মন্দা কাটিয়ে গতি ফিরছে আবাসন খাতে

মন্দা কাটিয়ে গতি ফিরছে আবাসন খাতে

মীর রাহিমা রাহি । শুক্রবার, ২৯ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১২:২৫

এক বছরের বেশি সময় ধরে ফ্ল্যাটের ব্যবসা চাঙা। চাহিদা বেশি থাকায় আবাসন প্রতিষ্ঠানের হাতে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা ফ্ল্যাট প্রায় নেই বললেই চলে। সুযোগ-সুবিধা ভালো এমন এলাকার প্রকল্পের ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ছাড়লেই দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তাই নিত্যনতুন প্রকল্পও নিয়ে আসছে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো। অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ, নিবন্ধন ব্যয় হ্রাস, সরকারি কর্মকর্তাদের ৫ শতাংশ সুদে গৃহঋণ প্রদান ফ্ল্যাটের বাজার চাঙা করতে ইতিবাচক প্রভাব রাখছে।

দীর্ঘদিন মন্দাভাব কাটিয়ে স্বরূপে ফিরছে দেশের আবাসন খাত। নানা সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোয় এই খাতে মধ্যবিত্তদের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নতুন ফ্ল্যাট ও প্লট কেনার আগ্রহ আগের চেয়ে বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ফ্ল্যাট আর প্লটের রেজিস্ট্রেশন খরচ কমে ১০ শতাংশ হয়েছে। সিঙ্গেল ডিজিট বা এক অঙ্ক সুদের ঋণ সুবিধাও মিলছে। এজন্য মধ্যবিত্ত ক্রেতারা এখন ফ্ল্যাট বা প্লট কিনতে চেষ্টা করছেন। এছাড়া বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থের বিনিয়োগ সুবিধা পাওয়ায় অনেকে ফ্ল্যাট ও প্লট কেনায় আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

দেশের আবাসন শিল্প মালিকদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-রিহ্যাব দাবি করছে, করোনা মহামারি সময় ক্রেতাদের জন্য ব্যাংক ঋণের সুদ এবং রেজিস্ট্রেশন খরচ কমিয়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ হোক। রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল বলেন, এখন ফ্ল্যাট ও প্লট কেনায় ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। কারণ আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ হচ্ছে। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন খরচ কমিয়ে ১০ শতাংশ করায় এই আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আবাসন খাতে রেজিস্ট্রেশন সাত শতাংশ ও ব্যাংক ঋণ কমালে ক্রেতাদের আগ্রহ আরো বাড়বে। এছাড়া আবাসনের ক্রেতাদের ঋণ দিতে ব্যাংকগুলো ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এই খাতে গতি ফেরায় সামগ্রিক অর্থনীতিকেও চাঙা করছে। এই খাত চাঙার ফলে আবাসন শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ বা সহযোগী শিল্প খাত আর ১৮ খাতে বিভক্ত পণ্যভিত্তিক ৪৫৮টি উপখাতও চাঙা হচ্ছে।

অবশ্য সাধারণ মানুষের জন্য সুখবর নেই। উচ্চমূল্যের কারণে অধিকাংশ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে ফ্ল্যাটের দাম। তবে নতুন করে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে নির্মাণসামগ্রীর উচ্চমূল্য। তাতে নতুন করে ফ্ল্যাটের দাম আরও বেড়েছে। আবার ভীতি ছড়াচ্ছে ২০১৬-৩৫ সালের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রস্তাবিত বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ)। আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রস্তাবিত ড্যাপ বাস্তবায়িত হলে ফ্ল্যাটের দাম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবর্তন ছাড়া প্রস্তাবিত ড্যাপ বাস্তবায়িত হলে উচ্চবিত্তের নিচে কেউ হয়তো ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন না। সেটি হলে পুরো খাতটি হুমকির মুখে পড়বে।

জানতে চাইলে আবাসন প্রতিষ্ঠান বিল্ডিং ফর ফিউচারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীরুল হক বলেন, ‘বর্তমানে এ খাতের ব্যবসা ভালো। চাহিদা থাকায় আমরাও নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছি। তবে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে ফ্ল্যাট নির্মাণের ব্যয় বেড়েছে। প্রস্তাবিত ড্যাপের ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে। ড্যাপে যেসব প্রস্তাব করা হয়েছে, সেগুলো অপরিবর্তিত থাকলে তাতে ফ্ল্যাটের দাম দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।’

স্বল্প জায়গায় কীভাবে বেশি মানুষের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা যায়, সেই চিন্তা থেকেই আবাসন ব্যবসার গোড়াপত্তন হয়েছে। শুরু করেছিলেন ইস্টার্ন হাউজিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম। তার দেখানো পথ ধরেই ধীরে ধীরে অন্যরা আবাসন ব্যবসায় যুক্ত হন। বর্তমানে রিহ্যাবের সদস্যসংখ্যা ৯২৫। আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে গড়ে ১২-১৫ হাজার ফ্ল্যাট ক্রেতাদের কাছে হস্তান্তর করছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান সময়মতো ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দেওয়ায় খাতটির প্রতি আস্থাও হারিয়েছেন অনেক ক্রেতা। রিহ্যাবের নানা পদক্ষেপের কারণে ফ্ল্যাট না পাওয়ার হার কিছুটা কমেছে। আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানের বিক্রি ১৫-২০ শতাংশ বেড়েছে।

ইউডি/অনিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading