যুদ্ধ নয়, পৃথিবী হোক শান্তিময়

যুদ্ধ নয়, পৃথিবী হোক শান্তিময়

আসাদ এফ রহমান । রবিবার, ৬ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৩:৫০

গত দু’বছর মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ পৃথিবীকে পুরো স্তম্ভিত করে দিয়েছে। নতুন করে মানুষ আবার যখন স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরা শুরু করেছে ঠিক তখনই নতুন করে আরও একটি বিপর্যয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। ইতোমধ্যে দুদেশের হামলা ও প্রতিরোধে প্রকম্পিত হচ্ছে ইউক্রেন। এই যুদ্ধ যদি তার মাত্রা ছাড়ায় তবে সেটা বয়াবহ পরিণতি সৃষ্টি করবে তা বরাই বাহুল্য। কেননা এখানে যুদ্ধ তখন রাশিয়া আর ইউক্রেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইউক্রেনকে সহযোগীতা করার জন্য আমেরিকা, ব্রিটেন, ন্যাটো জোটসহ বহু দেশই আগ্রহী। রাশিয়াও তাদের মিত্র দেশগুলোকে পাশে পাবে। আর যদি তাই হয় তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ছায়া যুদ্ধই এখন পরিলক্ষিত হচ্ছে বলা যায়।

মহামারি করোনা এখনও পৃথিবী থেকে উধাও হয়ে যায় নি, এর মধ্যে এমন বিপর্যয় পৃথিবীর স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেবে। একটা যুদ্ধ মানেই বহু ক্ষতি। মানুষের ক্ষতি, জানমালের ক্ষতি। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হুমকি। তাই যুদ্ধ না হয়ে আলোচনা-সমঝোতার মধ্যে সমাধান খুঁজে নেয়াই প্রত্যাশিত।

রাশিয়া পারে পৃথিবীতে এই শান্তির বার্তা পৌঁছাতে। তারা যুদ্ধের দিকে না গিয়ে সমাধানের পথে হাঁটলে পরিস্থিতি আবারও স্বাভাবিক হবে এটা নিশ্চিত।
সবশেষ গত সোমবার দুপক্ষ বৈঠকে বসলেও কোনো সিদ্ধান্তে তারা পৌঁছাতে পারে নি। তবে, আশার কথা হচ্ছে দুপক্ষ নিজেদের দাবি গুলো শুনেছে এবং সেই আলোকে তাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের কাছে পরামর্শ শোনার জন্য সময় চেয়েছে। যেটা এই যুদ্ধ পরিস্থিতির সবচেয়ে ইতিবাচক দিক।
এই যুদ্ধের শুরুটা কখন থেকে। দেখা যায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ার সেনারা ইউক্রেনে অভিযান শুরু করে। কিন্তু তারও দুই মাস আগে থেকেই ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় ২ লাখ সেনা মোতায়েন রাখে রাশিয়া। আর তখন থেকেই এর দামামা বাজে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো সার্বক্ষণিত পর্যবেক্ষণ করতে থাকে পরিস্থিতির ওপর। আমেরিকা ও ব্রিটেন সবসময় বলতেই থাকে যে কোনো মুহূর্তে যুদ্ধ শুরু হবে। আর সেটাই সত্য হলো।

২৪ ফেব্রুয়ারি এই অভিযান শুরু হয়। থেমে থাকে নি ইউক্রেনও। গত ১০ দিন ধরে দুপক্ষের টানা আগ্রাসনে প্রকম্পিত গোটা ইউক্রেন। জাতিসংঘ বলেছে, এ পর্যন্ত ৫ লাখেরও বেশি ইউক্রেনীয় নাগরিক দেশ ছেড়েছেন। এর বেশির ভাগই পোল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরুর পরপরই এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকে বিভিন্ন দেশ। রাশিয়ার ব্যাংক, তেল শোধনাগার ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের ওপর আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে থাকে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা শুরু হয়।
নিষেধাজ্ঞার পরও কোনো অবস্থাতেই থামছেন না পুতিন। তার সিদ্ধান্তে অটল থেকে ইউক্রেনে অভিযান চালাচ্ছেন। পরমাণু অস্ত্র ‘সর্বোচ্চ সতর্ক’ অবস্থায় রাখার নির্দেশও দিয়েছেন। তার এমন নির্দেশে লড়েচড়ে বসেছে আমেরিকা, ব্রিটেন, ইইউ, চীনসহ বহু দেশ। তারা বলছে পুতিনের এমন নির্দেশনা যুদ্ধের মোড় অন্যদিকে টেনে নিয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যুদ্ধের ইতি না টানলে পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থায় যে পৌঁছাবে এটা অবশ্বম্ভাবী।

কেননা আমেরিকা ইতোমধ্যেই আগ্রাসন নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তারা যুদ্ধের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ব্রিটেনও বলছে তারা কোনো অনৈতিক সিদ্ধান্ত বরদাস্ত করবে না। ন্যাটো শুরুতে সেনা মোতয়েত করবে না বলে জানালেও এখন বড় সিদ্ধান্তের দিকেই যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। চীনও এই আগ্রাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন। সব মিলিয়ে এই যুদ্ধ বন্ধ না হলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হবে যা বড় ভয়াবহ যুদ্ধেরই প্রতিধ্বনি বাজাবে। বিশ্লেষকদের মতে এই যুদ্ধ আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করার আগেই জাতিসংঘকে কাজ শুরু করতে হবে। তারা উভয় পক্ষকে একটি সুন্দর সমাধানের জন্য রাজি করাতে পারে তাদের ক‚টনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

ইউডি/সুপ্ত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading