বিপাকে বিদেশগামী যাত্রীরা: আচমকা ডলারের দাম নিয়ে তোলপাড় কেন?
সাইফুল অনিক । রবিবার, ১০ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১২:৩০
মুদ্রাবাজারে এক ডলারের দাম ৮৬ টাকা ২০ পয়সা হলেও খোলা বাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে ৯২ টাকার কাছাকাছি। এতে বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসার জন্য ও ওমরাহ পালনে বিদেশগামী যাত্রীরা। দেশে বর্তমানে আমদানি ব্যয়ের চাপে বাড়ছে ক্রমাশ বাড়ছে ডলারের দাম। ব্যাংকের পাশাপাশি খোলা বাজারেও ডলারের যোগান ও চাহিদায় বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। আচমকা ডলারের দাম বেড়ে যাওয়াতে করোনা পরিস্থিতি, বিদেশগামী যাত্রীর চাপ ও আমদানি ব্যয়ের চাপেকেই দুষছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর মতিঝিল ও পল্টন এলাকার মানি চেঞ্জারসহ খোলাবাজারে গতকাল শনিবার মার্কিন ডলার ৯১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৮০ পয়সা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। মানি চেঞ্জার ও খোলাবাজারের মুদ্রা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে অনেক বেশি সংখ্যাক মানুষ দেশের বাইরে ঘুরতে বা চিকিৎসার কাজে যাচ্ছেন। ফলে ডলারের চাহিদা অনেক বেশি বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই তুলনায় ডলারের সরবরাহ কম। সাধারণত বিদেশ থেকে যারা আসেন, তারা সঙ্গে করে ডলার নিয়ে আসেন। নগদ ডলারের যোগানের এটাই একমাত্র মাধ্যম। আর দেশের মানুষের হাতে যা থাকে, তা অনেক সময় বিক্রি করেন। এছাড়া বিদেশি পর্যটকেরা ডলার বিক্রি করে টাকা নেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে দীর্ঘসময় মানুষ দেশের বাইরে যাননি। ফলে এখন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় অনেক মানুষ চিকিৎসার প্রয়োজনে বা ঘুরতে দেশের বাইরে যাচ্ছেন। আবার, রমজান মাস উপলক্ষে অনেকে ওমরাহ করতে সৌদি আরব যাচ্ছেন। ফলে ডলারের চাহিদা অনেক বেড়েছে। সেই অনুপাতে সরবরাহ কম থাকায় ডলারের দামও অনেক বেশি বেড়ে গেছে। তাদের মতে, যিনি যে দেশে যাচ্ছেন, তার জন্য সেই দেশের মুদ্রা সহজলভ্য করা হলে তা ডলারের ওপর চাপ কমাতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানি ব্যয় বাড়লেও পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকায় এতে এখনই উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তবে মুদ্রা বিনিময় হারে যে অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হয়েছে তা দূর করতে মুদ্রার আরো অবমূল্যায়ন করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তারা বলেন, এই সময়ে বিদেশি আয় ধরতে টাকার মান আরও কমাতে হবে। এতে প্রবাসী আয় ও রফতানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর প্রভাব পড়বে পুরো অর্থনীতিতে।
এই অবস্থায় মুদ্রার আরো অবমূল্যায়ন করার পরামর্শ দিয়ে তারা বলেন, এভাবে ১০-২০ পয়সা করে না বাড়িয়ে বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। পাশাপাশি প্রবাসী আয়ের প্রণোদনা তুলে দেওয়া উচিত। এতে রফতানি আয় বাড়ার পাশাপাশি প্রবাসী আয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছে যে দরে ডলার বিক্রি বা কেনে তাকে আন্তব্যাংক লেনদেন ব্যাংক রেট বলে। ব্যাংকগুলোও একে অন্যের কাছ থেকে এই রেটে ডলার কেনাবেচা করে থাকে। চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে ব্যাংকগুলো এই দরের চেয়ে সাড়ে চার-পাঁচ টাকা বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ব্যবধান কখনই এক থেকে-দেড় টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।
ইউডি/অনিক

