বিদ্যুতের অপচয় কমলে দেশের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত সম্ভব

বিদ্যুতের অপচয় কমলে দেশের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত সম্ভব

মোহম্মদ আবু তারেক । শুক্রবার, ১৫ জুলাই ২০২২ । আপডেট ১০:৪০

এমন একটা সময় ছিল যখন ঘরবাড়িতে ঘুটঘুটে অন্ধকারে কাটাতে হতো সবাইকে। কিন্তু বর্তমানে দেশের অকল্পনীয় উন্নয়নের ফলে বিদ্যুতের চাহিদা মিটিয়ে শুধু শহরে নয়, মফস্বলেও অন্ধকারে ফুটেছে আলো। বর্তমানে দেশের সর্বত্র শতভাগ বিদ্যুতের জোগান দিয়ে যাচ্ছে সরকার। কিন্তু চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু হতে না-হতেই বেশ কিছুদিন যাবৎ লক্ষ করা যাচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতির দিকে। যার ফলে সারা দেশে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। তাই বিদ্যুৎ শক্তির ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন কারখানায় চরমভাবে উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। আর এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে দেখা দিতে পারে চরম মন্দাভাব।

বিদ্যুৎ আইন-২০১৮ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ অপচয় করলে বা বিদ্যুতের সরবরাহ ঘুরিয়ে দিলে অথবা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে কোনো বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন কেটে দিলে বা ক্ষতিগ্রস্ত করলে তা হবে অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অন্যূন এক বৎসর এবং অনধিক তিন বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। কোনো ব্যক্তি বাসগৃহ বা কোনো স্থানে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ চুরি করলে অনধিক তিন বছর কারাদণ্ড অথবা চুরিকৃত বিদ্যুতের মূল্যের দ্বিগুণ অথবা ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। একইভাবে, কোনো ব্যক্তি শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ চুরি করলে অনধিক তিন বছর কারাদণ্ড অথবা চুরিকৃত বিদ্যুতের মূল্যের দ্বিগুণ অথবা পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

দেশের বিভিন্ন খাতের পণ্য উৎপাদনে বৈদ্যুতিক শক্তি মূল নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা পালন করে। বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাসের মূল কারণ হচ্ছে জাতীয় সম্পদের অপচয়। বিশেষ করে অতিমাত্রায় বিদ্যুতের অপচয় লক্ষ করা যায় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে। যেখানে অযথা লাইট, ফ্যান, এসিসহ বিভিন্ন ভারি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়াও শহরের বাসা-বাড়িতে অত্যাধিক মাত্রায় টিভি, ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন, হিটার, ইস্তিরিসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকে, যেগুলো বিদ্যুৎ অপচয়ের জন্য দায়ী। এছাড়াও রান্নার কাজের জন্য অপ্রয়োজনীয় গ্যাসের ব্যবহার করে থাকে শহরাঞ্চলের মানুষজন। এমনকি কাপড় শুকানোর কাজেও দীর্ঘসময় ধরে চালিয়ে রাখে বৈদ্যুতিক ফ্যান। গ্রামাঞ্চলেও এখন একই রূপ ধারণ করেছে। শহরাঞ্চলের ছোঁয়া লাগাতে গিয়ে আধুনিক বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছে গ্রামের মানুষজন। যেখানে ঘটছে প্রয়োজনের অধিক সময় টিভি, ফ্রিজের ব্যবহার। এছাড়া বাসায় ফ্যান, লাইট চালু রেখে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় গ্রামের মানুষজনকে। বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিভিন্ন আলোকসজ্জা করা হয়, যেটা অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ অপচয়ের জন্য দায়ী।

এহেন অবস্থায় বিকল্প পদ্ধতি তথা সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি করা, পাওয়ার সেভিংস বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, দিনের বেলায় লাইট, ফ্যান কিংবা এসি কম ব্যবহার করে বাইরের আলো প্রবেশ করানোর ব্যবস্থা করা, ওয়াশিং মেশিন ব্যবহারের পরিবর্তে হাতে কাপড় কাচা, কাপড় ইস্তিরির জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার না করে দোকানে কয়লার দ্বারা চালানো ইস্তিরি ব্যবহার করা ইত্যাদি দিকে খেয়াল করা যেতে পারে। এছাড়া বাইরে বের হওয়ার সময় সব বৈদ্যুতিক সুইচ বন্ধ করে বের হওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনের অধিক জ্বালানি গ্যাস ব্যবহার না করার অভ্যাস রপ্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় সম্পদের অপচয় রোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ তথা জরিমানা আরোপের ব্যবস্থা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে এটা ঠিক যে, সরকারের একার পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব নয়। তাই দেশের সুনাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসা এবং নিজে সচেতনতা অবলম্বনপূর্বক অপরজনকে সচেতন করার মাধ্যমে বিদ্যুতের অপচয় কমিয়ে দেশের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত সম্ভব করতে হবে। আমাদের উন্নয়নের ধারা এবং সম্পদ ব্যবহারের মাত্রায় যদি পরিবর্তন না আনি, তাহলে আমাদের সীমিত সম্পদ দ্রুত নি:শেষ হয়ে যাবে। আমাদের দেশের সম্পদ অপচয় রোধে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। এর ফলে আমাদের জাতীয় সম্পদের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।

লেখক- কলামিস্ট।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading