সাইবার বুলিংয়ের শিকার শিশু থেকে তারকা
ড. বি এম মইনুল হোসেন । শুক্রবার, ৬ মে ২০২২ । আপডেট ১০:৩০
ডিজিটাল প্রযুক্তি বা ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে বুলিং করা হলে সেটিকে আমরা সাইবার বুলিং বলে থাকি। সাধারণত কাউকে হয়রানি করা, ভয় দেখানো, রাগানো, লজ্জা দেওয়া, অপদস্থ করা, অসম্মান করা এ জাতীয় নানা ধরনের কর্মকাণ্ড বুলিংয়ের আওতায় পড়ে।
হেনস্থাকারীদের কাছে কিছু আচরণ স্বাভাবিক মনে হতে পারে, মনে হতে পারে, সেটি নিছক মজা করার উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে, কিন্তু হেনস্থার শিকার ব্যক্তির নিকট সেটি হয়তো অপ্রত্যাশিত বা অনাকাঙ্ক্ষিত, সেরূপ আচরণ এবং সেটির পুনরাবৃত্তিও বুলিং হিসেবেই বিবেচিত হয়ে থাকে।
ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসারের কারণে বর্তমানে সাইবার বুলিং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী তথা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমাদের বাংলাদেশও বৈশ্বিক সেই ধারার বাইরে নয়। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাগামী প্রায় ১২৮১ জন শিক্ষার্থীর উপর ইউনিসেফ কর্তৃক পরিচালিত সাম্প্রতিক অন্য আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, শতকরা ৩২ ভাগ শিক্ষার্থী সাইবার আক্রমণ, সাইবার বুলিংসহ নানাধরনের হয়রানির শিকার হয়েছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, বুলিংয়ের শিকার হলে করণীয় কী? প্রযুক্তিগত সমাধানের বাইরে, ব্যক্তি কিংবা পারিবারিক পর্যায়ে কী করা যেতে পারে? প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে, কাউকে না কাউকে ঘটনা বলে সাহায্য চাওয়া।
প্রশ্ন হচ্ছে, বুলিংয়ের শিকার হলে করণীয় কী? প্রযুক্তিগত সমাধানের বাইরে, ব্যক্তি কিংবা পারিবারিক পর্যায়ে কী করা যেতে পারে? প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে, কাউকে না কাউকে ঘটনা বলে সাহায্য চাওয়া। সেটি পিতামাতা হোক, শিক্ষক হোক বা কাছের কোনো বিশ্বস্ত মানুষ হোক।
কে মেসেজ পাঠাতে পারবে, কে পারবে না, কে কমেন্ট করতে পারবে, কে পারবে না, প্রাইভেসি সেটিংসের মাধ্যমে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা রিপোর্ট করার ব্যবস্থাও আছে। প্রয়োজন হলে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ (যেমন, স্ক্রিনশট) রেখে দিতে হবে, যাতে করে পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার উপায় থাকে।
শিশুদের পাশাপাশি ব্যাপক হারে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে দেখা যায় তারকা বা খ্যাতিমান ব্যক্তিদের। পাবলিক ফিগার থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাধ্যমের শিল্পী, তারকা ব্যক্তিত্ব, খেলোয়াড়, সাংবাদিক, সম্পাদক এমনকি তাদের পরিবারের সদস্য পর্যন্ত বাদ থাকছে না।
এছাড়া, ডিজিটাল জগতে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ভ্রমণকালীন অবস্থান ইত্যাদি শেয়ার করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বন্ধু-বান্ধবদের কেউ সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলে, তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে, প্রয়োজনে তাদেরকে সাহায্য করতে পারে এমন কাউকে খুঁজে পেতে সহায়তা করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, দুঃসময়ে তাদের পাশে যে কেউ আছে, এই বোধটুকু তাদের মধ্যে জাগিয়ে তোলা খুব জরুরি।
শিশুদের পাশাপাশি ব্যাপক হারে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে দেখা যায় তারকা বা খ্যাতিমান ব্যক্তিদের। পাবলিক ফিগার থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাধ্যমের শিল্পী, তারকা ব্যক্তিত্ব, খেলোয়াড়, সাংবাদিক, সম্পাদক এমনকি তাদের পরিবারের সদস্য পর্যন্ত বাদ থাকছে না। অশ্লীল-কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, অযাচিত প্রচার-প্রচারণা থেকে শুরু করে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনের স্পর্শকাতর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে সাইবার বুলিং করে ভুক্তভোগী বানানো হয় প্রসিদ্ধ ও জনপ্রিয় এই ব্যক্তিদের।
২০১৯ সালের চিলড্রেন্স সোসাইটির জরিপ অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী শতকরা ৬০ ভাগ তরুণ-তরুণী অনলাইনে সাইবার বুলিং দেখেও কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায়নি বা পদক্ষেপ নেয়নি। এই তথ্য আমাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক নয়।
সাইবার বুলিং বা সমজাতীয় সংকটের ক্ষেত্রে, পরিবার, বন্ধু, সমাজ, এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে রাষ্ট্রের পাশে থাকা, সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
আক্রমণের শিকার ব্যক্তি, তিনি যেই হয়ে থাকুন না কেন, তিনি যেন উপলব্ধি করতে পারেন, ফিজিক্যাল ওয়ার্ল্ড হোক আর ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড হোক, আমাদের চারপাশে আক্রমণকারী মানুষের চেয়ে উদ্ধারকারী মানুষের সংখ্যাই বেশি, বিদ্বেষ ধর্মী মানুষের চেয়ে সহমর্মী মানুষের সংখ্যাই বেশি।
ইউডি/সুস্মিত

