প্লাস্টিক বোতলের ব্যবহার বন্ধে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাবে

প্লাস্টিক বোতলের ব্যবহার বন্ধে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাবে

সাদেকুর রহমান । সোমবার, ১৮ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১৩:২০

আমরা সবাই জানি, পানি হলো স্বাস্থ্যকর পানীয়। কিন্তু আমরা কি কখনো ভাবি, প্লাস্টিকের বোতলে পানি খেলে শরীরের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে?এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, মানুষের রক্তে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এছাড়াও সম্প্রতি এটা প্রকাশিত হয়েছে ‘এনভায়রনমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল’ নামের জার্নালে। পানি পান করার জন্য একদা জগ, গ্লাস ও মগ ব্যবহার করা হতো। যা বারবার ব্যবহার করা যায়। কিন্তু আধুনিক এই যুগে জগ-মগ ব্যবহার আনকালচারে পরিণত হচ্ছে! এখন বেশির ভাগ মানুষই প্লাস্টিকের বোতলে পানি খাওয়াকে ফ্যাশন হিসেবে মনে করে। এছাড়াও সফট ড্রিংকস ও পানির বোতলের ব্যবহার বেড়েই চলেছে।

যদিও এসব ওয়ান টাইমের বোতল-একবারের বেশি ব্যবহার করার নিয়ম নেই, তবু মানুষ হরহামেশাই বারবার ব্যবহার করছে। এটা যে শহরাঞ্চলে তাই নয়, গ্রামাঞ্চলেও এর ব্যবহার দিনকে দিন বেড়েই যাচ্ছে। প্রতিটি পরিবারে অন্যান্য আসবাবপত্রের তুলনায় প্লাস্টিকের জিনিস বেশি। প্লাস্টিক ব্যবহারের ফলে তা মানুষের রক্তেও মিশে যাচ্ছে। গ্রামগঞ্জের বাজারগুলোতে দুধ ও তরল জাতীয় পদার্থ বিক্রি হচ্ছে ব্যবহার করা ওয়ানটাইমের বোতলে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। শিশুদের প্লাস্টিকের বোতলে খাওয়ানো ঠিক নয়। এর মধ্যে গরম জিনিস ভরলে বা প্লাস্টিকের বোতলে বা প্লেট ভরে খাবার গরম করলে, প্লাস্টিকের বিষাক্ত পদার্থ খাবারের মধ্যে চলে যেতে পারে, যা শরীরে গিয়ে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।

গ্রামের বাজারে গিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার দুধ কিনবেন, তাতেও আপনার অজান্তেই দুধের সঙ্গে বিষ কিনে আনছেন! কারণ যে বোতলে আপনি দুধ বা তরল জাতীয় খাবার কিনে আনছেন তা মারাত্মক ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে ঐ বোতলের কারণে। ঐ বোতল তৈরি হয় পলিথিন টেরেফথ্যালেট (পেট) দিয়ে। উচ্চ তাপমাত্রায় এই প্লাস্টিকের বিষ মিশে যায় বোতলে রাখা পানি জাতীয় খাবারে। তাই আজই সাবধান হওয়া উচিত। একই বোতল বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যবহার করা পানি ও সফট ড্রিংকসের বোতলে দুধ, তেল, মধু ও অন্যান্য তরল খাবার বিক্রি হচ্ছে।

আগে দুধ বিক্রেতারা জগ, কলসি ব্যবহার করত। এখন সেখানে প্লাস্টিকের বোতল ও বালতিতে করে দুধ বিক্রি করছে। যদিও বোতলের গায়ে একবার ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু তা দেখে কয়জন বা মানে কয়জন? সবাই জেনেশুনে খাবারের সঙ্গে বিষ কিনে আনছি। উপায়ও নেই। কারণ বিক্রেতারা বোতলে করে দুধ নিয়ে গেলে সেটাই বিক্রি হচ্ছে আগে। কারণ মানুষ আগের মতো দুধ কেনার জন্য জগ নিয়ে হাটে যায় না। ইচ্ছে করেই বোতল নিয়ে যায়। অনেকেই বোতল, জগ কিছুই নিয়ে যায় না। বিক্রেতা যে বোতলে দুধ বাজারে এনেছে, সেটাই ক্রেতা নিয়ে যান। এখানে ক্রেতারা ভুল করেন, কারণ বোতলগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করা কি না, বোতলগুলো উচ্চ তাপমাত্রায় রাখা হয়েছিল কি না তাও জানা নেই ক্রেতার। তাতে স্বাস্হ্যঝঁকি থেকেই যায়।

যদিও কিছু কিছু বিশেষজ্ঞ মত দিয়েছেন যে, প্লাস্টিকের বোতল একবার ব্যবহার করা যায়, তবে তা গরম অবস্থায় না রেখে। কিন্তু আমরা প্রতিনিয়ত একই বোতল বারবার ব্যবহার করছি। এসব বোতল ব্যবহারের ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস এমনকি ক্যান্সারের মতো রোগও হতে পারে। গবেষক মেরিলিন গ্লেনভিলের মতে, প্লাস্টিক বোতল থেকে এমন সব উপাদান পাওয়া গেছে, যা থেকে হরমোনের অসুখ ও স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একটানা এসব বোতল ব্যবহারের ফলে ইকোলাইয়ের মতো অসুখের জীবাণুর জন্ম দিতে পারে। গবেষকরা বলছেন, প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে স্টেইনলেস স্টিল কিংবা অ্যালুমিনিয়ামের বোতল অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। তাও বেশিদিন ব্যবহার করা ঠিক নয়। কিছুদিন পরপর তা পরিবর্তন করা দরকার।

পলিথিন ব্যাগ ও একবার ব্যবহাযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যের দৌরাত্ম্য মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। এগুলো আমাদের ভূমির উর্বরতা কামাচ্ছে, বায়ুদূষণ ঘটাচ্ছে। সমুদ্রের জলজ উদ্ভিদ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে হুমকির মধ্যে ফেলেছে। এসব বিষয়ে কে কাকে সচেতন করবে? প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব হচ্ছে। পলিথিন ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয়। কিন্তু তা মানছে কই? বিচ্ছিন্নভাবে কিছু জেলা, উপজেলা পর্যায়ে পলিথিন ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই, যেই সেই। যার উদাহরণ ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানা। বছরখানেক পলিথিন ব্যবহার বন্ধ থাকলেও এখন ব্যবহার সর্বত্র। উৎপাদন বন্ধ না করে অভিযান-জরিমানা ও সচেতন করে লাভ নেই। দরকার প্লাস্টিকের ওয়ানটাইন পণ্য ও পলিথিন উৎপাদন বন্ধ করা।

লেখক- কলামিস্ট।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading