নিত্যপণ্য যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ববাজারে

নিত্যপণ্য যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ববাজারে
দৈনিক উত্তরদক্ষিণ

রুহুল আমিন রাসেল । রবিবার, ৮ মে ২০২২ । আপডেট ১১:০০

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে নজিরবিহীনভাবে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। এ অবস্থায় বিশ্বব্যাপী খাদ্যমূল্য রেকর্ড ও জটিল বাজার পরিস্থিতি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বা এফএও। চলমান যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাবে বিশ্ববাজারে প্রতিনিয়ত দাম বাড়ছে গম, ভোজ্য তেল ও জ্বালানি তেলের। ফলে দেশীয় বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে হয়েছে ১৯৮ টাকা। এই দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন ভোজ্য তেলের পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তবে নিত্যপণ্যের সংকট উত্তরণে ব্যবসায়িক উদ্যোগের সঙ্গে কূটনৈতিক উদ্যোগ চান ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট ও কারসাজি ঠেকাতে বাজারে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ অংশীজনদের।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ভোজ্য তেল, জ্বালানি তেল ও গমসহ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশ যেমন রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে গম ও তেল আমদানি করে, তেমনি উন্নয়নশীল অনেক দেশও, তাদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আমদানি বাণিজ্য কার্যত বন্ধ রয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। জানা গেছে, রোজার ঈদের আগে হঠাৎ করেই খুচরা বাজার থেকে সয়াবিন তেল উধাও হয়ে যায়। বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দাম সমন্বয় করতে না পারার কারণেই মূলত দেশে ভোজ্য তেল নিয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। দেড় মাস পর গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারের সঙ্গে ভোজ্য তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। ফলে একবারেই প্রতি লিটার বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম ৩৮ থেকে ৪৪ টাকা পর্যন্ত বাড়াতে হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮০ টাকা, যা এত দিন ১৪০ টাকা ছিল। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৮ টাকা করা হয়েছে। ৫ লিটারের বোতলের দাম হবে ৯৮৫ টাকা। এর সঙ্গে ভোজ্য তেলের দাম সহনীয় রাখতে সরকার উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর-মূসক বা ভ্যাট প্রত্যাহার করেছে, আমদানিতে করও কমিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী খাদ্যমূল্য রেকর্ড ও জটিল বাজার পরিস্থিতি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বা এফএও। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রকাশিত খাদ্যমূল্যের সূচকে এই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, গত মার্চ মাসে বিশ্বে খাদ্যমূল্য রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর এপ্রিলে কিছুটা কমেছে। তবে জটিল বাজার পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই গেছে। গত এপ্রিলের খাদ্যমূল্যের যে সূচক এফএও প্রকাশ করেছে, তাতে গড় পয়েন্ট হয়েছে ১৫৮ দশমিক ৫। মার্চ মাসের গড় পয়েন্ট ছিল রেকর্ড ১৫৯ দশমিক ৭। এফএও তাদের নতুন প্রাক্কলনে বলেছে, ২০২২ সালের গম উৎপাদনের পরিমাণ হতে পারে ৭৮২ মিলিয়ন টন, যা আগের প্রাক্কলনের চেয়ে ২ মিলিয়ন টন কম। গম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমানোর মূল কারণ হলো, যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনের গম উৎপাদন ২০ শতাংশ কমে যাওয়ার শঙ্কা। পাশাপাশি উত্তর আফ্রিকায় খরার কারণে মরক্কোতেও উৎপাদন কমতে পারে। মার্চে সংস্থাটি সতর্ক করেছিল, ইউক্রেনের সংঘাতের ফলে খাদ্যের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা অপুষ্টি বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করবে।

রাশিয়া আকস্মিকভাবে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় হঠাৎ করেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পুনর্বিন্যাস ঘটছে। ইউরোপকে এখন জোড়াতালি দিয়ে গ্যাস সংগ্রহ করতে হবে। ইতালি আলজেরিয়া থেকে, বুলগেরিয়া গ্রিস থেকে এবং পোল্যান্ড নরওয়ে থেকে দীর্ঘ পরিকল্পিত পাইপলাইন সম্প্রসারণের মাধ্যমে এলএনজি সরবরাহের দিকে ঝুঁকবে। ইউরোপের অর্থনীতির চালিকাশক্তি জার্মানি এ রকম একটি সময়ের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত ছিল না। ইউক্রেন আক্রমণের আগে জার্মানির অর্ধেকের বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস রাশিয়া থেকে আসত। রাশিয়ার গ্যাস ছাড়া পুরোপুরি চলার মতো অবস্থা জার্মানির নেই।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading