শেখ হাসিনা মানেই সমৃদ্ধির সোপান

শেখ হাসিনা মানেই সমৃদ্ধির সোপান

সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ । শনিবার, ০৯ জুলাই ২০২২ । আপডেট ১১:২০

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাÐের পর প্রায় ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যেদিন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়, শেখ হাসিনা তখন তার ছোট বোন শেখ রেহানা, স্বামী ও দুই সন্তানসহ তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করছিলেন। ফলে প্রাণে বেঁচে যান তারা। ১৯৮১ সালের ১৭ মে জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসের পুনর্র্নিমাণ শুরু হয়। পঁচাত্তরের পর বাঙালির জীবনে যে অন্ধকার নেমে এসেছিলো, তার ফেরার মধ্য দিয়ে তা কেটে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে। বাংলার মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখে।

শেখ হাসিনা একজন আত্মপ্রত্যয়ী, মানবতাবাদী ও দূরদর্শী নেতৃত্বের অধিকারী। যার প্রকাশ ঘটেছিল সেই ছাত্রজীবনে। তবে তারুণ্যের সেই দিনগুলো থেকে আজকের শেখ হাসিনা অভিজ্ঞতায় অনেক সমৃদ্ধ। দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি খুবই ঋদ্ধ। বুদ্ধিমত্তা আগের মতই প্রখর, সহনশীলতা ও দৃঢ়তা, ধৈর্য, যেন তাঁর চরিত্রগত ধর্ম।
ভালোবাসায় ও সহমর্মিতায় তিনি সবার কাছে প্রিয় এবং বাঙলার মানুষের অতি আপনজন। তাই আজ আমাদের কাছে গর্বের বিষয় শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রতীক হিসেবে জনগণের কাছে নন্দিত। তিনি জনমানুষের নেতা। সেখান থেকে এখন বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন। তার যোগ্য নেতৃত্বে দেশ যেমন এগিয়ে চলছে, তেমনি বৈশ্বিক নেতাদের বাহবাও পেয়েছন তিনি। যা বাঙালি হিসেবে আমাদের গর্বিত করে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিন রাত এক করে বাঙলার মানুষের কল্যাণে কাজ করে চলেছেন। দেশকে এনে দিয়েছেন উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের তকমা। তার দেখানো পথেই উন্নত ও সমৃদ্ধ তথা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার দিকে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে বাংলাদেশ। নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য, শিশুমৃত্যুর হার, পরিবেশ, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ইত্যাদিতে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে একটি অনুকরণীয় রাষ্ট্র। মানুষের প্রতি তার মমত্ববোধ আর ভালবাসার কারণে আজ পৃথিবীতে বাংলাদেশ একটি কার্যকর কল্যাণমুখী রাষ্ট্র। প্রধানমন্ত্রী প্রবর্তিত সোশ্যাল সেফটি নেট বা সামাজিক নিরাপত্তা বলয় গোটা উন্নয়নশীল বিশ্বে এক অনন্য ঘটনা।

বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ ধরে দেশি-বিদেশি সকল বিশেষজ্ঞ ও গবেষকের হাইপোথিসিসকে ভুল প্রমাণ করে বাংলাদেশ মিয়ানমার ও ভারতের দাবির বিপক্ষে বিশাল সমুদ্রসীমা জয় করেছে। এটা সম্ভব হয়েছে কেবল প্রধানমন্ত্রীর সুদক্ষ ও সাহসী নেতৃত্বে এবং সফল এনার্জি ডিপ্লোমেসির কারণে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে পৃথিবীর খুব কম দেশই এত সফলভাবে সমুদ্রের উপর তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। এই কৃতিত্ব কেবলই প্রধানমন্ত্রীর। একটি স্বল্পোন্নত দেশ হওয়া সত্তে¡ও ১৩ হাজার ৫০০ এর মতো কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোঁড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আরও ৪ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণাধীন। যুগান্তকারী এই ব্যবস্থাও প্রধানমন্ত্রীর চিন্তার ফসল। ঘরহীনদের দিয়েছেন জায়গাসহ পাকা ঘর।

বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নানা স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে চলেছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। মহামারি করোনা থেকে শুরু করে মানবসৃষ্ট নানা সংকট-বেশ বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করছেনকরোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তার নেতৃত্বে গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র দিন রাত কাজ করে যাচ্ছে। দেশের কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, খেটে খাওয়া তথা স্বল্প আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মানুষকে বাঁচাতে ও অর্থনীতিকে রক্ষা করতে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার অনুদান ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, যা খুব প্রশংসনীয়।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু বাস্তবায়ন তার আরেকটি সাহসী সিদ্ধান্ত। যা বাঙালিকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। চলতি বছরের জুনের মাঝে এ সেতু খুলে দেওয়া হবে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর পর বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম আর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের আলোকবর্তিকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাত্তরে বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। যা বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বের কাতারে নাম লেখাবে বাংলাদেশ এই আমাদের প্রত্যাশা।

ইউডি/সিফাত

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading