কৃষক বাঁচলে দেশ হবে স্বনির্ভর

কৃষক বাঁচলে দেশ হবে স্বনির্ভর

আহসান হাবিব । শনিবার, ১১ জুন ২০২২ । আপডেট ১৫:১০

বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশে শতকরা ৮৫ ভাগ লোক গ্রামে বাস করেন। কৃষিই তাদের প্রধান উপজীবিকা। ফলে পরিবারের সবাই ক্ষুদ্রায়তন পৈতৃক জমি চাষ করে। আর বাকি ১৫ ভাগ লোক বাস করে শহরে। এ দেশের কৃষকরা সাধারণত সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে থাকে। বেশিরভাগ কৃষক এখনো ফসল উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণে লাঙ্গল, মই এবং গরু ইত্যাদির ওপর নির্ভরশীল। সাধারণ অর্থে কৃষি বলতে ভূমি কর্ষণ করে ফসল ফলানো বুঝায়। কিন্তু অর্থনীতিতে কৃষি কথাটি আরও ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। অর্থনীতিতে পশু পালন থেকে শুরু করে শস্য উৎপাদন, বনায়ন, মৎস্য সম্পদ আহরণসহ সকল প্রকার প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ প্রক্রিয়াকে কৃষির অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

কৃষি দেশের অর্থনীতির একটি অপরিহার্য উপাদান। কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধি এবং গ্রাম এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বিশাল জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধির জন্য কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ধান, পাট, তুলা, আখ, ফুল ও রেশমগুটির চাষসহ বাগান সম্প্রসারণ, মাছ চাষ, সবজি, পশুসম্পদ উন্নয়ন, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, বীজ উন্নয়ন ও বিতরণ ইত্যাদি বিষয়সমূহ এ দেশের কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। কৃষকদের অনেকেই এখন বিভিন্ন আধুনিক কৃষি-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পূর্বের তুলনায় ফলন বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন। ধান ও পাট বাংলাদেশের প্রধান ফসল হলেও গম, চা, আখ, আলু এবং বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি এদেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উৎপাদিত হয়। সরকারের উচিত গুরুত্বসহকারে সরিষা চাষের ওপর নজর দেওয়া। যাতে করে সাধারণ মানুষ সয়াবিন তেল ছেড়ে সরিষার তেল ব্যবহার করে। কৃষি পুনর্বাসন ও কৃষককে সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে।

বাজারে এমন কোনো পণ্য পাওয়া যাবে না, যার দাম স্থিতিশীল বা কমছে। প্রতিদিনই বাড়ছে কোনো না কোনো পণ্যের দাম। এর মধ্যে আমদানি করা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে সবচেয়ে বেশি। কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। এতে সুবিধা ভোগ করছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা। কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে কৃষি পণ্য কিনে মজুত করে রাখছে এবং দেশের অবস্থা বুঝে বাজারে চড়া দামে বিক্রি করছেন। দেশে কৃষি খাতের উন্নয়ন হলেও কৃষকের উন্নয়ন হয়নি। সরকারকে কৃষি খাতে নজর দিতে হবে। তাহলেই ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) সরকারি কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে কৃষিখাত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। মন্ত্রণালয়গুলো হচ্ছে- কৃষি, বন ও পরিবেশ, মৎস্য ও পশুসম্পদ, পল্লী উন্নয়ন, শিক্ষা, শিল্প, বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। কৃষি মন্ত্রণালয়কে কৃষির ওপর আরও বেশি নজর দেওয়া উচিত। কৃষকদের নামমাত্র লভ্যাংশে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করা সরকারের উপর মহলের কর্তব্য।

বাংলাদেশের কৃষি খাতকে উন্নয়নশীল কৃষি খাতে পরিণত করতে হলে কৃষিতে বেশি বেশি প্রণোদনা বাড়ানো দরকার। কৃষকদের বেশি করে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে; যাতে কৃষকরা চাষাবাদের উপর বেশি মনোনিবেশ করতে পারে। এতে করে কৃষির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে। কৃষকরা কৃষি কাজে আরও মনযোগী হবেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কোনোভাবেই কৃষিখাতে উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে তা জানা যায়। ধান চাষে লাভবান না হওয়ায় ধানের উৎপাদন ক্রমাগত কমছে। কৃষি খাতে অনেকে ধান চাষ থেকে উচ্চমূল্যের ফল-ফসলের দিকে ঝুঁকে যাওয়ায় এবং চাষযোগ্য জমি কমে আসায় ধান চাষের ক্ষেত্রে সংকট তৈরি হচ্ছে। সরকারি গুদামে ছোট কৃষকদের ফসল সংরক্ষণ করার সুযোগ করে দিতে হবে যেন ফসলের সঙ্গে সঙ্গে কৃষককে অল্প দামে ফসল বিক্রি না করতে হয়।
কৃষি খাতকে পুনরায় গুরুত্ব দিলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আনা কোনো কঠিন কাজ নয়। তাই কৃষি ও কৃষককে প্রেরণা ও প্রণোদনা দিলে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারি। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল এ ব্যাপারে কৃষকদের সঙ্গে বসে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে সংকট নিরসন সহজ হবে। দ্রুত এ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আমাদের।

লেখক- সাংবাদিক।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading