ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে বাংলার নারীরা
মুসা কালিমুল্লাহ । রবিবার, ৬ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৩:২০
বিশ্বক্রিকেটে বাংলার দামাল ছেলেদের অকুতোভয় পারফরম্যান্স সবারই জানা। টাইগারদের একের পর এক অর্জন বিশ্বক্রিকেটে তাদের নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। ১৯৯৯ সালে প্রথম বিশ্বমঞ্চে তথা বিশ্বকাপে বাংলার ছেলেরা লাল-সবুজ পতাকা উড়ায়। ভাইদের সেই পথে এবার হাঁটছেন বোনেরাও। প্রথমবারের মতো আইসিসি ওয়ানডে ক্রিকেটের বিশ্বকাপে লাল-সবুজ পতাকা উড়াচ্ছেন বাংলার নারীরা। ২০২২ সালের এবারের এই আসরের আয়োজক নিউজিল্যান্ড।
বাংলাদেশের মেয়েদের ক্রিকেটে পদার্পণ এবং আজকের অবস্থান খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যেই এসেছে। এর মধ্যে তারা এশিয়ার চ্যাম্পিয়নও বনে গেছে। বিশ্বকাপের ম্যাচের আগে সবশেষ ৫ ওয়ানডে ম্যাচে এই দল জিতেছে টানা। কিন্তু ক্রিকেট বিশ্বকে কতটা নাড়া তারা দিতে পেরেছে, সেই সংশয় আছেই। এবার তাই মেয়েদের ক্রিকেটের সবচেয়ে অভিজাত মঞ্চে নিজেদের উন্নতির প্রমাণ রাখতে চান কাপ্তান নিগার সুলতানা জ্যোতি। বাংলাদেশ অধিনায়কের মতে, এটি তাদের জন্য অনেক বড় সুযোগ।
মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ হয়ে আসছে ছেলেদের বিশ্বকাপের আগে থেকে। এবার টুর্নামেন্টের দ্বাদশ আসর। তবে বাংলাদেশের অভিষেক হচ্ছে এবারই।
বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে থেকেই অধিনায়ক নিগার বলছেন, নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর বিশাল সুযোগ এবার। নিউ জিল্যান্ডে যাওয়ার পরও আইসিসির বিভিন্ন আয়োজনেও তিনি বলেছেন, সুযোগটি কাজে লাগাতে মুখিয়ে আছেন তারা। এবার আইসিসির একটি ভিডিওতেও তার কণ্ঠে ফুটে উঠল একই আশার সুর।
এই দলের অনেকেই ১০-১২ বছর ধরে একসঙ্গে খেলে আসছেন। পারফর্মও করেছেন নানা সময়ে। নিয়মিত খেলছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও। কিন্তু বিশ্ব আঙিনায় নজর কাড়ার মতো অতটা দারুণ কিছু এখনও করা হয়ে ওঠেনি। এবার তারা রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষায় বলেছেন নিগার।
টিম বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ এটি। এই মঞ্চেই তারা বিশ্বকে দেখাতে চায় যে তারা উন্নতি করেছে ও বিশ্ব ক্রিকেটে প্রতিযোগীতা করতে পারে। গোটা বিশ্বকে বাংলার নারী ক্রিকেটের উন্নতি ও অগ্রগতি দেখানোর বড় সুযোগ এটি। এটা দেখানোর বিশাল সুযোগ এবার। নিগারের মতে, বিশ্বকাপের মতো জায়গায় তারা ভালো কিছু করতে পারলে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের আরও অনেক মেয়ে আগ্রহী হবে ক্রিকেটে।
তিনি বলেছেন, আমরা এখানে নিজেদের সেরাটা দিতে চাই এবং তরুণ ক্রিকেটারদের উৎসাহ জোগাতে চাই, যারা আমাদের ভালো পারফরম্যান্স দেখতে মুখিয়ে আছে।
বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ অবশ্য অনেক কঠিন। নিউ জিল্যান্ডে আগে কখনোই সফরে যাওয়া হয়নি তাদের। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউ জিল্যান্ডের মতো দলের সঙ্গে ওয়ানডে খেলার সুযোগ হয়নি আগে কখনোই।
বাংলাদেশের ছেলেরা খুবই ভালো পারফরম্যান্স করলেও এশিয়ার শিরোপা ধরতে পারে নি একবারও । দুবার কাছে থেকে ঘুরে এসে রানার্সআপ হয়েই থাকতে হয়েছে সাকিবদের। অন্যদিকে নারীরা ভারতকে হারিয়ে সেই শিরোপা নিয়ে এসেছেন।
বাংলাদেশ দল এবারের আসরে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই যে দারুণ কিছু করে ফেলবে তা কিন্তু নয়। তবে এটা নারীদের সর্বোচ্চ এই আসরে নিজেদের অবস্থান বিশ্বক্রিকেটে নতুনের বার্তাই দিলো জাহানারারা। মাঠের ক্রিকেটের ফল যাই হোক বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা মেলে ধরার অনুভ‚তি যে অন্যরকম।
এভাবে একের পর এক বিশ্বমঞ্চে খেলে একদিন হয়তো বিশ্বকাপও জয় করবে মেয়েরা। দেশের খেলাধুলা অঙ্গনে নারীদের শক্ত অবস্থানও জানান দিচ্ছে। ফুটবলে বাংলার নারীরা অভ‚তপূর্ব সাড়া ফেলেছে গেলো ক’বছর। দাবা-শুটিং, অ্যাথলেটিক্সেও তাদের অংশগ্রহণ আগ্রহের শীর্ষে। আর খেলাধুলার প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলার এভাবে অংশগ্রহণ এদেশের নারীদের সার্বিক অবস্থানও তুলে ধরে।
লেখক: ক্রীড়া বিশ্লেষক
ইউডি/সুপ্ত

