রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে বদলেছে বাংলাদেশের ভাগ্যমত

রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে বদলেছে বাংলাদেশের ভাগ্যমত

মুনতাসীর মামুন । রবিবার, ২৭ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৬:২০

২০২১ সাল বাঙালি জাতির জন্য অনেক বড় একটি প্রাপ্তির বছর। ২০২১ সালে আমরা পালন করেছি স্বাধীনতার সুর্বণ জয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষ। বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রম করেছে। যা একজন বাঙালির জন্য অনেক বড় পাওয়া। এছাড়াও এই বছরে বাংলাদেশের মানুষ একটি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পেয়েছে। কারণ এই সালটাই যে আজ থেকে দশ বছর আগে একটি লক্ষ্য ছিলো। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ভিশন ২০২১-এর ঘোষণা দেন তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

ভিশন ২০২১-এর প্রধান লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ছিলো নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা, যেখানে চরম দারিদ্র্য সম্পূর্ণভাবে বিমোচিত হবে। সেজন্যে একগুচ্ছ সহায়ক কাজ নিশ্চিত করতে হবে। যেমন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সমঅধিকার নিশ্চিত করা, এমনভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপরেখা প্রণয়ন করা যাতে মৌলিক চাহিদাসমূহ পূরণের নিশ্চয়তা থাকে, জনগণ ও শ্রমশক্তির সুরক্ষার বন্দোবস্ত থাকে, দারিদ্র্য দূরীকরণের ব্যবস্থা থাকে, খাদ্য, পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ব্যবস্থা থাকে, জ্বালানি ও বিদ্যুতের নিশ্চয়তা থাকে, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, আবাসন, পরিবেশ, পানিসম্পদের নিরাপত্তা থাকে, এবং সার্বিকভাবে জনজীবন ও সম্পদের সুরক্ষা থাকে, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করা, যাতে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত থাকে, জাতীয় সংস্কৃতি ও পররাষ্ট্রনীতি দৃঢ়তর হয়।

ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে সমবায়কে কাজে লাগিয়ে ২২টি লক্ষ্য অর্জনে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছিল বর্তমান সরকার। ২২টি লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে, প্রতি গ্রামে সমবায় সমিতি গড়ে সমিতির সদস্যদের সন্তান কিংবা পোষ্যদের প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা। এভাবে ২০১০ সালের মধ্যে প্রাথমিক স্তরে ভর্তির হার ১০০ ভাগ নিশ্চিত করা। ২০১০ সালের মধ্যে দেশের সব মানুষের জন্য নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা। ২০১২ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা। ২০১৩ সালের মধ্যে প্রতিটি বাড়িকে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার আওতায় আনা। ২০১৩ সালে বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার হবে ৮ শতাংশ। ২০১৭ সালে এই হার ১০ শতাংশে উন্নীত করে অব্যাহত রাখা। ২০১৩ সালে পর্যায়ক্রমে স্নাতক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা। ২০১৫ সালের মধ্যে সকল মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা। ২০১৫ সালে জাতীয় আয়ের বর্তমান হিস্যা কৃষিতে ২২, শিল্পে ২৮ ও সেবাতে ৫০ শতাংশের পরিবর্তে হবে যথাক্রমে ১৫, ৪০ এবং ৪৫ শতাংশ করা। ২০২১ সালে বেকারত্বের হার বর্তমান ৪০ থেকে ১৫ শতাংশে নেমে আসবে। ২০২১ সালে কৃষি খাতে শ্রমশক্তি ৪৮ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়াবে ৩০ শতাংশে। ২০১১ সালে শিল্পে শ্রমশক্তি ১৬ থেকে ২৫ শতাংশে এবং সেবা খাতে ৩৬ থেকে ৪৫ শতাংশে উন্নীত হবে। ২০২১ সাল নাগাদ দারিদ্র্যের হার ৪৫ থেকে ১৫ শতাংশে নামবে। ২০২১ সালে তথ্য প্রযুক্তিতে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে বাংলাদেশ পরিচিতি লাভ করবে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের ৮৫ শতাংশ নাগরিকের মানসম্পন্ন পুষ্টি চাহিদা পূরণ নিশ্চিত হবে। ২০২১ সালের মধ্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতিদিন ন্যূনতম ২১২২ কিলো-ক্যালরির উপর খাদ্য নিশ্চিত করা হবে। ২০২১ সালে গড় আয়ুষ্কাল ৭০ এর কোঠায় উন্নীত করা। ২০২১ সালে শিশু মৃত্যুর হার বর্তমান হাজারে ৫৪ থেকে কমিয়ে ১৫ করা। ২০২১ সালে মাতৃমৃত্যুর হার ৩.৮ থেকে কমে ১.৫ শতাংশ হবে। ২০২১ সালে প্রজনন নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারের হার ৮০ শতাংশে উন্নীত করা।

এই ২২টি লক্ষ্যমাত্রার সম্পুর্ণ বাস্তবায়ন না হলেও কাছাকাছি পৌঁছানো গেছে। শতভাগ বাস্তবায়ন না হলেও ৮৫-৯০ ভাগ বাস্তবায়ন সাফল্যের পক্ষেই রায় দেয়। আগামীতে তরুণ বেকারদের কর্মসংস্থান, সেবা খাতে উন্নয়ন, দুর্নীতি থেকে জনগণকে রক্ষা করা, সংক্রামক ব্যাধি নির্মূলে কাজ করা ইত্যাদিতে বিশেষ নজর প্রয়োজন।

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading