২০৩০ সালে বিশ্ব অর্থনীতির সেরা ২৪-এ বাংলাদেশ
কিফায়েত সুস্মিত । শুক্রবার, ২৫ মার্চ ২০২২ । আপডেট ০৯:০০
করোনা মহামারির মারাত্মক প্রভাবের কারণে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং মানুষের আয় কমে যাওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। আর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশও একটি ডিজিটাল অর্থনীতিতে পরিণত হবে। যদিও যুক্তরাজ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনোমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর) তাদের সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে বলেছে, ২০৩৬ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৪তম বড় অর্থনীতিতে পরিণত হবে বাংলাদেশ। বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৪২তম বলে। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ গড়ে ৭ শতাংশের ওপরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি প্রবৃদ্ধি) অর্জন করেছে। আর এর ফলে তিন দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৯ গুণ বেড়ে ২০২০ সালে ৩৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ছিল মাত্র ৩৫ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ৩০০ ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬৪ ডলার হয়েছে। বেড়েছে প্রায় সাত গুণ। দারিদ্র্যের হার ৫৮ শতাংশ থেকে কমে ২১ শতাংশে নেমে এসেছে।
গত তিন দশকে বাংলাদেশের মানুষের আয়ুও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; ৫৮ বছর থেকে ৭২ দশমিক ৬ বছর হয়েছে। প্রায় ১৫ বছরের বৃদ্ধি হয়েছে। এনএইচডিআর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলে পড়ার প্রত্যাশিত বছরগুলো-যে বছরগুলো স্কুল বয়সের একটি শিশু শিক্ষা গ্রহণের আশা করতে পারে-সেটা ১৯৯০ সালের ৫ বছর থেকে ২০১৯ সালে ১১ বছর হয়েছে। ভারতের ৭০ বছর এবং পাকিস্তানের ৬৭ বছরের বিপরীতে বাংলাদেশ বর্তমানে ৭২ দশমিক ৬ বছর আয়ু অর্জন করেছে। বাংলাদেশে ১০০ জন জীবিত জšে§র মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী মৃত্যুর হার ২৮, ভারতে ৪৮ এবং পাকিস্তানে এই হার ৮১।
বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা ও সম্পৃক্ততা লক্ষণীয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৮৭ জন শান্তিরক্ষী ৪০টিরও বেশি দেশে জাতিসংঘের মিশনে অংশগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে মোট ৬ হাজার ৭৩১ জন শান্তিরক্ষী রয়েছেন। মহামারির কারণে, অবৈতনিক পরিচর্যা কাজের জন্য মহিলাদের সময় বরাদ্দ ৫১ শতাংশ এবং অবৈতনিক গৃহকর্মের জন্য ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, করোনার প্রভাব প্রান্তিক এবং গরিব জনগোষ্ঠীর ওপর বেশি হবে এবং তাদের এটি থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে।
বেশির ভাগ শিক্ষা এখন অনলাইনে থাকায় দরিদ্র পরিবারের ছাত্ররা অসুবিধায় পড়বে বলে প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে করোনার কারণে যুবকদের চাকরি হারানো সংখ্যা ১১ লাখ থেকে ১৬ লাখ হতে পারে।
সরকারের এনএইচডিআর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মোট দরিদ্রের সংখ্যা নিয়ে দুটি গবেষণা সংস্থার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণার তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, দেশে মোট দরিদ্রের সংখ্যা এখন ৬ কোটি। এর মধ্যে ১ কোটি ৫৮ লাখ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে।

