শুভ জন্মদিন আওয়ামী লীগ
মোহাম্মদ রুবেল । বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন ২০২২ । আপডেট ১৬:৩০
শুভ জন্মদিন আওয়ামী লীগ। আজ ২৩শে জুন তোমার জন্মদিন। ১৭৫৭ সালের এই দিনে পলাশির প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হলেও, ঠিক ১৯২ বছর পর ১৯৪৯ সালের আজকের এই দিনেই পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে জন্মলাভের মধ্যদিয়ে বাংলার বুকে স্বাধীনতার লাল সূর্য হয়ে এসেছিল দলটি। এরপর থেকেই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরেই দাবি আদায়ে বাঙ্গালীর অবিরাম পথচলা শুরু। অবশেষে বাঙ্গালীর নেতা বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্যদিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম। সেই থেকে বঙ্গবন্ধু-আওয়ামী লীগ-স্বাধীনতা এই এই তিনটি শব্দ ইতিহাসের পাঠ চক্রে একই সূত্রে আজও গাঁথা।
গণতান্ত্রিকভাবে জন্ম নেয়া গণমানুষের সেই প্রিয় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ইতিহাসের নানা বাঁক পেরিয়ে ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে আজ। এখানেই শেষ নয় অবিরাম ছুটে চলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কর্ণধার বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই এসেছে বাঙ্গালীর আরেক অবিভূত সাফল্য স্বপ্নের পদ্মাসেতু। যা এখন গুণে গুণে একদিন বাকি উদ্বোধনের। এরমধ্য দিয়েই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ইতিহাসের পাঠচক্রে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রতিবারের ন্যায় এবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে বলেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মাটি ও মানুষের দল। জনগণই আওয়ামী লীগের মূল শক্তি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে আমাদের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা লড়াই-সংগ্রাম ও মানুষের আস্থা অর্জন করে দলকে জনমানুষের সংগঠনে পরিণত ও শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন,আওয়ামী লীগ সরকার গত সাড়ে ১৩ বছরে দেশের অভাবনীয় উন্নয়ন করেছে। নিজেদের অর্থে নির্মিত বহুল আকাঙ্খিত পদ্মা সেতু ২৫ জুন উদ্বোধন হচ্ছে। এবছরই মেট্রোরেল ও কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল চালু হবে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সকল কর্মসূচি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সকল জেলা, উপজেলাসহ সকল
স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের জন্ম মোটেই সুখকর ছিল না। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ যখন অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে এগিয়ে চলছিল, ঠিক তখনই আঘাত হানে ঘাতকেরা। সেই আঘাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন। এর কয়েক মাস পরেই জাতীয় চারনেতাকেও হারায় জাতি। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগকে দীর্ঘ ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে এক বিভীষিকাময় দিন পার করতে হয়েছে। এরপর ১৯৮১ সালে বিদেশে অবস্থানকালে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করেন নেতাকর্মীরা। ওই বছর ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। এরপর থেকে তিনি শক্ত হাতে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে এদেশের জনগণ ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসালে ফিরে আসে সোনালী দিন। মাঝখানে এক মেয়াদ ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড মেড়ে হত্যার চেষ্টাও করা হয়। তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও দলের অনেক নেতা নিহত ও আহত হন। এরপরও নানা সময়ে চড়াই-উৎরাই পারকরে আওয়ামী লীগ। তবুও থেমে নেই দলটি। ২০০৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বঙ্গবন্দু কন্যা শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগ মানে খেটে খাওয়া মানুষের কাফেলা-
আওয়ামী লীগ মানেই বাঙালী জাতীয়তাবাদের মূলধারা। আওয়ামী লীগ মানেই সংগ্রামী মানুষের প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশের কাদা-মাটি গায়ে মাখা খেটে খাওয়া মানুষের কাফেলা। সরকার হিসেবে আওয়ামী লীগের সাফল্য অভাবনীয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গা-ছাড়া ভাবের কারণে দলটির সাংগঠনিক অবস্থা ভেতরে ভেতরে যেমন দুর্বল হয়ে পড়েছে, সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে সাংগঠনিক দুর্বলতাও। মন্ত্রী-এমপি-নেতাদের সঙ্গে দলটির তৃণমূল নেতাদের এখন যোজন যোজন ফারাক। অভ্যন্তরীণ কোন্দল-দ্বন্দ্ব আর গ্রুপিংয়ের কারণে ক্ষতবিক্ষত দলটি। যার প্রমাণ মিলেছে নানা সময়ে শেষ হওয়া স্থানীয় সরকারের সকল নির্বাচনে। কোন্দল-দ্বন্দ্ব আর বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে মূল প্রার্থীর প্রাণঘাতী সংঘর্ষে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর মৃত্যু আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে তৃণমূল আওয়ামী লীগের প্রকৃত চিত্র। দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ডের চেয়ে দলটির নেতা-মন্ত্রী-এমপিদের প্রধান লক্ষ্য হয়েই যেন দাঁড়িয়েছে আত্মীয়-পরিজন বেষ্টিত হয়ে ক্ষমতার প্রতিপত্তি ধরে রাখতে নিজস্ব বলয় সৃষ্টি, নিজস্ব ব্যবসা-বাণিজ্য আর সরকারী লাভজনক কাজ নিজের করায়ত্ত করার নগ্ন প্রতিযোগিতা। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রজ্ঞা ও সাহসিকতার ওপর ভর করে দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে যাচ্ছেন। দেশকে টেনে তুলেছেন উন্নয়নের মহাসড়কে। যারই ধারাবাহিকতায় অভূতপূর্ব সাফাল্যের নাম পদ্মাসেতু। তবে সবকিছু ছাপিয়ে মাটি ও মানুষের দল আওয়ামী লীগের কাছেই জনগণের প্রত্যাশা অনেক। সে প্রত্যাশা পূরণে কতটা এগোতে পারছে দলটিÑ এ জিজ্ঞাসা সবার।
গণমানুষের ভাব-ভাবনার ধারক আওয়ামী লীগ-
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উৎরাই ও প্রাসাদসম ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দলটি আজ এ দেশের গণমানুষের ভাব-ভাবনার ধারক-বাহকে পরিণত হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক ভাবধারার আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে দলটি। জন্মের পর থেকে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ঐতিহ্যবাহী দলটি বেঁচে আছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে। জন্মলাভের পর ইতিহাসের রেকর্ড ভঙ্গ করে টানা তৃতীয়বার নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে তিনবারের ক্ষমতাসীন দল-আওয়ামী লীগ এখনও রাষ্ট্রক্ষমতায়। দলটির টানা ১১ বছরের শাসনামলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন দেশ-বিদেশে আলোচিত হয়েছে। মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট প্রেরণ করা হয়েছে। কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে সাফল্য এসেছে। জঙ্গি দমনে সাফল্য সারা বিশ্বে আলোচিত। একই ভাবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিসহ বড় বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের বর্জন এবং অর্ধেকের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি সমালোচিত হয়েছে। গত ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত ছিল না, এমন সমালোচনাও আছে।
আওয়ামী লীগের নানা কর্মসূচী-
আজ সূর্য উদয় ক্ষণে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। এরপর সকাল ৮টায় ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ১০টায় রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলীয় কার্যালয়ে আলোসভা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখবে।
টুঙ্গিপাড়ার কর্মসূচি-
সকাল ১১টায় টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর সমাধিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একটি প্রতিনিধি দল শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন দলের শীর্ষ নেতারা।
ইউডি/সুস্মিত

