গল্প: কচুরিপানার ফুল

গল্প: কচুরিপানার ফুল

এন এইচ কে মিঠু । সোমবার, ২১ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১১:২২

সকাল বেলায় ঘুম থেকে ওঠে অফিস যাওয়া সব থেকে বিরক্তিকর শুভর। ঘুম যেন ভাঙতেই চায় না। তারপরও যেতে হয়। সময় মতো অফিসে না গেলে ঝামেলারও শেষ নেই। আরেকটি বিষয় শুভর ক্লান্তি দূর করে, চলার গতি বাড়িয়ে দেয় একজন। সে হলো জয়া।

জয়া ও শুভর পরিচয় যেভাবেই হোক, বলা যেতে পারে একধরনের হঠাৎ দেখা এবং সে দেখা থেকেই, ভালোলাগা ভালবাসার একতরফা সূত্রপাত শুভর। জয়াকে রাগাতে খুব ভালোলাগতো, কারণ জয়া রেগে গেলে আরও বেশি সুন্দর হয়ে যেত।

তবে জয়ার রাগকে শুভ ভীষণ ভয় পেত। জয়ার রাগ উঠলে থামানো অনেক কষ্টের। যে কারণে জয়াকে ভালোবাসলেও বলতে শুভর সময় লেগেছে অনেক। অনেক বুঝাতে চেয়েও শুভ ব্যর্থ। সে যা বুঝে তাই। তারপরও শুভর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।সত্যিই জয়াকে ভীষণ ভালবেসে ফেলেছে। জয়াও শুভকে অনেক বুঝাতে চেষ্টা করেছে, আপনি আমায় ভালোবাসবেন না, পছন্দ করি না, বিয়ে ঠিক হয়ে আছে ইত্যাদি ইত্যাদি।কিন্তু তারপরও শুভ নাছোড়বান্দা তার কথা আমি আমার প্রেমের হাল ছাড়তে রাজি না।

তারা দু’জনই পানি, নদী, গাছপালা এসব খুব পছন্দ করে। নদীর পাড়ে অনেকক্ষণ বসে গল্প আড্ডা দিচ্ছে, বাদাম, ঝাল মুড়ি খাচ্ছে।শুভ কয়েকবারই জয়াকে ভালোবাসি কথাটি বলেছে কিন্তু জয়ার মুখ থেকে আর শোনা হয়নি ভালোবাসি তোমায় কোথাটি। নদীর ঘাটে অনেক নৌকা ছিল জয়ার খুব ইচ্ছে নৌকা দিয়ে ঘুরবে শুভকে বললো। শুভ সাথে সাথেই একটি একটি নৌকা ঠিক করল। দুজন নৌকা দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে,জয়া কচুরিপানার কিছু ফুল ছিড়ে শুভকে দিল। বললো এখানে তো গোলাপ ফুল নেই, নদীর মাঝে গোলাপ ফুল কোথায় পাবো।

তাই কচুরিপানার ফুলই দিলাম। গোলাপ দেইনি বলে ভেবো না আমি তোমায় ভালোবাসি না। আমিও তোমায় অনেক ভালবাসি শুভ। শুভ এ কথা শুনে হতভম্ব। এই প্রথম আপনি থেকে তুমি বলা এবং ভালোবাসি কথাটি শোনা। শুভ বিশ্বাসই করতে পারছে না। সে যে নৌকায় আছে ভুলে গেছে এবং সাঁতারও পারে না। খুশিতে আত্মহারা হয়ে লাফালাফি করছে। এমন সময় জুতো স্লিপ কেটে পানিতে পড়ে যায় শুভ। নৌকার সাইডের কাঠটি ধরে ঝুলে আছে বাঁচার চেষ্টায়। নাক মুখ দিয়ে পানি যাচ্ছে চিৎকার করে বাঁচার আকুতি প্রকাশ করছে।

পপি দৌড়ে এসে হাত ধরে টেনে তোলার চেষ্টা করছে। চিৎকার করে মাঝিকে ডাকে মাঝি দৌড়ে আসে। দুজন মিলে অনেক কষ্টে টেনে নৌকায় তুলে। জয়ের পেটের ভিতর বেশকিছু পানি চলে যায়। মাঝ পেটের উপর আলতোভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে, মুখ দিয়ে পানি বেরিয়ে আসে। আস্তে আস্তে জয় স্বাভাবিক হতে লাগলো। জয় বাঁচে যাবে এটা তার কাছে কল্পনার মতো লাগছে।

তার ধারণা ছিল উপরের ভিসা বুঝি এবার লেগে গেছে। পপি রেগে আগুন বলে ওঠে তুমি কি পাগল নাকি? কেনো আমি আবার কি করলাম। এভাবে কেউ লাফ দেয়, আরে আমি লাফ দিতে যাবো কেনো, যেহেতু আমি সাঁতার জানি না। আসলে বিষয়টা হলো জুতো স্লিপ কেটে পড়ে যাই। আমার কিছুই করার ছিল না।আর তুমি যেভাবে ভালোবাসার কথা বলছিলে যে অন্যমনস্ক হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। বিশ্বাস হচ্ছিল না আমার। আমি সত্যিই তোমাকে অনেক ভালোবাসি।

ইউডি/অনিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading