ডোপ টেস্ট: সমস্যা যেখানে সেখানে নজর দিন

ডোপ টেস্ট: সমস্যা যেখানে সেখানে নজর দিন

আবিদুর মোস্তফা । বুধবার, ২৯ জুন ২০২২ । আপডেট ১৫:৫৫

সরকারি চাকরি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করে আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রবিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শুধু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণই নয়, যুবসমাজকে মাদকদ্রব্যের ছোবল থেকে রক্ষার কাজও করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এজন্য প্রতিবেশী দেশ থেকে মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতেও তৎপর তারা। ২০২০-২১ সালে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ মাদকসংশ্লিষ্ট ২০ হাজারের বেশি মামলা হয়েছে।

ভয়ংকর মাদক ইয়াবা ও আইস মিয়ানমার থেকে আসছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সে দেশকে এ ব্যাপারে অনুরোধ করলেও তারা কথা রাখেনি। মিয়ানমার সীমান্তে ইতোমধ্যে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারি চাকরি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ডোপ পরীক্ষার জন্য আইন পাসের সিদ্ধান্তটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। আইন হলে মাদকসেবীদের জন্য সব সরকারি চাকরির দ্বার রুদ্ধ হয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ঠাঁই পাবে না মাদকাসক্তরা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বেশ আগে থেকেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করছে। গত বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ-মাদরাসায় মাদকবিরোধী প্রচার বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন পণ্যের মোড়কের গায়ে ‘মাদককে না বলুন’ প্রচার যোগ করার পক্ষে মত দেওয়া হয়। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করে আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তবে এটি যাতে বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরোয পরিণত না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

জানা গেছে, গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ মাদক সংশ্লিষ্ট ২০ হাজারেরও বেশি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে৷ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে সব সংস্থা মিলে ইয়াবা জব্দ করেছে ৩ কোটি ৬৩ লাখ ৮১ হাজার৷ ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ ৮ হাজার বোতল৷ কোকেন জব্দ করা হয় প্রায় ৪ কেজি, হেরোইন ২১০ কেজি৷ ২০২১ সালে মাদক-সংক্রান্ত ৪৭ শতাংশ মামলায় আসামির সাজা হয়েছে৷ এই হার ২০২০ সালে ছিল ৪৩ শতাংশ৷
এদিকে, ফেনসিডিল ও ইয়াবার পর নেশা হিসেবে এখন ক্রিস্টাল মেথ বা আইস ‘জনপ্রিয়’ হয়ে উঠছে৷ প্রায়ই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জব্দ হচ্ছে আইস৷ দেশে যেসব রুট দিয়ে ইয়াবা ঢুকছে, তার প্রায় সব ক’টি দিয়ে আইসও আসছে৷ দেশের যে কোনো প্রান্তে হাত বাড়ালেই এখনও মিলছে ইয়াবা ও ফেনসিডিল৷ একইভাবে আইসও ছড়িয়ে পড়ছে৷ এদেশে তুলনামূলক নতুন এই মাদক ঠেকানোকে চ্যালেঞ্জ মনে করছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা৷ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনেও আইসের ক্ষতিকর দিক উঠে এসেছে৷ এতে বলা হয়, এটি শক্তিশালী আসক্তি সৃষ্টিকারী মাদক।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক হলে সম্ভবত বাংলাদেশই হবে বিশ্বের প্রথম দেশ- যেখানে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মাদকের পরীক্ষা দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ডোপ টেষ্ট এর চিন্তাটা কার মাথা থেকে কীভাবে এলো? অপেক্ষাকৃত মেধাবীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার চেষ্টা করেন। সরকারের কাছে কি এমন কোনো তথ্য আছে যে কলেজের পড়াশোনায় ভালো ছেলে মেয়েরা মাদকাসক্ত! তা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে এই চিন্তা কেন এলো। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসবেন তাদের ব্যাপারে সরকারের এই মনোভাব হলে যারা কলেজে পড়ছেন বা পড়বেন- তাদের ব্যাপারে সরকারের ভাবনা কি? সরকারের মধ্যে যদি মাদক নিয়ে সত্যিই কোনো উদ্বেগ থেকে থাকে, তা হলে উচিৎ মাদক কারবারীদের দিকে মনোযোগ দেয়া, মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হওয়া। সমস্যা যেখানে সেখানেই তো মনোযোগ দেয়া দরকার।

লেখক- সাংবাদিক

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading