জনগণের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপসহীন

জনগণের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপসহীন

মোস্তফা কামাল । বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২ । আপডেট ১৪:০৫

বাঙালির মহাজাগরণের পথিকৃৎ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অকুতোভয়। তিনি অন্যায়ের কাছে কখনও মাথা নত করেননি। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন ছিল- বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি, বাঙালির শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তি। জনগণের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপসহীন। তিনি সারাটা জীবন সংগ্রাম করেছেন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। বঙ্গবন্ধু মানুষকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন এবং বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালির পরম বন্ধু।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণের অধিকার আদায়ে দীর্ঘ ২৩ বছর আপসহীন থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত বাঙালির সব প্রাপ্তিই এসেছে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। বঙ্গবন্ধুর তুলনা শুধু তিনি নিজেই, অন্য কেউ নন। তিনি একাধারে সমাজের, দেশের, বাঙালির ও বিশ্বের বন্ধু ছিলেন। সমুদ্রের গভীরতা মাপা যাবে কিন্তু জনতার জন্য বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা কী পরিমাণ ছিল তা মাপা যাবে না। সমাজ, দেশ, বাঙালির ও বিশ্বের বন্ধু ছিলেন বঙ্গবন্ধু। যুগে যুগে অনেক নেতা এসেছেন কিন্তু তার মতো এত বিচক্ষণ নেতা বিশ্বে বিরল। তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, এরপর দল সংগঠিত করেছেন, পরে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন, তারপর স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ ছিলেন। মাত্র ৫৫ বছর বেঁচে ছিলেন তিনি। এই ৫৫ বছরে তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছিলেন। বিশ্ব দরবারে বঙ্গবন্ধুকে ‘রাজনৈতিক কবি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু সর্বপ্রথম বাঙালির ইতিহাসে সার্বভৌম ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তিনি প্রথম এমন একজন মানুষ যিনি একজন সার্বভৌম বাঙালি, সার্বভৌম নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন, যার কথা অক্ষরে অক্ষরে জাতি পালন করেছে। সেজন্য বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালির ক্ষেত্রেই নয়, বঙ্গবন্ধু এই উপমহাদেশে সেইসঙ্গে বিশ্ব মানচিত্রে ‘রাজনীতির কবি’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পেরেছেন।

হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে হবে। তার আত্মত্যাগের কথা, তার আদর্শের কথা, তার আপসহীন সংগ্রামের কথা, তার প্রতিবাদী মানসিকতার কথা এবং তার দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। মানব দরদী ও মানবতার দিশারি এ মহান নেতা আমাদের একটি স্বাধীন দেশ দিয়েছেন ও একটি স্বাধীন পতাকা দিয়েছেন। আর নিজে দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। তাই আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর বিরত্বগাথা অবশ্যই জানাতে হবে।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading