বিচার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও সতর্কতার বিকল্প নেই
মুশফিকুর ইসলাম শান্ত । বুধবার, ২ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৬:০৫
দেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বিচার কার্যক্রমে স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং বলেছেন বিচার বিভাগে কোনো দুষ্ট ক্ষতকে ন্যূনতম প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। দুর্নীতি একটি ক্যান্সার। কোনো আঙুলে যদি ক্যান্সার হয়, সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে আঙুলটি কেটে ফেলা।
দুর্নীতির ব্যাপারে তিনি কোনো কমপ্রোমাইজ করবেন না। চিহ্নিত হলে সঙ্গে সঙ্গে স্টাফ বা অফিসার যেই হোক না কেন, সাসপেন্ড করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের সব শাখার অস্বচ্ছতা, অনিয়ম নির্মূলে সবাইকে পাশে পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
দেশের সব অধস্তন আদালতের মামলাজট নিরসন ও বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা-গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে আট বিভাগের জন্য হাই কোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি করে মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। প্রতি মাসে তাদের প্রত্যেকের থেকে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হবে। পুরনো মামলাগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নিষ্পত্তির বিষয়ে সুপারভাইজ ও মনিটরিং করা হবে।
দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর রবিবার প্রথম এজলাসে বসেন হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। প্রথা অনুযায়ী ওই দিনই অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সমিতির সম্পাদক প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা জানিয়ে বক্তব্য দেন।
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী জুডিশিয়ারি ব্যবস্থাকে পাখির দেহ এবং বার ও বেঞ্চকে দুই ডানা হিসেবে অভিহিত করেন। দুইটি ডানা সমানভাবে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যেতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। প্রথাগত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য খুবই প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী।
বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে স্বচ্ছতার ব্যত্যয় ঘটলে এর মহিমা ক্ষুণ্ণ হয়। যে কারণে আদালতের কার্যক্রমে কোথাও যাতে দুর্নীতি বা অসততা বাসা বাঁধতে না পারে সে বিষয়ে সর্বাধিক সতর্কতার বিকল্প নেই। বিলম্বিত বিচার যে বিচারহীনতার শামিল এও স্বতঃসিদ্ধ। এ দুই বিষয়ের ইতি ঘটানো গেলে তা হবে আমাদের বিচারব্যবস্থার জন্য বড় অর্জন।
লেখক: কলামিস্ট
ইউডি/অনিক

