মহামারি কাটে নি, স্বাস্থ্যবিধিতে নজর দিতে হবে
মিলন গাজী । মঙ্গলবার, ৮ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৫:০০
দেশে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। তা সত্ত্বেও সবাইকে মাস্ক পরতে হবে, মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। এখনই মাস্ক খুলে ফেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। গত ১৫ দিন ধরে ধারাবাহিকভাবেই কমে আসছে করোনার প্রকোপ। ওই দিনগুলোতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নেমে আসছে। পাশাপাশি সুস্থ রোগীর সংখ্যাও অনেক বাড়তে শুরু করেছে। তবে সবচেয়ে মূল বিষয় হচ্ছে দেশে টিকা প্রদানের চমক। সরকারের পক্ষ থেকে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি একযোগে এক কোটি মানুষকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আশ্চর্য হলেও সত্য যে ওই একদিনে সারা দেশে টিকাগ্রহণের এক উৎসব হয়। ওই ২৪ ঘন্টায় দেশে ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ একযোগে টিকা গ্রহণ করে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ডোজ ও বুস্টার ডোজ তো চলমান ছিলই।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারিতে চার শতাংশের মতো শনাক্তের হার ছিল, কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারিতে তিন দশমিক ৬৫ শতাংশ, ধীরে ধীরে তা তিন দশমিক ৩৫ শতাংশ হয়েছে। এভাবে কমতে কমতে গতকাল শনাক্তের হার ছিল দুই দশমিক ১১ শতাংশ। অর্থাৎ, এই প্রথম চলতি বছরে দুই থেকে তিন শতাংশের ঘরে রয়েছে শনাক্তের হার। এভাবে যদি সংক্রমণ কমতে থাকে তাহলে অচিরেই আমরা দুই শতাংশের নিচে চলে আসতে সক্ষম হবে। টিকা গ্রহণ ও টিকা প্রদানের এই মিশ্রণই দেশের করোনার প্রকোপ ঠেকাতে সবচেয়ে বড় পাথেয় হিসেবে কাজ করছে। তাইতো দেশে এখন সবকিছুই স্বাভাবিক ভাবেই চলছে। তবে, টিকা গ্রহণ করেই ক্ষান্ত হলে চলবে না। মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। মাস্ক দিয়ে এখনও চলাফেরা করতে হবে।
করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। দীর্ঘদিন আমাদের এগুলো মেনে চলতে হবে। এখনি মাস্ক খুলে ফেলার মতো কোনও কিছু হয়নি। ইতোমধ্যে অনেকেই ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছেন। তারা ভাবছেন, এর প্রভাব কমে গিয়েছে। রোগী শনাক্ত এবং নমুনা পরীক্ষা কমে গিয়েছে। এজন্য অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না বা মাস্ক খুলে ফেলার পেছনে যুক্তি দিচ্ছেন। কিন্তু আমাদের খেয়াল করতে হবে একেবারেই শেষ হয়ে যায় নি করোনার প্রকোপ। মানুষ কিন্তু আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারাও যাচ্ছে। ভাইরাসের মিউটেশন হচ্ছে, ভাইরাসের এখনো ইভোল্যুশন হচ্ছে। আবারও নতুন করে কোনও ভ্যারিয়েন্ট আসবে কিনা সে শঙ্কাটা থেকেই যাচ্ছে। ওমিক্রনের যেসব নতুন নতুন উপধরন বিএ.২ বা অন্য কিছু, তা চলে আসার আশঙ্কা থাকবে।
হাত ধোয়া, মুখে মাস্ক ব্যবহার ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার মতো কিছু আপাতদৃষ্টিতে সহজ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই করোনার সংক্রমণ অনেকাংশেই প্রতিরোধ করা যায়। তবু মানুষ সহজে এগুলো মানছে না।স্বাস্থ্যবিধিগুলো নিজের প্রয়োজনে যেমন মানা দরকার, অন্যের সুরক্ষার জন্যও তেমনি, এমনকি বেশি মানা দরকার। বিশেষত, অপেক্ষাকৃত কম বয়সের মানুষ, যাদের এ রোগ হলেও মারাত্মক হওয়ার ঝুঁকি কম বা সংক্রামিত হলেও যাদের উপসর্গ কম বা নেই, অন্যদের প্রতি বিবেচনা থেকেই বরং তাদের স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলা উচিত। এ ক্ষেত্রে নিজের স্বার্থ থেকে সমাজের কল্যাণকে যে অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে হবে, তা তো পরিষ্কার।
সামাজিক আচরণে পরিবর্তন আনা সহজ নয়। বাংলাদেশে এর আগে সামাজিক সচেতনতা বাড়িয়ে বড় বড় সাফল্য এসেছে। যেমন: আধুনিক জš§নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ, শিশুদের টিকা দেওয়া বা খাবার স্যালাইন দিয়ে উদরাময়ের চিকিৎসা। এসবের ফলে সামাজিক উন্নয়নের সূচকগুলোয় অনেক অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু নিজের বা পরিবারের স্বার্থই বড় প্রণোদনা হিসেবে কাজ করেছে। তা না হলে শিশুবিবাহ বা নারী নির্যাতন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলো না কেন? তা ছাড়া আচরণে পরিবর্তন আনতে সময়ও লেগেছে। তাই করোনা মহামারি ঠেকাতেও আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবো বলে বিশ্বাস রয়েছে।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
ইউডি/সুপ্ত

