মহেন্দ্র সিং ধোনি: ক্রিকেট বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম ও জনপ্রিয় অধিনায়ক
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১৪:০০
ইন্ডিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেটার তথা ক্যাপ্টেন যদি কেউ থেকে থাকেন তাহলে সেটা অবশ্যই হচ্ছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। তার ক্রিকেট প্রতিভার কথা ইন্ডিয়া তথা গোটা বিশ্বের এমন কোনো মানুষ নেই যে জানেন না। তিনি তার খেলায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত। এমএস ধোনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেট খেলোয়াড়। তিন তার অবিশ্বাস্য কীর্তির জন্য ক্রিকেট বিশ্ব সমাদৃত। জনপ্রিয় ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিং ধোনির সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখেছেন সাইফুল অনিক।
ইন্ডিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে ধোনি সর্বকালের শ্রেষ্ঠতম ও জনপ্রিয় অধিনায়ক। ধোনিই পৃথিবীর সর্বপ্রথম অধিনায়ক যিনি ক্রিকেটের তিনটে ফর্মেটেই ৫০-এর বেশি ম্যাচ খেলেছেন। তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের সেরা ম্যাচ ফিনিশার। ধোনির ব্যাটিং গড় একদিনের ক্রিকেটে উইকেট-রক্ষকদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সংক্ষেপে ধোনির পরিচিতি
মহেন্দ্র সিং ধোনি ঝাড়খণ্ডের রাঁচি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার। রাঁচির এক অল্প পরিচিত অঞ্চলের একটি মধ্যবিত্ত ঘরের ছোট্ট ছেলে যে ভবিষ্যতে ইন্ডিয়ার মুখ উজ্জ্বল করবে সেটা অনেকে হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি। তার অধিনায়কত্বে ইন্ডিয়া ২০০৭ আইসিসি বিশ্ব টি-টোয়েন্টি, ২০০৭-০৮ সালের সিবি সিরিজ, ২০০৮ সালের বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি, ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানে একটি সিরিজ ও ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় করেছে। ধোনির অধিনায়কত্বেই ইন্ডিয়া টেস্টের র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে উঠে এসেছিল। এখনও পর্যন্ত টেস্ট এবং একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধোনির রেকর্ড ইন্ডিয়ান অধিনায়কদের মধ্যে সেরা।
মহেন্দ্র সিং ধোনি জন্ম
সর্বকালের শ্রেষ্ঠ অধিনায়ক তথা মহেন্দ্র সিং ধোনির জন্ম হয় ৭ই জুলাই ১৯৮১ সালে ইন্ডিয়ার ঝাড়খন্ড অঞ্চলের রাঁচি শহরে। তার বাবার নাম হলো পান সিং এবং মায়ের নাম দেবকী সিং। তার বাবার আসল বাড়ি ছিলো উত্তরাখন্ডের আলমোড়া জেলার লাওলি গ্রামে। কিন্তু যখন তিনি রাঁচিতে চাকরি পাওয়ার পর তিনি পরিবারকে নিয়ে ঝাড়খন্ড চলে আসেন এবং সেখানেই বসবাস করতে শুরু করেন। তাদের পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা ৫জন।
সফল অধিনায়কের শিক্ষাজীবন
ধোনির প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় ডিএভি জহর বিদ্যা মন্দির থেকে। সেখানেই তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করা শুরু করেন এবং পাশাপাশি স্কুলের ফুটবল একাডেমিতে যোগ দেন। আর সেখানে একজন গোলরক্ষক হিসাবে খেলতে থাকেন। ধোনি তার এক স্যারের কথা মতো স্থানীয় একটা ক্রিকেট ক্লাবে যোগদান করেন এবং তারপর সেখানেই ক্রিকেট খেলা শিখতে থাকেন। অন্যদিকে ধীরে ধীরে তার স্কুল শিক্ষাও শেষ হতে থাকে এবং গ্র্যাজুয়েশান করার জন্য তিনি ভর্তি হন রাঁচির সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। তবে ক্রিকেটের জন্য এই কিংবদন্তি ক্রিকেটারকে তার পড়াশোনার সাথে আপস করতে হয়েছিল, তাই দ্বাদশ পরে মহেন্দ্র সিং ধোনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন।
ক্যারিয়ারের প্রথম অধ্যায়
মহেন্দ্র সিং ধোনি ১৯৯৯ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ঝারখন্ড ক্রিকেট দলের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক করেন। আর অভিষেক ম্যাচেই মহেন্দ্র সিং ধোনি ৬৮ রানের একটা অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। সেই মৌসুমে তিনি মাত্র ৫টা ম্যাচ খেলার সুযোগ পান করেন এবং সর্বমোট রান করেন ২৮৩। পরবর্তী মৌসুমে ধোনি আরো নিজেকে উন্নত করেন এবং বেঙ্গল ক্রিকেট দলের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি রঞ্জি ট্রফিতে ৩৫০ এরও বেশি রান করেন। এরপর ২০০৩-২০০৪ সালে রঞ্জি ওডিআই ট্রফিতে আসামের বিপক্ষে প্রথম খেলায় অপরাজিত ১২৮ রান করেন ও ইস্ট জোন ক্রিকেট দলের পক্ষে ৪ ম্যাচে ২৪৪ রান করে দেওধর ট্রফি জয়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। সেই বছরই রঞ্জিতে দারুন খেলার জন্য, তাকে ভারতীয় “এ” দলে নির্বাচন করা হয় এবং তিনি সেই সুবাদে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে আয়াজিত জিম্বাবুয়ে একাদশের বিরুদ্ধে ধোনি তার সেরা সাফল্য হিসেবে ৭টা ক্যাচ ধরেন ও ৪টা স্ট্যাম্পি আউট করেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার
২৩শে ডিসেম্বর, ২০০৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে চট্রগ্রাম স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মহেন্দ্র সিং ধোনি অভিষেক ঘটে। কিন্তু অভিষেক ম্যাচে রান আউট হয়ে শূন্য রানে ফেরেন ধোনি। পরে অবশ্য বাকি ম্যাচ গুলোয় তিনি দুর্দান্ত খেলেন। পরের বছর ২০০৫ সালে তিনি ওডিআই টিমের পাশাপাশি টেস্ট টিমেও জায়গা করে নেন। এরপর ২০০৭ সালে, ওয়ানডে এবং টেস্ট উভয় ফর্ম্যাটেই তিনি ইন্ডিয়ার অধিনায়কত্ব করার দায়িত্ব পান।
সফলতা লাভের পরের জীবন
তারপর যা হয়েছে তা সকলেরই জানা। ২০০৭ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ইন্ডিয়া জয়লাভ করে, তারপর ২০১১ সালে একদিনের ক্রিকেটেও বিশ্বকাপ জয় করে ইন্ডিয়া। সেইসাথে ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয় ও টেস্ট ক্রিকেটে ১নং রাঙ্কিং তার সৌজন্যেই আসে ইন্ডিয়ার ঝুলিতে। এছাড়া চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে চারবার আইপিএল জয় তো আছেই তার অধিনায়কত্বে। সব মিলিয়ে ইন্ডিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে ধোনি হয়ে ওঠেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠতম ও জনপ্রিয় অধিনায়ক।
তার জীবনী নিয়ে সিনেমা
২০১৬ সালে তার জীবনী নিয়ে নির্মিত হয় সিনেমা। ‘ধোনি; দ্যা আলটোল্ড স্টোরি’ সিনেমায় তার চরিত্রে অভিনয় করেন বলিউডের প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত। সিনেমাটি দারুণ ব্যবসায় সফল হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায়
২০২০ সালের ১৫ই আগস্ট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ফর্মেট থেকে বিদায় নেন এই জীবন্ত কিংবদন্তী। তবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে (আইপিএল) চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। গত আসরে চেন্নাইয়ের অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন তিনি।
ইউডি/অনিক

