বিদ্যুৎ সঙ্কট নিরসনে সরকারের নির্দেশনা অবশ্য পালনীয়
আশিকুজ্জামান রনি । বৃহস্পতিবার, ০৪ আগস্ট ২০২২ । আপডেট ১০:০০
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম ঊর্ধ্বমুখিতার কারণে আমদানিনির্ভর জ্বালানি পণ্য আমদানি ও সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। সরকার আশঙ্কা করছে, অনেক বেশি দামে জ্বালানি পণ্য আমদানি ও সরবরাহ অব্যাহত রাখলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সংকট উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এই সংকট আরও বাড়বে।
এ কারণে সরকার বিদ্যুৎ ও তেলের খরচ কমানোর একগুচ্ছ কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো হলো-সরকারি সব দপ্তরে বিদ্যুতের ২৫ শতাংশ ব্যবহার কমানো; জ্বালানি খাতের বাজেট বরাদ্দের ২০ শতাংশ কম ব্যবহার; অনিবার্য না হলে শারীরিক উপস্থিতিতে সভা পরিহার করা; অধিকাংশ সভা অনলাইনে আয়োজন করা; অত্যাবশ্যক না হলে বিদেশ ভ্রমণ যথাসম্ভব পরিহার করা; খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে বাজার মনিটরিং; মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মজুতদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ অন্যান্য পদক্ষেপ জোরদার করা। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী পরিবহণে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার যৌক্তিককরণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
আর অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বাড়াতে অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজস্ব ক্রয় পরিকল্পনা পুনঃপর্যালোচনা করে রাজস্ব ব্যয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করবে। দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এজন্য সচেতন নাগরিক হিসাবে এখন সবারই উচিত, বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করা। আমরা নিজেদের অজান্তে প্রতিদিন অনেক বেশি বিদ্যুৎ অপচয় করে ফেলি। একই সঙ্গে দিনকে দিন বাড়তে থাকা প্রযুক্তির ব্যবহার তো আছেই। তাই বলে কি বিদ্যুৎ ব্যবহার করব না? অবশ্যই করব। তবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সময় তা অপচয় হচ্ছে কিনা, সে বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, বিদ্যুৎ অপচয় রোধে সচেতন নাগরিক হিসাবে আমাদের কী করণীয়? টিউব লাইটে ভালোমানের ইলেকট্রনিক্স ব্যালেস্ট ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিল কম আসবে; ফ্যানের ইলেকট্রনিক্স রেগুলেটর হলে বিদ্যুৎ বিলের খরচ বেঁচে যাবে; বিভিন্ন পয়েন্টে অযথা চার্জার লাগিয়ে রাখলেও কিছু বিদ্যুৎ খরচ হয়; প্রয়োজন ব্যতীত ওভেন, ফ্যান, পিসি ইত্যাদি বন্ধ করে রাখুন; বিদ্যুৎ সংযোগ খারাপ থাকলে বিদ্যুৎ খরচ বেশি হয়, প্রয়োজনে সেটি মেরামত করুন; এনার্জি সেভার বাল্ব ব্যবহার শুরু করুন; ওয়াশিং মেশিনে অনেক বিদ্যুৎ খরচ হয়, তাই এটা ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন; ড্রায়ারে বা ফ্যান ছেড়ে কাপড় শুকানোর বদলে বারান্দা বা ছাদে মেলে দিন; রেফ্রিজারেটরের কয়েল পরিষ্কার রাখুন; কাপড় ইস্ত্রি কম করুন; এসি ছেড়ে ঘুমাবেন না, কারণ ফ্যানের চেয়ে এসিতে বিদ্যুৎ অপচয় হয় বেশি; গরমের সময় অফিসে কোট টাই ব্লেজারের পরিবর্তে হালকা পোশাক ব্যবহার করুন, এতে এসির পরিবর্তে ফ্যান ব্যবহারে বিদ্যুতের অপচয় বন্ধ হবে; পানি গরম করতে গিজার বা হিটার ব্যবহার কমিয়ে দিন; ঘর থেকে বের হওয়ার সময় লাইট ফ্যানের সুইচ বন্ধ করে দেওয়া অভ্যাস করুন; রাইস কুকার, মাইক্রোওয়েভ, কারি কুকার ইত্যাদি একেবারেই বাধ্য না হলে ব্যবহার করবেন না; ইলেক্ট্রনিং ব্যালাস্ট ডিম লাইট ব্যবহার করুন; লাইট না জ্বালিয়ে ঘরের জানালা-দরজা খুলে রাখুন দিনের বেলায়; বিভিন্ন উৎসব কিংবা অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা কমানোর ব্যবস্থা করুন; বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অযথা বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালিয়ে রাখা বন্ধ করতে হবে।
তা ছাড়া যাদের বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে কিংবা অবৈধ সংযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, নোটিশ দেওয়ার পরও যেসব গ্রাহক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবে না, তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে। সরকারি-বেসরকারি যেই হোক না কেন, বিদ্যুৎ বিল যে বা যেই প্রতিষ্ঠান বকেয়া রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার যেসব পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সচেতন নাগরিক হিসাবে আমাদের জন্য অবশ্য পালনীয়।
লেখক: কলামিস্ট।
ইউডি/সুস্মিত

