পৃথিবীকে বাঁচাতে জলবায়ু পরিবর্তনে নজর দিতেই হবে
গাজী কাইয়ুম । রবিবার, ৬ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৩:৪০
জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়। আর এই পরিবর্তন এত দ্রুতই ঘটছে যে প্রকৃতি ও মানুষের অভিযোজনের সক্ষমতাকে তা ছাপিয়ে যাবে। এছাড়াও বন্যা, দাবানল আর খরায় লাখো মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়বে। হারিয়ে যাবে অনেক প্রজাতি। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেলের (আইপিসিসি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্যই প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিবেদনে বিশ্বনেতাদের আরও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন কৌশল অবলম্বনের সুপারিশ করা হয়েছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের দিকে পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রকে একযোগে নজর দিতেই হবে।
৬৭টি দেশের ২৭০ জন গবেষকের রচিত এই প্রতিবেদনকে ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার ক্ষেত্রে ব্যর্থ নেতৃত্বের একটি লজ্জাজনক ধারাবাহিকতা ও মানবিক দুর্দশার একটি মানচিত্র; আখ্যা দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এরই মধ্যে খরা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও অন্যান্য দুর্যোগে যে ক্ষতি হয়েছে, তার গতি কমানোর চেষ্টায় নগর, খেত-খামার ও উপকূল রক্ষায় যতটুকু করণীয় তা করছে না রাষ্ট্রগুলো। আইপিসিসি বলছে, ফসলহানি আরও ব্যাপক মাত্রা নিতে পারে, যার ফলে আফ্রিকা ও এশিয়ার জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষুধা ও পুষ্টিহীনতার হুমকি আরও বেড়ে যেতে পারে। পরিবেশের ব্যাপক রদবদলে খাপ খাওয়াতে না পেরে মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে উদ্বাস্তু হয়ে পরতে পারে, যা একটি বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হবে।
গবেষকেরা প্রতিবেদনে লিখেছেন, এ ধরনের দুর্যোগ ঝুঁকি কমিয়ে আনতে রাষ্ট্রগুলোর উচিত এখনই এবং দ্রুত ও ব্যাপক মাত্রায় কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন ও অন্যান্য গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ কমানো। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, অভিযোজনের জন্য মানবজাতি তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করলে সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার কারণে হুমকির মুখে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার সামর্থ্য অনেক দেশেরই থাকবে না। প্রতিবেদনে জানানো হয়, দরিদ্র দেশগুলো ধনী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ধনী দেশগুলোর তুলনায় খরা, বন্যা ও ঝড়ে ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোতে ১৫ গুন বেশি মানুষ মারা গেছে, যাদের মধ্যে আফ্রিকা ও এশিয়ার লোকজনও রয়েছে। ১৯৫ দেশের সরকারের অনুমোদন পাওয়া এই প্রতিবেদনে এটা স্পষ্ট করা হয়েছে যে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমার চেয়ে ভগ্নাংশ পরিমাণ তামপাত্রা বাড়লেও প্রকৃতি ও মানবজাতির জন্য জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি সৃষ্টির গতি বেড়ে যাবে। এই শতকের শেষ নাগাদ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বিশ্বের ৮ শতাংশ ফসলি জমি ‘ব্যবহার অযোগ্য’ হয়ে উঠতে পারে।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
ইউডি/সুপ্ত

