বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে একটি জঙ্গলে ১১টি গ্রামের অবদান
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ৪ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৪:২৫
বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের একটা অভিনব উপায় বের করেছেন আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টের একদল গবেষক। তারা গ্রামবাসীদের নিয়ে সমিতি করেছেন। সমিতির আয়ের ব্যবস্থা করেছেন। সেই আয় বন ও মানুষ উভয়ের কাজে লাগাচ্ছেন।
মোনিইউ ইয়াইয়া কুলিবালি ও তার গবেষক দল প্রতি মাসেই তানো-এ-এহি জঙ্গলে পশুপাখি পর্যবেক্ষণে যান৷। একটা সময় শিকারী ছিলেন তিনি৷। তার সহজাত ধারণা তাকে সাহায্য কর। এখন অবশ্য তিনি প্রাণী সুরক্ষায় কাজ করেন। বিশেষ করে বানরদের জন্য। পর্যবেক্ষণ মিশনগুলোতে এ অঞ্চল সম্পর্কে তার জ্ঞান তাকে সাহায্য করে।
আইভোরি কোস্টের দক্ষিণ-পূর্বে তানো-এ-এহি বনে ছয়টি ভিন্ন প্রজাতির বানর বাস করে। তাদের মধ্যে রয়েছে রোলোওয়ে – এক বিপন্ন প্রজাতির বানর, যা শুধু এখানেই দেখা যায়। গেল ৫০ বছরে, আইভোরি কোস্ট ৮০ ভাগেরও বেশি বনভূমি হারিয়েছে মনোকালচারের কারনে। তবে গহীন হবার কারণে তানো-এ-এহি জঙ্গল এখনো টিকে আছে। এর চারপাশে জলাভূমি, তাই বছরের একটা বড় অংশ জুড়ে এখানে ঢোকা কঠিন। এই ১২ হাজার হেক্টর এলাকা এখনো বিপন্ন স্তন্যপায়ীদের অভয়ারণ্য।

সুইস সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চ পর্যবেক্ষণের জন্য এই বৈজ্ঞানিক মিশনগুলোর উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের কাজ বন সংরক্ষণ এবং পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ। গবেষক ড. কফি জাহা আন্দ্রের ভাষায়, বনের কোন এলাকার সংরক্ষণে আরও মনোযোগী হতে হবে, তা বায়ো-মনিটরিংয়ের মাধ্যমে জানা সম্ভব। কারণ, কোথাও প্রাণীরা বেশি থাকে, কোথাও মানুষের কর্মকাণ্ড বেশি।
গবেষকরা স্থানীয় গ্রামে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করেন। যেমন এখানে তারা একটি নতুন উচ্চ ফলনশীল জাতের কাসাভা রোপণ শেখাচ্ছেন। কারণ গ্রামবাসীদের উপার্জনের যথেষ্ট উপাদান থাকলে তারা বনে সম্পদ খুঁজতে যাবেন না।
স্থানীয় নারীদের একটি দল একটি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন উদ্যোগে যোগ দিতে সম্মত হয়েছেন। স্থানীয় কৃষক নিয়ামকে আদজোবা বলেন, কাসাভা বিক্রি করে আমার যে লাভ হয় তা আমি সমিতির তহবিলে রাখি। যদি বন সংরক্ষণের কাজে অর্থ প্রয়োজন হয়, বা যদি কেউ অসুস্থ হয়, আমরা এখান থেকে টাকা তুলি। তাই এটি বন ও মানুষ উভয়ের কাজে লাগে।
আয়ের ১০ ভাগ বন সুরক্ষায় নিয়োজিত মনিটরিং দলগুলিকে দেয়ার জন্য রাখা হয়। গবেষকরা ১১টি গ্রামের মানুষকে এই প্রকল্পে যোগ দিতে রাজি করিয়েছেন। ড. আন্দ্রে বলেন, দীর্ঘমেয়াদে, স্থানীয় মানুষকেই এই কাজ চালু রাখতে হবে। এমনকি আমরা এখানে না থাকলেও। তাই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমটি কেমন করে টেকসই করা যায়, তাই শেখাচ্ছি আমরা।
১১টি গ্রাম একটিই সংরক্ষণ ও উন্নয়ন সমিতির অন্তর্গত, এবং কুলিবালি এর সভাপতি। নিজের ক্ষেতে আর গাছ না কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তিনি বনে কৃষিকাজের পরীক্ষা করছেন। কমলা, কোকো আর নারকেল গাছ বেড়ে তুলছেন। তার আয়ের সিংহভাগ আসে এখান থেকেই। মোনিইউ ইয়াইয়া কুলিবালির ভাষায়, আমি এভাবেই অবসরে যাচ্ছি। আমি যখন থাকব না, তখন আমার ছেলেমেয়েরা দেখবে যে তাদের বাবা ভালো কিছু করে গেছে এবং তারাও শিকারী হবে না। শিকারী হয়ে কতটাই বা খাবার জোটে?
গ্রামবাসী আর গবেষক দল মিলে বনটিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করার জন্য আবেদন করেছেন। এখন তারা কেবল রাষ্ট্রপতির আদেশের অপেক্ষায়।
সূত্র: ডয়চে ভেলে বাংলা
ইউডি/অনিক

