জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠুক পৃথিবী

জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠুক পৃথিবী

আরফাতুর রহমান শাওন । শুক্রবার, ২৯ জুলাই ২০২২ । আপডেট ১২:৩৫

যে বিদ্যা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটায় না তাই পুঁথিগত বিদ্যা। যে শিক্ষার সঙ্গে জ্ঞানার্জনের বিশেষ কোনো সম্পর্ক নেই, কেবল জীবিকার জন্য ব্যবহৃত হয় তাই পুঁথিগত বিদ্যা। কথায় আছে, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষার ওপর লেখালেখি গবেষণা হয়েছে অনেক। কিন্তু স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেই কি সঠিক শিক্ষা অর্জন করা সম্ভব? পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি কর্ম জীবনের পথ নির্দেশনার গাইডলাইন মাত্র। প্রচলিত পুঁথিগত শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা খুঁজে পায় না কোনো বিনোদন। কারণ একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বা বিনোদনের কোনো সম্পর্ক থাকে না। অথচ জ্ঞানার্জনই বিনোদনের সর্বোৎকৃষ্ট উপায়। আর সৃজনশীল ও মানবিক উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে যে শিক্ষা অর্জিত হয় তাই প্রকৃত শিক্ষা।

জ্ঞানার্জনের পিপাসা নিয়ে, সেবার মানসিকতা নিয়ে পেরুতে হবে শিক্ষাঙ্গন। যে জাতি যত বেশি জ্ঞানী, সে জাতি তত বেশি মানবিক। যে জাতি যত বেশি ন্যায়পরায়ণ, সে জাতি তত বেশি ত্যাগী। জ্ঞানার্জনের পিপাসা মানুষকে দান করে অমরত্ব। অর্জিত জ্ঞানের আলো আলোকিত করে একটু একটু করে পৃথিবীকে। বিদ্যা মানুষকে অর্জন করতে হয় নিজ পরিবার, প্রতিবেশ, প্রতিকূলতা ও প্রকৃতি থেকে। প্রকৃত শিক্ষিত ব্যক্তির চোখের গভীরতা, হৃদয়ের প্রসারতা আর দৃষ্টিভঙ্গির দূরদর্শিতা বিশ্ব সভ্যতার জন্য আশীর্বাদ। প্রকৃত শিক্ষা যেন জ্ঞানার্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, আর জীবিকার মাধ্যম হোক কর্মমুখী শিক্ষা। জ্ঞানার্জনের মাধ্যম হোক সৃজনশীল শিক্ষা। বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষা হোক গবেষণামূলক।

কী করে পাব এই সুশিক্ষা? আছে কি বাংলাদেশে এমন কোনো উদাহরণ, যা তুলে ধরার মতো? অবশ্যই আছে। আজকের নতুন প্রজন্মেও মেধাবী প্রতিনিধিরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্বে দেবে। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্বমানের শিক্ষা পেয়ে সুনাগরিক হতে পারে। যেকোনো জায়গার শিক্ষার্থীর সঙ্গে শুধু তাল মিলিয়েই চলা নয়, উন্নত প্রযুক্তিটাও যেন সে আয়ত্ত করতে পারে। সেই ভাবেই তাদের গড়ে তুলতে হবে। কারণ, আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হলে শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে হবে।

বাস্তবমুখী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এই শিক্ষার প্রধান উৎস হলো পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ভালো বই এবং সৎসঙ্গী। একজন ব্যক্তিকে বাস্তবমুখী শিক্ষা অর্জনে মুখ্য ভূমিকা রাখে, তার পরিবার। কেননা পরিবারের মাধ্যমে কোনো মানব শিশু শিক্ষা পেয়ে থাকে, কীভাবে তার জীবনের সব প্রতিকূলতা জয় করে সফলতা অর্জন করতে পারে। এর জন্য বাবা-মা তথা অভিভাবকদের উচিত সন্তানের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা। যেন তার সন্তান ভালো রেজাল্ট নয়, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম। আর ভালো বই এবং সৎসঙ্গীও শিক্ষার একটি উপাদান। ভালো বই মানুষের জ্ঞান সম্প্রসারণে এবং আত্মশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। অন্য দিকে সৎসঙ্গী মানুষকে সৎ উপদেশ, বিপদে সাহায্য, ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করেন। এতে করে একজন মানুষ আত্মপ্রতিষ্ঠিত হতে অনুপ্রেরণা পায়।

প্রাথমিক থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক সকল স্তরে বিজ্ঞানের বইগুলোকে সুখপাঠ্য করে রচনা করতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিষয়ে পড়তে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এ ছাড়া বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রইয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া দরকার। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় হাতে কলমে বাস্তবধর্মী শিক্ষাই হলো কারিগরি শিক্ষা। অর্থাৎ যে শিক্ষা ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে দেশের শিক্ষার্থী সমাজকে দক্ষ এবং বাস্তবসম্মত জ্ঞানের অধিকারী হিসেবে করে গড়ে তোলে। বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় কারিগরি শিক্ষাকে চাকরির ক্ষেত্রেও খুব গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। দেশের প্রতিটি জায়গা থেকে যদি হাজারো মানুষের দৈনিক শিক্ষার প্রতিফলন ঘটানো যায়, তাহলে অজ্ঞতার অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করা এবং ধর্ম, গণতন্ত্র, সমৃদ্ধি, বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করা ও একইসাথে ভন্ডামী ও অনৈতিকতা থেকে বেরিয়ে এসে দেশ ও জাতির সেবা করা সম্ভব। সমাজের প্রয়োজনে পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনিক শিক্ষার বেস্ট প্র্যাকটিসের সমন্বয় ঘটিয়ে সুশিক্ষার জন্য কাজ করতে হবে। অরাজকতা, কুশিক্ষা ও দুর্নীতি ধ্বংস হোক, মানবতা এবং দৈনিক শিক্ষার জয় হোক, এটিই সকলের কাছে একান্ত কামনা।

লেখক- কলামিস্ট।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading