চীন ও আমেরিকার দুই মন্ত্রী আজ ঢাকায়: দু’দেশের সঙ্গে যেসব বিষয়ে আলোচনা হতে পারে

চীন ও আমেরিকার দুই মন্ত্রী আজ ঢাকায়: দু’দেশের সঙ্গে যেসব বিষয়ে আলোচনা হতে পারে
উত্তরদক্ষিণ । ০৬ আগস্ট ২০২২

উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ০৬ আগস্ট ২০২২ । আপডেট ১২:২৫

ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর করাকে কেন্দ্র করে চীন ও আমেরিকার মধ্যে চলছে বৈরি আবহ। এরই মাঝে দেশ দুটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দুই মন্ত্রীর ঢাকা সফর গুরুত্ব বাড়াচ্ছে। আজ একই দিনে ঢাকায় পা রাখছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং আমেরিকার আন্তর্জাতিক সংস্থা বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিশেল জে সিসন। তারা দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবেন। তাদের এই সফর নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন সাইফুল অনিক

ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও আলোচনার বিষয়কে কেন্দ্র করে ঢাকা সফর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমেরিকার আন্তর্জাতিক সংস্থা বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। কিন্তু তাইওয়ান ইস্যুতে চীন-আমেরিকা উত্তেজনার মধ্যে তাদের এই সফর গুরুত্ব পাচ্ছে বহুগুণে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ভূরাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশকে সবাই কাছে পেতে চাইছে। সব মিলিয়ে মিশেল জে. সিসন এবং ওয়াং ই’র বাংলাদেশ সফর অন্তত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে আমেরিকা বাংলাদেশের উপর নানামুখী চাপ প্রয়োগ করছে। বাংলাদেশের এলিট ফোর্সের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বর্তমান এবং সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এছাড়াও বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আমেরিকার একের পর এক নানা রকম বিবৃতি দিচ্ছে। সেই সকল ইস্যুতে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর গুরুত্ব বাড়াচ্ছে বলছেন তারা। অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক কথায় নিজের উদ্যোগেই বাংলাদেশে আসছেন। বেশ’কটি চুক্তির পাশাপাশি বৈশ্বিক উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা করবেন তিনি।

আমেরিকার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা আসার নেপথ্যে কী : কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাইডেন প্রশাসনের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরে ওয়াশিংটনের বহুপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তা ইস্যুটি গুরুত্ব পাবে। এছাড়া বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, মানবাধিকার ও রোহিঙ্গা ইস্যু থাকবে আলোচনার টেবিলে। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া জাতিসংঘে মার্কিন সহযোগিতাকে আরও গভীর করা এবং আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের পরবর্তী মহাসচিব পদের জন্য ডোরেন বোগদান-মার্টিন-এর প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন আদায় করার বিষয়টিও বৈঠকগুলোতে গুরুত্ব পাবে।
সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে, সিসন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মার্কিন আমেরিকা এবং অন্যান্য দেশগুলো কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে সে সম্পর্কে মতবিনিময় করবেন। সিসন ২০২১ সালের ২১ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক সংস্থা বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিনি শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে মার্কিন রাষ্ট্রদূত (২০১২-২০১৪), লেবাননে মার্কিন রাষ্ট্রদূত (২০০৮-২০১০) ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত (২০০৪-২০০৮) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শাহরিয়ার আলম

চীনের সঙ্গে একাধিক চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা: চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই আজ সকালেই বাংলাদেশে পৌঁছাবেন এবং আগামীকাল (৭ আগস্ট) ফিরে যাবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে কাল সকালে তিনি বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। ওয়াং ই-এর সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেক গভীর এবং বিস্তৃত। সে জায়গা থেকে আসন্ন সফরে একাধিক সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এর মধ্যে নবায়ন, নতুন সহযোগিতা, বিশেষ করে দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশের অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত জানিয়ে তিনি বলেন, এর সংখ্যা পাঁচটি বা সাতটি হতে পারে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কি বার্তা নিয়ে আসছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা তিনি বলতে পারবেন।’

গুরুত্ব পাবে ভূরাজনীতি: এদিকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও ভূরাজনীতি নিয়ে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। কূটনৈতিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সর্বশেষ ২০১৭ সালের নভেম্বরে ঢাকায় এসেছিলেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী চীন। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগ জিএসআই এবং বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ জিডিআইয়ের মতো বিষয়গুলো দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে আলোচনায় আসতে পারে। সারা বিশ্বের ‘অবিচ্ছেদ্য নিরাপত্তা’ এই মূলনীতিকে সামনে রেখে গত এপ্রিলে সি চিন পিং জিএসআই ঘোষণা করেন। বিশ্লেষকদের মতে, জিএসআই ঘোষণার মধ্য দিয়ে চীন সারা বিশ্বে ‘বন্ধুপ্রতীম পরাশক্তির’ ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আর জিডিআইকে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজির পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চীনের বৈশ্বিক উদ্যোগে বাংলাদেশের ভূমিকা কী : চীনের একাধিক বৈশ্বিক উদ্যোগ আছে এবং ওই উদ্যোগে বাংলাদেশসহ আরও বন্ধু দেশগুলোকে পাশে চায় বেইজিং। এ বিষয়ে আলোচনা হবে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চীন তাদের বৈশ্বিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে তখন কথা হবে। ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশন বা অন্য জোটের বিষয়ে চীনের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্য বলয়ের সঙ্গে কী করবো সেটি আমাদের বিষয়। আশা করি অন্য কোনও দেশ এ বিষয়ে আমাদের কোনও পরামর্শ দেবে না। তিনি বলেন, তবে চীন বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র, তাদের অনেক পরিকল্পনার সঙ্গে বাংলাদেশ জড়িত।

গুরুত্ব পাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যু

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনকে পাশে চায় বাংলাদেশ : রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের ভূমিকা আরও জোরালো করার আহ্বান জানাবে বাংলাদেশ। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি আমাদের অগ্রাধিকারমূলক বিষয় এবং আমরা এটি জোরালোভাবে তুলবো। তিনি বলেন, আসিয়ান মন্ত্রীদের বৈঠকে মিয়ানমারের প্রতি একটি শক্ত বার্তা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন ঢাকা সফর করবেন তার দুই সপ্তাহ আগে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস তাদের প্রাথমিক সিদ্ধান্তে বলেছে, এই মামলা পরিচালনা করার অধিকার তাদের আছে এবং এই মামলার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই তাকে জোরালো একটি বার্তা দেবো, আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাবো, যাতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়।

চীনের বিবৃতি ও বাংলাদেশের উত্তর : চীন ও আমেরিকার মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শাহরিয়ার আলম বলেন, আমরা সবসময়ই ‘এক চীন’ নীতিতে বিশ্বাস করি। আমরা চাই যে, এ ইস্যুতে পরিস্থিতির যাতে অবনতি না হয়। কেননা বিশ্ব যথেষ্ট সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের আহ্বান হচ্ছে যে, সব পক্ষ যাতে এ ইস্যুতে সংযত আচরণ করে এবং জাতিসংঘের এ সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলে। বাংলাদেশ ‘এক চীন’ নীতির প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে এবং জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাদের মতপার্থক্য নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আহ্বান জানাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি যে, এই পরিস্থিতির আর অবনতি হবে না। কেননা বিশ্ব এখন নতুন সঙ্কট বইতে পারবে না। অন্য বলয়গুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কী হবে তা আমাদের ইস্যু। আমরা চাই না আমাদের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে কেউ পরামর্শ বা নির্দেশনা দিক। এ বিষয়ে বাংলাদেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। তবে চীন বাংলাদেশের একটি বন্ধু রাষ্ট্র এবং তাদের অনেক পরিকল্পনার সঙ্গে আমাদের সম্মতি আছে।
এদিকে মন্ত্রীর এসব বক্তব্য গণমাধ্যমে আসার আগে সকালে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ঢাকার চীনা দূতাবাস। ওই বিবৃতিতে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ অব্যাহতভাবে ‘এক চীন নীতি’ মেনে চলবে। চীন বিশ্বাস করে, এ অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য বেইজিংয়ের সঙ্গে কাজ করবে ঢাকা। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও চীন ভালো প্রতিবেশী, বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার। সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভূখøের অখøতার মতো মৌলিক স্বার্থের বিষয়ে উভয় দেশ সবসময় একে অপরকে বোঝে এবং সমর্থন করে। ‘ওয়ান-চায়না’ নীতি ও তাইওয়ানের স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থান নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি সন্তুষ্টি জানায় চীন।এরপর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ তাইওয়ান পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সর্বোচ্চ সংযম অবলম্বন করার পাশাপাশি উত্তেজনা বাড়াতে পারে, এ অঞ্চল এবং এর বাইরে শান্তি-স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে, এমন কোনো কাজ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে বাংলাদেশ।

উত্তরদক্ষিণ । ০৬ আগস্ট ২০২২ । ১ম পৃষ্ঠা

‘আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে দু’জনের সফরের গুরুত্ব অনেক’: বর্তমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, আলোচনার জন্য বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে রয়েছে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে চীনের উদ্যোগে গঠিত ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থা ও তাদের প্রভাব কাজে লাগানো। ওয়াং ই সম্প্রতি মিয়ানমার সফর করেছেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ে মামলা চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এতে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের ওপর আসিয়ানের আন্তর্জাতিক মহলেও কিছু চাপ তৈরি হয়েছে। এ কারণে এই সফর বাংলাদেশের জন্য একটি সুযোগও বটে।
সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলগত জোট (আইপিএস) ও ইন্দো-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক জোট (আইপিইএফ) কার্যকর করার ক্ষেত্রে আমেরিকা, ইন্ডিয়া ও জাপানের তৎপরতাও এখন চোখে পড়ার মতো। এই প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক উদ্যোগের বাইরে কোনো কৌশলগত ও সামরিক জোটে বাংলাদেশ যোগ দেবে না বললেও চীন এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায়। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠক আছে। জাতিসংঘে তাইওয়ান প্রসঙ্গ এলে বাংলাদেশের সমর্থন চীনের দরকার হবে। শ্রীলঙ্কায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রেক্ষাপটে ঋণের ফাঁদ নিয়ে যে কথা রটেছে, বাংলাদেশসহ বন্ধুরাষ্ট্রকে সেসব বিষয়ে চীন আশ্বস্ত রাখতেও চাইবে বলে মনে করেন তিনি। তবে ঢাকার কূটনীতিকেরা মনে করছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা, রাশিয়ার ওপর আমেরিকার বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বাণিজ্য-সংকট, বৈশ্বিক খাদ্য, জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ সংকট এবং চীনের দুই উদ্যোগ গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ ও গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ নিয়েও ওয়াং ই কথা বলতে চাইবেন। তারা জানান, চীন থেকে বাংলাদেশে শিল্প-কারখানাগুলোর কাঁচামালের সরবরাহ ঠিক রাখা এবং চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নির্ঝঞ্ঝাট বাস্তবায়নও বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।

ইউডি/সুপ্ত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading