টেক্সটাইল খাতে নেতৃত্বের সুযোগ
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ । আপডেট ১৩:৫৫
টেক্সটাইল খাতে দিনকে দিন অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। এই খাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশী দেশ ইন্ডিয়া। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইন্ডিয়া তুলনামূলক ভাবে এই খাতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আর তাই সুযোগ দেখছে বাংলাদেশ। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালে ইন্ডিয়ার টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি কমেছে ৩ শতাংশ। অন্যদিকে বহু ক্রেতা ঝুঁকছে পাকিস্তাদের দিকে। আর তাতে এক বছর আগের তুলনায় পাকিস্তানে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৪০ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইন্ডিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদন বলছে, দেশটির টেক্সটাইল ব্যবসা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালে দেশটির টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি কমেছে ৩ শতাংশ। ২০২০ সালে তা দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বাড়তি খরচ টেক্সটাইল শিল্পের জন্য বড় সমস্যা। বাংলাদেশের তুলনায় ইন্ডিয়ায় বিদ্যুৎ খরচ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি। প্রধান আমদানিকারকদের সঙ্গে দেশটির মুক্ত অথবা অগ্রাধিকার বাণিজ্যচুক্তির অভাব রয়েছে। পোশাকের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন, কানাডা ও কাপড়ের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে এ ধরনের কোনো চুক্তি না থাকা রপ্তানিকারকদের ওপর বাড়তি দামের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে ইন্ডিয়া। চীনা প্রস্তুতকারকদের তুলনায় উৎপাদনে বাড়তি সময় নেয়া ইন্ডিয়া তাই প্রতিযোগিতার দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে।
বাংলাদেশের এই খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমাদের চেয়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাসের দাম বেশি হলেও ইন্ডিয়ায় টেক্সটাইল শিল্পের প্রধান কাঁচামাল সুতার দাম প্রায় ২০ শতাংশ কম। একই সঙ্গে কম ডাইস কেমিক্যালের দামও। ফলে গ্যাস বা বিদুৎ বিল সমন্বয় করার পরও বাংলাদেশের চেয়ে তাদের খরচ কম হবে। তবে ইন্ডিয়া বা পাকিস্তানে বায়ার (বিদেশি ক্রেতা) ফিরে গেলেও বাংলাদেশের পণ্যের কোয়ালিটি ভালো। পোশাকশিল্পের সক্ষমতার ওপর বায়ারদের আস্থা অনেক বেশি। এ শক্তি কাজে লাগিয়ে আগামীতে পোশাকশিল্প বিশ্ববাজারে নেতৃত্ব দেবে দেশ এমনটাই আশা দেশীয় শিল্প উদোক্তাদের।
২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি রপ্তানি তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঘুরে দাঁড়ানোর ধারা অব্যাহত রয়েছে দেশের। সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি মাসের রপ্তানির তুলনায় ২০২১-২২ অর্থবছরের একই মাসে রপ্তানি ৩০ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২১ এর ডিসেম্বর মাসে ৪ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল, আর জানুয়ারিতে তা কিছুটা বেড়ে ৪ দশমিক শূন্য ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
এ বিষয়ে তৈরি পোশাক মালিক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল গণমাধ্যমকে বলেন, পোশাকখাতে রপ্তানির ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেলেও অনেক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিভিন্ন কাঁচামাল যেমন- টেক্সটাইল, পণ্য জাহাজীকরণ খরচ, রং ও রাসায়নিক দ্রব্যের বাজার অনেক চড়া। কিন্তু পণ্য উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির অনুপাতে পোশাকের দাম সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাড়ছে না। এছাড়া আমাদের পোশাক রপ্তানির প্রধান বাজারগুলোতে কোভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ সুনামির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। তাই ভবিষ্যতের বাজারের পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। আগামীতে সংক্রমণের গতি প্রকৃতির ওপর নির্ভর করবে এ ধারা কতটা অব্যাহত থাকে। তবে সুযোগ আরও বেশি কাজে লাগাতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এখন সাপ্লাই চেইন ঠিক রেখে সক্ষমতা বাড়ানো। এটা করতে পারলে আগামীতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বিশ্ববাজারে নেতৃত্ব দেবে।
ইউডি/সুপ্ত

