ইলন মাস্ক: স্বপ্নবাজ এক প্রযুক্তি উদ্যোক্তা

ইলন মাস্ক: স্বপ্নবাজ এক প্রযুক্তি উদ্যোক্তা

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১৫ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১৬:১৫

তারুণ প্রজন্মের কাছে উদ্যোক্তার ব্যাপারটা বেশ জনপ্রিয়। এই উদ্যোক্তা ধারণার মাধ্যমে অনেকলোক উন্নতির চূড়ায় আরোহন করেছেন। হয়েছেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধনকুবের। যেমন- বিল গেটস, মার্ক জুকারবার্গ জেফ বেজোস সহ আরো অনেকেই। কিন্তু তাদেরকে ছাড়িয়ে গেছেন ইলন মাস্ক। খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বের প্রথম ধনী ব্যাক্তি বনে যাওয়া ইলন মাস্ক-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখেছেন মো. সাইফুল ইসলাম

ইলন মাস্ক কে?
ইলন মাস্ক একজন দক্ষিণ আফ্রিকান প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি খাতে উদ্যোক্তা। ইলন মাস্ক মহাকাশ ভ্রমণ সংস্থা স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা, বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টেসলা মোটরসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পণ্য প্রকৌশলী, সোলারসিটির চেয়ারম্যান, দি বোরিং কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা, নিউরালিংকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ওপেনএআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান এবং পেপ্যালের একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়াও ইলন মাস্ক হাইপারলুপ নামক কল্পিত উচ্চ গতিসম্পন্ন পরিবহন ব্যবস্থার উদ্ভাবক।

ইলন মাস্ক বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম। তরুণদের উদ্দেশ্যে তার পরামর্শ হলো, বেশি বেশি বই পড়তে হবে আর নেতা হওয়ার প্রবণতা থেকে দূরে থেকে মানুষের সাহায্যে কাজ করতে হবে। এছাড়া বিশ্বের কাজে লাগে তরুণদের এমন কিছুই করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

ইলন মাস্কের জন্ম
ইলন মাস্ক ২৮শে জুন ১৯৭১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রোটোরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ইলন মাস্কের মা একজন কানাডিয়ান ও বাবা একজন দক্ষিণ আফ্রিকান। তার বাবার নাম এরোল মাস্ক। তিনি একজন ইঞ্জিনিয়ার, নাবিক ও পাইলট। তাছাড়া তার আরো ভাই-বোন রয়েছে। ভাই কিম্বল। আর বোন টসকা।

শিক্ষাজীবন ও দেশ থেকে পলায়ন
ইলন মাস্ক প্রোটোরিয়া ‘বয়েজ স্কুলে’ লেখাপড়া করেন। তিনি ১৯৮৯ সালে কুয়েন্স ইউনিভার্সিটি এডমিট হন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার আইন হলো -সবাইকে সেনাবাহিনী ট্রেনিং নিতে হত। কিন্তু তার এর প্রতি আনীহা ছিল। কি আর করার তিনি পালায়ন করলেন। একেবারে দেশ ছেড়ে কানাডায় উঠলেন। সেখান থেকে আমেরিকায় পদার্পণ করলেন।


পেনসিলভেনিয়াতে ইলন মাস্ক পদার্থ বিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৭ সালে হোয়ারটন স্কুল থেকে অর্থনীতিতে ব্যাচেলর ডিগ্রীও আর্জন করেন। এরপর জ্বলানি পদার্থ বিজ্ঞান নিয়ে পিএসডি ডিগ্রীর জন্য স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিট হন। কিন্ত সেখানে মাত্র দুই থাকেন।

কম্পিউটার গেমস আবিষ্কার
ইলন মাস্কের বয়স যখন ১০ বছর, তখন তার পিতামাতার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এসব কিছু তার প্রতিভায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে নি। ছোটবেলায়ই তার কম্পিউটারে একটু আলগা রকম ঝোক ছিল। কাজেই কমবয়সে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিখে নেন। কিছুদিনের মধ্যে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। ইলন মাস্ক মাত্র ১২ বছর বয়সে আবিষ্কার করেন নিজের প্রথম কম্পিউটার গেইম। যার নাম ছিল ব্লাস্টার্স। সেটি ৫০০ ডালারেও বিক্রয় করে দেন।

মাস্কের জিপ ২ প্রতিষ্ঠা
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ভর্তি হন তখন বিশ্বে নতুন জোয়ার চলছিল। তথ্য প্রযুক্তির জোয়ার। তাই ইলন মাস্কও এ স্রোতে গা ভাসিয়ে দেন। ইলন মাস্ক প্রতিষ্ঠা করে জিপ ২ নামক আনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। এটা তার প্রথম প্রতিষ্ঠান। এটি একটি সফটওয়্যার যা অনলাইনে সিটি গাইড দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করার পর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে কমপ্যাক কম্পিউটার্স-এর কাছে ৩০৭ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে জিপ ২ বিক্রয় করেন।

পেপাল প্রতিষ্ঠা
২০০১ সালে কমফিনিটি কোম্পানির সাথে প্রতিষ্ঠা করেন পেপাল, ২০০২ সালে ই-বে কোম্পানি পেপালকে ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিময়ে ক্রয় করে নেয়। বর্তমানে তিনি এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার থেকে ১৬৫ মিলিয়ন ডালার আয় করেন।

মাস্কের স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠা
অনলাইনে সাফল্যের পর তার মাথায় নতুন চিন্তা ঝেকে বসে। তিনি এবার মঙ্গল গৃহে উড্ডন করতে চান। সে জন্য ইলন মাস্ক রাশিয়ায় পড়ি জমান। সেখান থেকে ফিরে এসে রকেট নিয়ে গবেষণা চালান। ২০০২ সালে স্পেসএক্স নামে একটি টেইক অফ কোম্পানি লঞ্চ করেন। আর আল্প কয়েকদিনের মধ্যে রকেট বিজ্ঞানী হিসাবে তার নামডাক ছড়িয়ে পরে।

আধুনিক প্রযুক্তির টেসলা প্রতিষ্ঠা
বিশ্ব বিখ্যাত মোটরস টেসলা কোম্পানির সহ প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিকল্পনাকারী হলেন ইলন মাস্ক। বিশ্ববিখ্যাত রেইস কার ‘রোডস্টার’ও টেসলার নির্মিত। প্রতিষ্ঠানটি শুরু পাচঁ বছরের মধ্যে গাড়িটি বাজারে নিয়ে আসেন। গাড়িটি মাত্র ৩.৭ সেকেন্ডে ০ থেকে এর গতিবেগ ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটারে যেতে সক্ষম।

মাস্কের সোলারসিটি প্রতিষ্ঠা
ইলন মাস্ক পরিবেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তার বাস্তব প্রমাণ হলো “সোলারসিটি ”। বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এ সোলারসিটির মাধ্যমে সৌরশক্তিকে মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছেন।

তার হাইপারলোপ প্রতিষ্ঠা
হাইপারলোপ হলো দ্রুত ও সহজে যাতায়াত করার পদ্ধতির নাম। এই প্রদ্ধতির মাধ্যমে খুব সহজে অতি অল্প সময়ে এক শহর থেকে অন্য শহরে যাতায়াত করা যাবে। এই প্রদ্ধতি ২০১৩ সালে শুরু করেন ইলন মাস্ক।

ইন্টারনেটের জন্য স্টারলিঙ্ক প্রতিষ্ঠা
প্রধানত যে সব গ্রামীণ এলাকায় এখনও হাই স্পিড ইন্টারনেট পৌঁছায়নি সেই সব জায়গায় বাড়ি বাড়ি অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়াই স্টারলিঙ্কের উদ্দেশ্য। ২০১৫ সাল থেকে স্টারলিঙ্ক তৈরির কাজ শুরু করে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। ২০১৮ সালে প্রথম কক্ষপথে পাঠানো হয় প্রোটোটাইপ স্যাটেলাইট। এর পর থেকে স্টারলিঙ্ক ইন্টারনেট কানেকশনের জন্য ১,০০০ এর বেশি স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠিয়েছে ইলন মাস্কের কোম্পানি।

তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
স্পেসএক্স-এর সিইও ২০৫০ সালের মধ্যে এক মিলিয়ন মানুষকে মঙ্গল গ্রহে প্রেরণ করতে চান। স্পেসশিপগুলির প্রথম অরবিটাল প্রোটোটাইপগুলি এখনও নির্মিত হয়নি, তবে এর জন্য ইতোমধ্যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা করেছে মাস্ক। ধারণা করা হয় ভবিষ্যতে মানুষ একটি আন্তঃ-প্ল্যানেটে পরিণত হবে, যা মঙ্গল গ্রহে উপস্থিত থাকবে।

ইউডি/অনিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading