তরূণ প্রজন্মের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার অশ্লীলতার প্রভাব

তরূণ প্রজন্মের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার অশ্লীলতার প্রভাব

অভিজিৎ বড়ুয়া । শনিবার, ৭ মে ২০২২ । আপডেট ১০:২০

সোশ্যাল মিডিয়ায় বা ফেসবুকের টাইমলাইন, নিউজফিড অশ্লীল সংবাদ, ছবি, ভিডিও প্রচার বর্তমান সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। যা আমাদের তরুণদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এরফলে ফেসবুক ব্যবহারের সাথে যুক্ত তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার অশ্লীল চ্যাট, শেয়ার, ভিডিওকল তরুণ ও কিশোর-কিশোরীদের মাঝে এক নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আসছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নারীর অশ্লীল শরীরের চিত্র ও ভিডিও প্রচার এবং তা দর্শন করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে অশ্লীল অবাস্তব প্রত্যাশা, ঝুঁকি, আচরণের অস্বাভাবিককরণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক প্রভাব নিয়ে আসছে। এতে নারীরা বিশেষ করে ঝুঁকির সম্মুখিন হচ্ছে। আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, কিশোর-কিশোরীদের ওই বয়সে মানসিক স্বাস্থ্য বিকশিত হতে থাকে এবং তাদের নিজস্ব পরিচয় বিকাশ লাভ করে। বয়ঃসন্ধিকাল ঝুঁকি গ্রহণের একটি সময়, যা একদিকে শক্তি এবং দুর্বলতা উভয়ই। সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুকের অশ্লীল সংবাদ, ছবি, ভিডিও প্রচার তরুণ প্রজন্মের মানসিক ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যেমন আমরা বর্তমানে তরুণদের অপরাধ প্রবণতার বৃদ্ধি দেখেছি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অশ্লীল ছবি নারীদের যৌনবস্তু হিসেবে দেখাতে ভূমিকা রাখছে এবং তরুণ প্রজন্মের যৌন আচরণকে প্রভাবিত করছে। তরুণদের সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুকের অশ্লীল সংবাদ, ছবি, ভিডিও দেখা ভবিষ্যতের যৌন আচরণ এবং মনোভাবকে প্রভাবিত করে। যা নারীদের প্রতি আগ্রাসী হতে এবং অবজ্ঞা করতে প্ররোচিত করে। যা তাদের শেখাতে পারে যে আক্রমনাত্মক আচরণ করা সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং এমনকি কাম্য। যা নারীর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব এবং আচরণের আকার দেয়। ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, ফেসবুক এবং ইউটিউবে যৌনতাযুক্ত ছবি এবং সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত থাকা, কিশোর-কিশোরীদের আচরণ এবং মনোভাবের ওপর নেতিবাচক বা অস্বাস্থ্যকর প্রভাব ফেলছে।

তরুণরা সামাজিক মিডিয়ার বিজ্ঞাপন দ্বারা প্রভাবিত হয়।সোশ্যাল মিডিয়ায় মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীরা তাদের স্বাস্থ্য এবং জীবনধারা সম্পর্কে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে, উদাহরণস্বরূপ জাঙ্ক ফুড খাওয়া, ধূমপান, অ্যালকোহল পান এবং অন্যান্য মাদক গ্রহণ। সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলোতে প্রচারিত বিজ্ঞাপন প্রাক-কৈশোর এবং কিশোর-কিশোরীদের কেনার প্রবণতাকেই প্রভাবিত করে এবং তাদের মতামতকেও প্রভাবিত করে।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিভিন্ন সময়ে নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন রাজনীতিবিদ, পাবলিক ফিগার বা সেলিব্রিটি সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ভুয়া খবর বা পক্ষপাতদুষ্ট বা ঘৃণাপূর্ণ মনোভাব প্রচার, সাইবার বুলিং ইচ্ছাকৃতভাবে ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তির সম্পর্কে বা সরকারের সম্পর্কে বা কোনো বিষয়ে মিথ্যা, বিব্রতকর বা প্রতিক‚ল তথ্য দিয়ে সমস্ত কিশোর-কিশোরীদের ভুলপথে চালিত করছে।

কখনো কখনো কিশোররা সোশ্যাল মিডিয়াতে এত বেশি সময় ব্যয় করে যে তারা মূল্যবান ঘুম হারাতে শুরু করে। মধ্যরাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় লগইন করা তাদের শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। উদাহরণস্বরূপ, ক্লান্ত এবং খিটখিটে বোধ করা ছাড়াও, ঘুমের অভাব দুর্ঘটনার শঙ্কা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে এবং কিশোর-কিশোরীদের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন করে তোলে। ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, ফেসবুক এবং ইউটিউবে যৌনতাযুক্ত ছবি এবং সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত থাকা, কিশোর-কিশোরীদের আচরণ এবং মনোভাবের ওপর নেতিবাচক বা অস্বাস্থ্যকর প্রভাব ফেলছে। ঈর্ষা এবং হিংসা-যদিও স্বাভাবিক আবেগ-তবু ফেসবুকের পোস্ট দেখে তারা তাদের সমবয়সীদের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করে, যা কিশোর-কিশোরীদের মস্তিষ্কে বিপর্যয় ঘটাতে পারে।

উপসংহারে বলতে হয় সরকারকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বা ফেসবুকের টাইমলাইন, নিউজফিডে অশ্লীল সংবাদ, ছবি, ভিডিও প্রচার প্রদর্শনী বাংলাদেশে বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। পিতামাতাদের উচিত তাদের তরুণ ও কিশোর-কিশোরী সন্তানদের সামাজিক মিডিয়ার ব্যবহারের বিষয়ে নির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া এবং অপব্যবহার বা অতিরিক্ত ব্যবহার করা হলে তাদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে তাদের সতর্ক করা। শিক্ষার পাঠ্যক্রমটিও সংশোধন করা উচিত যাতে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা যায় যে তাদের সামাজিক মিডিয়া ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।

লেখক- সিনিয়র সাংবাদিক।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading