ক্যানসার জয়ে চূড়ান্ত সাফল্যের প্রত্যাশা
ঝুমা ফাতেম । শনিবার, ১১ জুন ২০২২ । আপডেট ১৫:০৫
ক্যান্সার নিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরেই বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আসছে। অবশেষে সাফল্যের দেখা পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা। রেকটাল ক্যানসার (মলদ্বারের ক্যানসার) চিকিৎসায় ওষুধ আবিষ্কার করে এমনি সফলতা পেয়েছেন তারা। এর মাধ্যমে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল চিকিৎসা বিজ্ঞান। বোলা যায়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মানুষ ক্যানসার জয়ে সক্ষম হতে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো ওষুধ প্রয়োগে কিছুসংখ্যক ক্যানসার রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। ক্যানসারে আক্রান্ত কয়েকজন রোগীকে প্রায় ছয় মাস ধরে ডোসটারলিম্যাব নামের একটি ওষুধ পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়। এতে সব রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন। এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি বড় সাফল্য, সন্দেহ নেই। ট্রায়ালে অংশ নেওয়া সব রোগীর সুস্থ হওয়ার ঘটনা ইতিহাসে এটাই প্রথম। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের এ সাফল্যে বিশ্ববাসী আশাবাদী যে, সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয়, যেদিন ক্যানসার জয় করা সম্ভব হবে।
এ ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ১৮ জন রোগী কোলোন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ট্রায়ালে অংশ নেওয়া রোগীদের কারও উল্লেখযোগ্য কোনো শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি হয়নি। এটিও চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের এক বড় অর্জন। ট্রায়ালটি স্বল্পসংখ্যক রোগীর ওপর চালানো হয়েছে। প্রতিটা রোগীকে প্রায় ছয় মাস ধরে প্রতি তিন সপ্তাহ পরপর পরীক্ষামূলকভাবে এই ওষুধ সেবন করতে দেওয়া হয়। ট্রায়াল শেষে সবাইকে অবাক করে দিয়ে তাদের শরীর থেকে নির্মূল হয়ে গেছে ক্যান্সার। ওষুধটি প্রয়োগের পর তাদের কারো শরীরেই টিউমারের অস্তিত্ব ছিল না। ক্যান্সারের চিকিৎসায় ওষুধ প্রয়োগে শতভাগ সাফল্য এবারই প্রথম। তাই সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, আরও বড় পরিসরের ট্রায়াল চালাতে হবে। সমগ্র বিশ্বের মানুষ আশাবাদী, বিজ্ঞানীরা বড় পরিসরের ট্রায়ালেও আশানুরূপ সাফল্য পাবেন। গবেষকেরা বলছেন, শতভাগ সাফল্য পাওয়া গেলেও এই পরীক্ষা খুবই অল্পসংখ্যক মানুষের ওপর চালানো হয়েছে। তাই আরও বড় পরিসরে ওষুধটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালাতে হবে।
তবে ক্যানসার নিরাময় নিয়ে এই পরীক্ষা ইতিমধ্যে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শতভাগ সাফল্য পাওয়া গেলেও এই পরীক্ষা খুবই অল্পসংখ্যক মানুষের ওপর চালানো হয়েছে। তাই আরও বড় পরিসরে ওষুধটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালাতে হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। ওষুধ প্রয়োগে ক্যান্সার নিরাময়ের খবরটি সাড়া ফেলেছে সারা বিশ্বে। এটা সত্যি অসাধারণ যে ওষুধ প্রয়োগে প্রতিটা রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেছে এবং কোনো রোগীই কোনোরকমের শারীরিক জটিলতার শিকার হননি। এটা অনেক বড় একটি অর্জন।ওষুধ প্রয়োগের পর প্রত্যেক রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনা অভাবনীয়। এ ছাড়া ট্রায়ালে অংশ নেওয়া রোগীরা উল্লেখযোগ্য কোনো শারীরিক জটিলতার শিকার হননি, এটাও বড় একটি অর্জন। এই গবেষণাকে বিশ্বের প্রথম হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক এই ওষুধে কোনও রোগী মারাত্মক কোনও জটিলতায় পড়েননি-এটাই বিশেষ রকম আনন্দের বিষয়। ক্যানসারকে জয় করার জন্য বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হলেও এতদিন এ বিষয়ে আশানুরূপ সাফল্য অর্জিত হয়নি। নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের পর উন্নত দেশের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সময়ে ক্যানসার জয় করতে সক্ষম হলেও আমাদের দেশের সর্বস্তরের মানুষ এর সুফল কবে পাবে, এটা এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আমাদের দেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হলেও অর্থাভাবে অনেকেই যথাযথ চিকিৎসার বাইরে থেকে যান। এর মূল কারণ, দেশে এ রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল।
বস্তুত ক্যানসারের চিকিৎসা সারা বিশ্বেই ব্যয়বহুল। এ রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। দেশের কয়েক কোটি নারী কোনো না কোনোভাবে বিভিন্ন রকম ক্যানসার ঝুঁকিতে রয়েছেন। কেবল নারীরাই নন, পুরুষরাও পাকস্থলী, খাদ্যনালি, মুখগহ্বর, ফুসফুস এবং অন্যান্য ক্যানসারের ঝুঁকিতে রয়েছেন। বর্তমানে দেশে প্রতিবছর দুই লাখেরও বেশি মানুষ নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে। যথাযথ চিকিৎসার অভাবে ক্যানসার আক্রান্ত বহু মানুষ মারা যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক অবস্থায় যথাযথ চিকিৎসা না করালে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর নিরাময়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। খাদ্যে ভেজাল রোধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা না হলে দেশে ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে। এ প্রেক্ষাপটে ক্যানসারের কার্যকর ওষুধ উদ্ভাবন একটি আশার বার্তা নিয়ে এসেছে সবার জন্য। আমরা এ সংক্রান্ত গবেষণার চূড়ান্ত সাফল্য প্রত্যাশা করছি।
লেখক- গবেষক।
ইউডি/সুস্মিত

