্বেও বিষয়টি আমলে না নিয়ে এবং উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশন প্রধান পীরজাদা দায়িত্বজ্ঞানহীতার পরিচয় দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন আপিল বোর্ড প্রধান।
বক্তব্য পাঠ শেষে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিলের ঘোষণা দেন সোহানুর রহমান সোহান। প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নিপুণ পেয়েছিলেন ১৬৩ ভোট। তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেন বোর্ড প্রধান। একই সঙ্গে মিশা-জায়েদ প্যানেলের কার্যকরী সদস্য চুন্নুর প্রার্থিতাও বাতিল ঘোষণা করেন আপিল বিভাগের প্রধান সোহানুর রহমান সোহান।

এফডিসি এমডি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ: অন্যদিকে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ১৮ সংগঠন শিল্পী সমিতির নির্বাচনে এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমীন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা শহীদুল হারুনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেন। তাদেরই কারণে নির্বাচনের দিন প্রযোজক, পরিচালকসহ চলচ্চিত্রের ১৭ সংগঠনের কেউ এফডিসির ভেতরে ঢুকতে পারেননি। বিষয়টি অপমানজনক দাবি করে এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগ ও শিল্পী সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা হারুনকে আজীবন অবাঞ্ছিত ঘোষণাসহ কয়েকটি দাবি জানিয়ে এসব সংগঠনের উদ্যোগে এফডিসিতে বিক্ষোভ হয়। সব মিলিয়ে একটি অস্বাভাবিক ও অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করে অভিনয়শিল্পীদের মাঝে।

নির্বাচিত কার্যকরী সদস্য ফেরদৌস ও মৌসুমি

প্রসঙ্গত, এবারের শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সভাপতির দায়িত্বে থাকা মিশা সওদাগরকে হারিয়ে নতুন সভাপতি হন ইলিয়াস কাঞ্চন। সহ-সভাপতি পদে মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও মাসুম পারভেজ রুবেল জয়ী হয়েছেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন সাইমন সাদিক। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জয়ী শাহানুর । আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী জয়ী হয়েছেন। সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মামনুন ইমন জয়ী হয়েছেন। দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে আরমান, কোষাধ্যক্ষ পদে আজাদ খান নির্বাচিত হন। এ ছাড়া কার্যকরী সদস্য পদে জয়ী হয়েছেন মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে অঞ্জনা সুলতানা, রোজিনা, অরুণা বিশ্বাস, সুচরিতা, আলীরাজ, মৌসুমী, চুন্নু। আর কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলের ফেরদৌস, কেয়া, জেসমিন ও অমিত হাসান।

চলচ্চিত্রের উন্নয়ন দরকার সবার আগে: চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন নির্বাচন ঘিরে দেশের অভিনয়শিল্পীদের মাঝে যে সংঘাত তৈরি হচ্ছে তাতে চলচ্চিত্রেরই ক্ষতি হবে। এমনিতেই মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে এই শিল্প অনেকটাই হুমকির মধ্যে। তš§ধ্যে যারা নিজেদের পুঁজি লগ্নি করে নতুন নতুন সিনেমা নির্মাণে এগিয়ে আসছেন তারাও এই ধরনের কর্মকান্ড দেখে চলচ্চিত্র শিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি গঠিত হয়েছিল প্রধানত চলচ্চিত্র অভিনয়ে যুক্ত সকলের পেশাগত সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে। কিন্তু শুরু থেকেই সমিতি সেদিকে বিশেষ নজর দিতে পারেনি। দেশে আগের ন্যায় এখন তেমন সিনেমা তৈরি হচ্ছে না। আমাদের দেশের চেয়ে ঢের পিছিয়ে থাকা কোলকাতার চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি আমাদের চেয়ে এখন অনেক এগিয়ে। আমাদের সিনেমা সংশ্লিষ্টদের অন্তকোন্দল অনেকটাই দায়ী এর পেছনে। বর্তমান প্রজন্ম দেশীয় চলচ্চিত্রের প্রতি কোনো আগ্রহই দেখাচ্ছে না। এমনিভাবে চলমান থাকলে এক সময়ে হারিয়ে যেতে বসবে এই শিল্প। সিনেমাবোদ্ধারা বলছেন, দেশে জ্যামিতিক হারে কমে যাচ্ছে সিনেমা হল। কিভাবে বন্ধ হওয়া হল পুনরায় সচলসহ নতুন নতুন হল বৃদ্ধি করে বেশি বেশি সিনেমা নির্মাণ করা যায় সেটাই হলো চ্যালেঞ্জ। পরিচালক-প্রযোজকরা সে হিসেবে কাজও করছেন। তবে অভিনয় শিল্পীদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ না হলে তাদের এসব উদ্যোগ ভেস্তে যাবে। তাতে সর্বোপরি ক্ষতি হবে চলচ্চিত্র শিল্পেরই।

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading