বলিউডে পার্শ্বচরিত্রে অনবদ্য তারা
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ৮ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৩:৫৫
অনেক দর্শকই পার্শ্বচরিত্রের অভিনেতাদের নাম মনে রাখেন না, কিন্তু চেহারা চেনেন ঠিকই। কারণ, সিনেমাটা হয় নায়ক-নায়িকাকেন্দ্রিক। বলিউডের সিনেমায় স্বল্প সময়ের উপস্থিতি থাকলেও অভিনয়গুণে মুগ্ধ করেন, এমন কয়েকজন অভিনয়শিল্পীকে নিয়ে এই প্রতিবেদন।

মনোজ যোশি
প্রায় দুই যুগ আগে বলিউডে ক্যারিয়ার শুরু করেছেন মনোজ যোশি। তবে বছর দশেক আগে শুরু করেছিলেন হিন্দি সিরিয়ালে অভিনয়। মারাঠি থিয়েটার দিয়েই তার কর্মজীবন শুরু। কর্মশৈলী দিয়ে জায়গা করে নেন গুজরাট ও হিন্দি থিয়েটারে। ১৯৯৮ সাল থেকে ৭০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, বেশির ভাগই কমেডি চরিত্রে।
পরিচালক প্রিয়দর্শনের বেশির ভাগ সিনেমাতেই তাকে দেখা যায়। ‘হাঙ্গামা’, ‘হালচাল’, ‘ধুম’, ‘ভাগাম ভাগ’, ‘ফির হেরা ফেরি’, ‘চুপ চুপ কে’, ‘ভুল ভুলাইয়া’, ‘বিল্লু’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমাগুলো যারা দেখেছেন, তারা জানেন কী দুর্দান্ত অভিনয় করেন তিনি। সিনেমা ও সিরিয়ালে সমানতালে বিভিন্ন চরিত্রে দেখা গেছে এই অভিনেতাকে। পেয়েছেন পদ্মশ্রী পুরস্কার।

আসরানি
তার সিনেমা ক্যারিয়ারের বয়স ৫০ বছরের বেশি। অভিনয় করেছেন ৩৫০টির বেশি হিন্দি সিনেমায়। তাকে বলিউডের অন্যতম সেরা কৌতুকাভিনেতা এবং চরিত্রাভিনেতা বললেও অত্যুক্তি হবে না। সিনেমায় চরিত্র হোক যেমন তেমন, জমিয়ে ফেলতে দেরি করেন না। প্রিয়দর্শনের প্রায় সবগুলো সিনেমাতেই আসরানি ছিলেন। তার বয়স এখন ৮২। স্বাভাবিকভাবেই আর আগের মতো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাকে শেষ দেখা গেছে গত বছর ‘বান্টি অউর বাবলি ২’ সিনেমায়।

সৌরভ শুক্লা
‘জলি এলএলবি’ সিনেমায় মন জয় করেছিলেন ‘জাস্টিস সুন্দরলাল ত্রিপাঠী’ ওরফে সৌরভ শুক্লা। পার্শ্বচরিত্রে এসেও পর্দায় দেখা যায় তার সপ্রতিভ অভিনয়-দৌড়। এরপর ‘পিকে’র সেই তপস্বী মহারাজ, ‘লাগে রাহো মুন্না ভাই’ সিনেমার বটুক মহারাজ। তিনিই আবার ‘বরফি’ সিনেমার সেই মজাদার পুলিশ অফিসার সুধাংশু দত্ত কিংবা ‘রেইড’-এর তাউজি।
ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে এসে সৌরভ শুক্লা সৌরভ ছড়িয়েছেন নিয়মিতই। থিয়েটার থেকে অভিনয় শুরু। বলিউডে প্রায় ৩০ বছরের ক্যারিয়ার। শুধু অভিনয়ই কেন, পরিচালনা, লেখালেখি সবই করেছেন এবং করছেন সমানতালে।

বিজয় রাজ
‘ধামাল’ সিনেমায় তার চরিত্রের ব্যাপ্তি ছিল বড়জোর পাঁচ-ছয় মিনিট। যেটুকু সময় তিনি পর্দায় ছিলেন, হাসির বন্যা বয়ে গেছে। তার একেকটা সংলাপ, এক্সপ্রেশন লুফে নিয়েছেন দর্শক। ‘ধামাল’ মুক্তি পেয়েছিল ১৫ বছর আগে, এখনো সিনেমাটার কথা ভাবলে সবার আগে বিজয় রাজের ওই কন্ট্রোলরুম থেকে দেওয়া সংলাপ আর সিকোয়েন্সগুলোর কথাই মনে পড়ে।
এই মানুষটাকে নির্মাতারা শুধু কমেডিয়ান বানিয়ে রেখেছেন অনেকগুলো বছর ধরে। অথচ ‘গাললি বয়’-এর মতো সিনেমায় অল্প সময়ে সিরিয়াস চরিত্রে কী দুর্দান্ত অভিনয়টাই না করেছেন তিনি! কিংবা ‘কালাকান্দি’, ‘দেড় ইশকিয়া’ বিজয় রাজের মেধার আরও কিছু নমুনা। বলিউডের ক্যারিয়ার হয়ে গেল প্রায় ২৩ বছর। ‘গাঙ্গুবাই কাথিয়াওয়াড়ি’ সিনেমাতেও দেখা যাবে তাকে।
আরও আছেন
এ ছাড়া পার্শ্বচরিত্রে অনবদ্য অভিনেতার এই তালিকায় রয়েছেন রাজপাল যাদব, কে কে মেনন, যশপাল শর্মা, নিরাজ কবি, আশুতোষ রানা, রাজেশ শর্মা, ব্রিজেন্দ্র কালা, পবন মালহোত্রা, অতুল কুলকার্নি, ভিপিন শর্মা, পিতোবাস ত্রিপাঠি, আন্নু কাপুর, রজত কাপুর, আদিত্য শ্রীবাস্তব, সায়াজি শিন্ডে, মোহন আগাশে, বিনয় পাঠক, জিশান আইয়ুবদের মতো অভিনেতারা।
ইউডি/অনিক

