সকল শিশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক জাতির পিতার আদর্শ
মোতাহার হোসেন । সোমবার, ৯ মে ২০২২ । আপডেট ১১:৪০
আজ থেকে একশ দুই বছর আগের এই দিনে অর্থাৎ ১৮২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম হয় শেখ মুজিবুর রহমানের। তার জন্মের সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় বয়ে যায় আনন্দের বন্যা। তিনি যেন জ্যোতির্ময় হয়ে এসেছিলেন এ ভুবনে। তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে সেখানেই। পাড়া গাঁয়ে জন্ম নেওয়া সেই ‘খোকা’ একদিন পরাধীন এই বাংলাকে মুক্ত করবেন, স্বাধীন করবেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেবে তখন আর কেইবা জানত। কিন্তু ধীরে ধীরে এই শিশুই নিজেকে পরিণত করেছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বে। পরিণত হয়েছেন ‘পোয়েট অব পলিটিক্স।’
একজন শিশুর শৈশবের কাজকর্মে তার পরবর্তী জীবনের ছায়া দেখতে পাওয়া যায়। ভালো-মন্দ উভয় কাজের ক্ষেত্রেই এমনটা লক্ষ্যণীয়। তবে কোনো শীতার্ত মানুষকে দেখে তাকে গায়ের চাদর খুলে দেওয়া, স্কুলে বৃষ্টিভেজা বন্ধুকে দেখে নিজের ছাতা দিয়ে দেওয়া, দরিদ্র মানুষকে বাবার গোলা থেকে চাল দেওয়া- এই ঘটনাগুলো মানবিক মূল্যবোধের খুব বড় উদাহরণ। শৈশব থেকে প্রতিনিয়ত মানবিক, সামাজিক কাজের মধ্য দিয়ে নিজে পরিণত হয়েছেন বাঙালি জাতির জনকে। টুঙ্গিপাড়ার ছোট্ট খোকাই হয়ে ওঠেন ইতিহাসের মহানায়ক হিসেবে। একজন সৎ, আদর্শ, নিষ্ঠাবান, পরোপকারী, মেধাবীসহ যা যা গুণ থাকা দরকার একজন শিশুর মধ্যে তার সবটুকুই ছিল খোকার মধ্যে। এই খোকা ত্যাগ-তিতিক্ষা, সংগ্রাম করে হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর পিতা-মাতা যে উদারতার পরিচয় দিয়েছেন বা যে সুশিক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছেন তা অনুকরণীয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চিন্তার গভীরে দেশপ্রেম লালন করতেন, যা প্রত্যেক শিশুর মধ্যে থাকা বাঞ্ছনীয়।
বঙ্গবন্ধুই প্রথম অনুধাবন করেছিলেন শিশুদের সুরক্ষায় পূর্ণাঙ্গ একটি আইন থাকা জরুরি। আর এই পথ ধরেই ১৯৭৪ সালের ২২ জুন জাতীয় শিশু আইন (চিলড্রেন অ্যাক্ট) প্রণয়ন করা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি এবং হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে জাতীয় শিশু দিবস পালিত হওয়ায় আমাদের শিশুরা তার আদর্শকে চর্চা করার মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে বেড়ে উঠার সুযোগ পাবে। জাতির পিতার আদর্শ, জীবন, কর্ম, সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা আজকের শিশুরা জানতে পারলে আগামী প্রজন্ম উপকৃত হবে।
ইউডি/সুস্মিত

